Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৫-২০১৬

অর্থ পেলেও নাম পাননি বাংলার ‘মাদাম তুসো’

দেবযানী সরকার


অর্থ পেলেও নাম পাননি বাংলার ‘মাদাম তুসো’

কলকাতা, ২৫ জুন- বাংলার নিজস্ব মাদাম তুসোর কারিগর তিনি৷ তাঁর সৌজন্যেই গান্ধীজি থেকে অমিতাভ বচ্চন, মাদার টেরিজার মোমের মুর্তি রাজ্যের তৈরি ওয়াক্স মিউজিয়ামের শোভা বাড়িয়েছে৷ বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে শিল্লী সুশান্ত রায়ের মোমের জাদুঘর এবার পা রাখতে চলেছে গোয়া ও রাজস্থানে৷

মোমের মুর্তি ও মাদাম তুসো শব্দদুটি সমার্থক৷ ঠিক তেমনই বাংলার মাটিতে শিল্পী সুশান্ত রায়ের মোম শিল্প৷  আশির দশকে যখন ইণ্ডিয়ান আর্ট কলেজ থেকে মডেলিং এন্ড স্কাল্পচারে ডিগ্রি নিয়েছিলেন তখন স্বপ্নেও ভাবেন নি যে একদিন তিনি মোমের মূর্তি গড়বেন।

শুরুটা হয়েছিল বাঁশ দিয়ে৷ দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাঁশ দিয়ে গড়েছিলেন সরস্বতীর মূর্তি। কখনও পুঁতি আবার কখনও মোম দিয়ে বিভিন্ন দেবদেবীর  মূর্তিও গড়েছেন একসময়। পরে ব্রোঞ্চের বিভিন্ন পুতুল তৈরি করতেন৷ ২০০১ সালে প্রথম মোমের কাজ করার কথা ভাবেন বিগ বি-র সৌজন্যে। ২০০২ অমিতাভ বচ্চনের মোমের মূর্তি বানান সুশান্ত রায়৷  বিগ বির ৬০ তম জন্মদিনে মুম্বই গিয়ে খোদ ‘বার্থ ডে বয়’-এর হাতে তুলে দিয়েছিলেন সেই মূর্তি৷ ওইদিন অভিষেক-করিশ্মার বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় একটু আপসেট ছিলেন অমিতাভ৷ তাই আর কথা হয়নি৷ সেকথা নিজেই জানালেন সুশান্ত৷  এরপর ২০০৩ সালে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর মুর্তি গড়েন তিনি৷


তারপর একে একে শচীন তেন্ডুলকার, কপিল দেব, রোনাল্ডো, মারাদোনা, করুণানিধির মোম মূর্তি করেছেন। ততদিনে মোম শিল্পী হিসেবে সুশান্ত রায়ের নাম ছড়িয়েছে৷  বিভিন্ন ফ্যান ক্লাবের দৌলতে জুটতে থাকে একটার পর একটা বরাত। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয় বরাত আসতে থাকে রাজ্যের বাইরের থেকেও। সেই থেকে উত্তমকুমার, কিশোরকুমার, মান্না দে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তী, লতা মঙ্গেশকরের মূর্তি নিখুঁতভাবে তৈরি করেছেন তিনি। এমনকি ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে মোমের মূর্তি দিয়ে এসেছেন শিল্পী।

২০১৪ সালে রাজারহাট ফিন্যানসিয়ালি হাবে তৈরি হয়েছে মাদার্স ওয়াক্স মিউজিয়াম। সেখানে তাঁর তৈরি ২৫টি মোমের প্রতিমূর্তি রয়েছে৷ এবার সেই তালিকায় সংযোজন হতে চলেছে বিদ্যাসাগর ও সত্যজিৎ রায়৷

তবে কয়েকদিনের মধ্যেই সুশান্ত বাবুর  সৃষ্টি রাজ্যের বাইরে ডালপালা মেলতে চলেছে৷ তাঁর শিল্পকলায় সাজতে চলেছে রাজস্থান ও গোয়ার মোমের জাদুঘর৷ আগামী মাসেই রাজস্থানে সেই জাদুঘরের উদ্বোধন হবে৷


আসানসোলে নিজের বাড়িতে একের পর এক মোমের মুর্তি গড়ে তোলেন এই ষাটোর্ধ শিল্পী৷ তাঁকে সাহায্য করেন পাঁচ ছাত্র৷ তাঁরা প্রত্যেকেই স্কাল্পচারের স্টুডেন্ট৷ বাড়ি কাম ওয়ার্কশপেই একটা ছোটখাটো মোমের জাদুঘর বানিয়ে ফেলেছেন এই শিল্পী৷ সেখানে সদ্য জায়গা পেয়েছে নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর মায়ের মোমের মুর্তি৷ সুশান্তবাবুর স্বপ্ন নিজের শহর আসানসোলে একটা মাদাম তুসো মোম জাদুঘর গড়ে তুলতে৷ প্রতিনিয়ত সেই চেষ্টাই করে চলেছেন৷ খুঁজে চলেছেন যোগ্য উত্তরসূরীকে৷ বললেন, মোমের কাজ খুবই নিখুঁত করতে হয়৷ এইকাজ কাউকে ধরে বেঁধে শেখানো যায়না৷ তবুও আমি চেষ্টা করছি৷ নাতিদের নিজে হাতে শেখাবো ভাবছি৷

এতকিছুর পরও সুশান্তবাবুর আক্ষেপ শুধুমাত্র একজায়গায়৷ বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাঁকে উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিলেও প্রচারের আলো তাঁর দিকে আসতে দেয়নি৷ অভিমানের সুরে তিনি বললেন, রাজারহাটে ওয়াক্স মিউজিয়ামে কোথাও আমার নাম নেই৷ মানুষ জানতে পারে না এই মুর্তি কে বানিয়েছেন৷ একজন শিল্পীর কাছে টাকাটাই সব নয়৷ বললেন, আমি অনেকবার ওনাদের এই বিষয়টা বলেছি৷ কিন্তু সরকার কোনও গুরুত্ব দেয়নি৷ আমি জানিনা  শিল্পীর নাম দিলে কোনও সমস্যা হয় কিনা?

তাঁর আক্ষেপে যেন লেগে থাকে মোমের আবেগ৷ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে থাকেন মোম শিল্পী সুশান্ত রায়৷

আর/১০:৫৪/২৪ জুন

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে