Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-২৫-২০১৬

‘নদী দখলে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা যুুক্ত’

‘নদী দখলে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা যুুক্ত’

ঢাকা, ২৫ জুন- বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, “নদী দখলের সাথে যুক্ত ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো নদীর পাড়ে স্থাপনা গড়ে তুলছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রাজধানী ঢাকার উন্নয়নতো নয়ই, একে রক্ষাও করতে পারবে না, যদি বুড়িগঙ্গা ধ্বংস হয়ে যায়।”

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপারের যৌথ উদ্যোগে  ‘বুড়িগঙ্গায় চলমান দখল ও পুনঃখননের সরকারী প্রকল্প’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বুড়িগঙ্গা ও আশপাশের উপনদীগুলো রক্ষার জন্য ‘বুড়িগঙ্গা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা প্রয়োজন। তাদের কাজ হবে নিয়মিত মনিটরিং, নদীর কতটা দখল হলো, আর কতটা দখলমুক্ত হলো এ বিষয়ে মাসিক প্রতিবেদন পেশ করা।

বুড়িগঙ্গার প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য মন্ত্রী পরিষদের একটি সভা নদীতে নৌকার মধ্যে আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।

বাপা’র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার ও বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল। সঞ্চালনা করেন বাপা’র বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শাহজাহান মৃধা ও বাপা’র জাতীয় পরিষদ সদস্য কেএম নুরুল হুদা।

শরীফ জামিল তার মূল বক্তব্যে, চলমান ভরাট-দখলে বিপর্যস্ত বর্তমান বুড়িগঙ্গার সার্বিক দুর্দশার চিত্র ও নদী রক্ষায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পাশাপাশি সম্প্রতি সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত এক হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা নদী ব্যবস্থা পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য ফলাফল তুলে ধরেন।

জামিল বলেন, বুড়িগঙ্গা আজ অব্যাহতভাবে দখলদারদের কবলে। দিনের পর দিন দখল বেড়েই চলছে। অথচ বারবার জনসম্মুখে দখলের চিত্র তুলে ধরার পরও কোনো একটি বড় দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পূনঃখননের প্রকল্প কতটা নদী রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ আর কতটা চলমান দখলদারদের সহায়তাকারী সরকারি দুর্নীতি পরায়ন অংশের প্রকল্প বাণিজ্য হবে। তা আমাদের কাছে পশ্নবিদ্ধ। আগে দখল এবং পরে পুনঃখননের মাধ্যমে নদী পুনরুদ্ধার, না নদীকে খাল বানিয়ে দখলদারদের বৈধতা প্রদান করা হবে তাও আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে ভুল সীমানা পিলার সংশোধন না করে ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকার চারপাশে বহু জায়গায় নদী স্থায়ীভাবে তার সীমানা হারানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দখলদাররা দৃশ্যত বৈধতা পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দখল-উচ্ছেদ ও পুনঃরুদ্ধারের নামে হঠাৎ হঠাৎ চলে কর্তৃপক্ষের প্রহসন। এতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ অসচেতন দুর্বল মানুষদের ব্যাপক হয়রানী করা হয়।

কিন্তু বড় বড় দখলদার পাশে থাকলেও তাদের কিছু হয় না বলেও মন্তব্য করেন জামিল।

মূল বক্তব্যে আরো বলা হয়, অধিকাংশ উচ্ছেদ অভিযানে থাকে না কোনো সমন্বিত  পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি। ফলে দখলমুক্ত করনের নামে ভাঙ্গা ভবন কিংবা ভরাটকৃত মাটি ও বালু আবারও নদীতে ফেলে দিয়ে নদীর বেশি ক্ষতি করা হয়।

তিনি দাবি করেন, বুড়িগঙ্গা থেকে চলমান সব দখল ও ভরাট বন্ধ করতে হবে এবং নদীর সীমানা যথাযথভাবে চিহ্নিত করে ব্যতিক্রমহীনভাবে স্থাপনা উচ্ছেদ করে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মোঃ শাহজাহান মৃধা বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ সময় ধরে বুড়িগঙ্গা রক্ষায় ধারাবাহিক আন্দোলন করেও আমরা ব্যর্থ। সরকারের আন্তরিকতার অভাবে অনেক কমিটি বা উচ্চ পর্যায়ের অনেক সিদ্ধান্তের পরও কার্যকর কোনো কিছুই হচ্ছে না।

তিনি মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আপনারা আরো সক্রিয় হোন। আপনারাই বুড়িগঙ্গা রক্ষার আন্দোলনকে বেগবান করুন, আমরা আপনার সাথে থাকবো।

কে এম নুরুল হুদা বলেন, বুড়িগঙ্গা না বাঁচলে ঢাকা বাঁচবে না। ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তাই আর বিলম্ব না  করে অতি দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ৬ দফা দাবী উত্থাপন করা হয়-
১) অবিলম্বে বুড়িগঙ্গায় চলমান সকল দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকার গৃহীত সাম্প্রতিক প্রকল্পের গ্রহন যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।; 

২)এই প্রকল্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল পর্যায়ে নদী সংশ্লিষ্ট মানুষ ও পরিবেশ সংবেদনশীল সংগঠনসমূহকে যুক্ত করতে হবে।; 

৩) অবিলম্বে আদালতের রায় অনুযায়ী  নদীর সীমানা যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে হবে।; 

৪) যথাযথভাবে নদীর সীমানা চিহ্নিত না করে ওয়াক-ওয়ে অথবা গাইড-ওয়াল নির্মাণের  মাধ্যমে নদীকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস ও দখলদারকে বৈধতা প্রদান বন্ধ করতে হবে।; 

৫) ধলেশ্বরী থেকে লালবাগ লোহারপূল পর্যন্ত সম্পূর্ণ আদি বুড়িগঙ্গা পুনঃরুদ্ধার করতে হবে।; 

৬) দখলদার ও দখলে সহায়তা প্রদানকারী সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আর/১০:৫৪/২৪ জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে