Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৫-২০১৬

রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের শেষে উল্লাসে মাতল কলম্বিয়া

প্রসেনজিৎ চৌধুরী


রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের শেষে উল্লাসে মাতল কলম্বিয়া

বোগোটা, ২৫ জুন- শতবর্ষে পা-রাখা কোপা আমেরিকা জয় এখন অধরা৷ চিলির কাছে হেরে বিষাদ নেমেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায়৷ তবুও ফুটবল-পাগল দেশটির রাজধানী বোগোটা শহরে উল্লাস৷ রাস্তায় রাস্তায় ফুটছে বাজি৷ ড্রাম বাজিয়ে চলছে রঙিন মিছিল৷ মুহূর্তে খালি হয়ে যাচ্ছে তেকুইলার বোতল৷

এবার নিশ্চিন্ত৷ টানা ৫০ বছর ধরে চলা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের অবসান হতে চলেছে৷ এই সময়ের মধ্যে লাখো মানুষের মৃত্যু হয়েছে কলম্বিয়ায়৷ সেই ভয়াবহ সময়ের একেবারে শেষপর্ব চলে এল৷  কলম্বিয়া সরকার ও দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া এফএআরসি বা ফার্ক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে৷  ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মুহূর্তের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল৷

১৯৬২  সালে চিন যখন তার আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ভারতের সীমান্ত পার হয়েছিল৷ তার কিছু দিন পরেই দুনিয়ার অন্যপ্রান্ত কলম্বিয়ায় মাওপন্থী কমিউনিস্টদের সামরিক শাখা ফার্কের প্রতিষ্ঠা হয়৷  কিউবার আদর্শে স্থানীয় কৃষকরা আগেই বাধ্য হয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন৷ কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো সেখানেও তাঁদের সেই লড়াই মাওবাদী ইন্ধনে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়৷তার পর থেকেই শুরু হয়েছিল নতুন করে কলম্বিয়ার রক্তাক্ত ইতিহাসের পটভূমি৷ মাওবাদী সন্ত্রাসের যা পরিণতি দাঁড়ায় কলম্বিয়াতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি৷ গুমখুন, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায় ফার্কের নাম৷


শুধু তাই নয়, কলম্বিয়ার কুখ্যাত ড্রাগ মাফিয়াদের সঙ্গেও তারা হাত মেলায়৷ ফার্কের তথাকথিত ‘মুক্তাঞ্চলে’ মাদক চাষের জন্য কলম্বিয়ার মাফিয়ারা টাকাপয়সা দিত৷ তাছাড়া সেই মাদকের বিনিময়ে অস্ত্রশস্ত্রও পেত ফার্ক৷ এভাবেই এই সংগঠনটি এক সময় সরকারের প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়ায়৷ টানা পাঁচ দশকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে টানা লড়াই চালিয়েছে ফার্ক৷ দুপক্ষের লড়াই বহুবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে৷ শেষ পর্যন্ত একটা সময়ে ফার্ক এবং ড্রাগ মাফিয়ার উভয়ের বিরুদ্ধেই খোলাখুলি যুদ্ধ ঘোষণা করতে কলম্বিয়ার সরকারকে৷ সব মিলিয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই এই দেশে অন্তত দু লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷ বেসরকারি হিসেবে তো  আরও বেশি৷


রক্তাক্ত কলম্বিয়া৷ এই ছিল দেশটির অন্যতম পরিচয়৷ কখনও দেশের বিশ্বকাপার ফুটবলার আন্দ্রে এসকোবারকে গুলি করে খুন করা হয়েছে৷ আবার তার আগেই ড্রাগলর্ড হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে পাবলো এসকোবারের নাম৷ অন্যদিকে গভীর জঙ্গলে সরাসরি গুলির লড়াই চলেছে সেনাবাহিনী বনাম ফার্ক গেরিলাদের৷ একাধারে ড্রাগ চালান, মাফিয়া রাজ, ফার্ক ও ফুটবল শব্দগুলি দেশটির সমাজজীবনে জড়িয়ে গিয়েছে৷ এসব নিয়েই গত পাঁচটি দশক পার করেছে কলম্বিয়া৷ এবার মুক্তির পালা৷


হাভানায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠক

কিউবার রাজধানী হাভানা থেকে ছড়িয়েছে সেই মুক্তির খবর৷ সেখানে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল স্যান্টোস ও বিদ্রোহী ফার্ক গোষ্ঠীর নেতৃত্ব৷ সেখানেই মিলেছে গৃহযুদ্ধের অবসান সূত্র৷ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার৷ ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় যা হয়নি, হাভানা সেটা করিয়ে ছেড়েছে৷ সৌজন্যে ওয়াশিংটন-হাভানার সাম্প্রতিক দোস্তি৷ শর্তানুযায়ী আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ফার্ক তার সব অস্ত্রভাণ্ডার সরকারের হাতে তুলে দেবে৷ রাষ্ট্রসংঘের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে এই গোটা প্রক্রিয়াটি চলবে৷

হাভানা থেকে শান্তিপ্রক্রিয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মাতোয়ারা কলম্বিয়া৷ নিশ্চিন্তির দিন ফিরছে এবার৷ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মুখিয়ে রয়েছেন সেই বিশেষ দিনটির জন্য, যেদিন দুপক্ষ শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবে৷ এ যেন কোপা চ্যাম্পিয়নশিপের মর্যাদার থেকেও বেশি আনন্দের৷

দক্ষিণ আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে