Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.2/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৩-২০১৬

বাঙলার জয়ে, আওয়ামীলীগের জয়

কেয়া চৌধুরী


বাঙলার জয়ে, আওয়ামীলীগের জয়

আজ ২৩শে জুন, মুক্তিযুদ্ধ নেতৃত্বাদানকারী দল আওয়ামীলীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। উপ-মহাদেশেরও রাজনীতিতে গত ৬ দশকের বেশি সময় ধরে অবিভাজ্য  ও অবিচ্ছেদ্য- স্বত্ত্বা হিসাবে নিজেকে অপরিহায্যতা প্রমান করেছে; গণন্ত্রানিকভাবে জন্ম নেয়া এ প্রাচীন তম দল বাংলাদেশ ‘আওয়ামীলীগ’।‘আওয়ামীলীগ’ মানেই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের মূলধারা। অনেক সংগ্রামী, দেশপ্রেমিক, মানুষের প্রতিচ্ছবি। বাংলার সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের  আকাঙ্খার ভরসার স্থল।

আর এই ভরসা জায়গাটি এক দিনে অর্জিত হয়নি। এদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামীলীগের প্রত্যুজ্জল ইতহাস রয়েছে। ৪৭-এর দেশবিভাগ, ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৬২র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬র ৬দফা, ৬৯-এর গণ অভ্যূন্তান, ৭০-এর যুগান্তকারী নির্বাচন আর ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা আন্দোলন, সব খানেই সরব নেতৃত্বে ছিল আওয়ামীলীগ।

১৯৪৯ সালে ২৩শে জুন রোজ গার্ডেনের আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছিল। সেই থেকে দলটি তার স্বাধীন স্বকীয়তা ধরে রেখে এ উপমহাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘উজ্জল বাতিঘর’ হয়ে আলো ছাড়াচ্ছে।
 
‘বাংলাদেশ-বঙ্গবন্ধু-আওয়ামীলীগ’ ইতিহাসে এই ৩টি নাম অমিল-অবিনশ্বর। আর এর মাধ্যমেই জাতির অর্জিত সমৃদ্ধি আর সব্ভবনা দিনগুলোর এসেছে;  এই তিনের সমন্ময়ে। 
ঐতিয্যবাহী এই দলের নেতৃত্বে অনেক নেতাই এসেছেন। কিন্তু গণ মানুষের ভাব-ভাবনার ধারক হিসাবে আওয়ামীলীগ কে গড়ে তুলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- যার-সুস্পষ্ট প্রকাশ পাওয়া যায়, তার লিখা  ‘অসমাপ্ত আত্নজীবনীতে’

‘মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠান পূর্বে ছিল খান সাহেব, খান বাহাদুর ও ব্রিটিশ খেতাবধারীদের হাতে, আর এদের সাথে ছিল জমিদার, জোতদার শ্রেণীর লোকেরা। যারা কোনোদিন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করতে পারতনা। শহীদ সাহেব ও হাশিম সাহেব যদি আমাদের নিয়ে  বাংলার যুবক ও ছাত্রদের  মুসলিম লগীকে  জনপ্রিয় না করতে পারতেন। বুদ্ধিজীবী শ্রেণীকে টেনে  আনতে না পারতেন, কোনো দিনও আমরা পাকিস্তান  আন্দোলন বাংলার কৃষকদের মধ্যে  ‘জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারতাম না’। একটি অভিজাত শ্রেণী থেকে, শেখ মুজিব আওয়ামীলীগ কে নিয়ে গেলেন। বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে। সাধারণ মানুষের আশা-আকাংক্খা পূরণ করাই আওয়ামীলীগের লক্ষ নির্ধারন করলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, ভাষার অধিকার আর স্বাধীনতার মুক্তির মধ্যে দিয়েই- বাঙ্গালির প্রকৃত মুক্তি অর্জন সম্ভব। পৃথিবীতে এমন রাজনৈতিক দল সত্যিই বিরল। যে নেতার হাতে গড়া ত্যাগ ও আত্নোৎসর্গের আদর্শের, বালিয়ান, আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে লাখো বাঙ্গালী হাসতে হাসতে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন; দেশ মাতৃকার জন্য, স্বাধীনতার সংগ্রামে। আওয়ামীলীগ উপ-মহাদেশের প্রাচীন ও বৃহৎ ঐতিয্যবাহী রাজনৈতিক দল। এ কারণে স্বাভাবিক ভাবেই এর নীতি-আদর্শ সাফল্য  ব্যর্থতার-হিসাব মেলায় দেশের সাধারণ মানুষ। আর এমটাই হওয়াই স্বাভাবিক। আওয়ামীলীগের একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে আমি গর্ববোধ করি এই ভেবে, আমাদের আদর্শিক দল, দিন, ক্ষন, মাস বা বছরে গণনায় শুধু প্রাচীনতম নয়। বিরল অর্জনে উন্নয়নের সমৃদ্ধিতে আওয়ামীলীগ ইতিহাসবিদিত। এর আছে ইতিহাস, এর আছে র্দীঘ ঐতিয্য। আর বঙ্গবন্ধুর ভাষায় বলতে বলি,  ‘বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বিশ্বাস করে, শক্তির উৎসই হলো জনগণ’। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানোই আমাদের লক্ষ। বঙ্গবন্ধু কন্যা ৭৫ পরবর্তী কালো অধ্যায়কে পিছনে ফেলে, আওয়ামীলীগকে আবারো তার নিজস্ব গতিতে চলার শক্তি সঞ্চয় করেছেন। প্রতিকূল রাজনীতিতে  ঠিকে থেকে, তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা, সামরিক স্বৈরাচারী শাসক থেকে গণতন্ত্রের  উত্তোরণের প্রতিটি অর্জনের সংগ্রামের লড়াইয়ে নেতৃত্বদান কারী একমাত্র রাজনৈতিক দল; বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগের বিকল্প শুধুই আওয়ামীলীগ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের আশার ‘বাতিঘর’ বঙ্গবন্ধুকে ৭৫রে ১৫ই আগষ্ট স-পরিবারে হত্যার পর জাতির আশার  আলো নিবে গিয়েছিল। র্দীঘ ৩৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন নেতৃত্ব, মুত্যৃ ভয়কে ছিন্ন করে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা অবশেষে, অ-সাম্পাদয়িক ও গণতান্ত্রিক ভাব ধারার আস্হার প্রতীকে পর্রিণত হয়েছেন। তার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আজ, কোটি মানুষের প্রাণের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এই সফলতা শেখ হাসিনার, আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীর। জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ২৩শে জুন সরকার গঠন করে, ২১ বছরের র্দীঘ সংগ্রামের মধ্যেদিয়ে, বাংলার জমিনে, সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু স্বড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। ২১শে আগষ্টের ভয়াল গ্রেনেট হামলার মতোই ১৯ বার আক্রমন করে, বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহ্ন ও নেতৃত্বশূন্য করবার জন্য বিএনপি-জামায়াত অপচেষ্টা অবাহত ছিল, এখন ও আছে। কিন্তু গণ-মানুষের দল আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আওয়ামীলীগের আদর্শকে জীবন দিয়ে রক্ষা করেছেন। সাধারণ মানুষের এই ত্যাগ বৃথা যায়নি, জনগণের সমর্থনে বঙ্গবন্ধু কন্যা উন্নয়নের সুপানে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। মানব সম্পদ উন্নয়নের মধ্যদিয়ে, একটি উন্নত জাতির গঠনে আওয়ামীলীগ সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের অর্থনীতি আজ মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের মানুষের দৃঢ়তা সাহসী পদক্ষেপের সমন্বেয়ে সমৃদ্ধির ও উন্নয়নের পথে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন এক বাংলাদেশ। ৮০ দশকে যে দেশ ক্ষুধা মঙ্গা জলোচ্ছাসের দূর্ভিক্ষে আক্রান্ত-ভিক্ষুকের এক দেশছিল, বঙ্গবন্ধুর কন্যার দৃঢ় সংকল্প বাংলাদেশকে আজ মধ্যমায়ের দেশে পরিনত করা দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিচু আয় বর্তমানে ১৪৬৬ ডলার। বিদেশি মুদ্রার মজুদ ২৯শ কোটি ডলার। দেশের দারিদ্রের হার ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২.৪ শতাংশ। ৭৫ শতাংশ মানুষের কাছে শেখ হাসিনা সরকার আজ বিদ্যুৎ পৌছে দিয়েছেন। স্বপ্নের অবকাঠোমো প্রকল্প পদ্মা সেতু ৩৬০ কোটি ডলার ব্যয়ে নিজস্ব সম্পদে নির্মিত হচ্ছে। সারাদেশ জুড়ে ১০০টি বিশেষ অর্থনীতি জোন স্থাপিত হতে যাচ্ছে। যে খানে ১কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের স্বাক্ষরতার হার এখন ৬১ শতাংশ। প্রাথমিক থেকে শুরু করে স্নাতোকোত্তর পর্যায়ে ১ কোটি ৭২ লাখ শিক্ষার্থী বিভিন্ন বৃত্তি কার্র্য ক্রমের আওতায় রয়েছে।  শেখ হাসিনা সরকার বছরের ১লা দিন, সকল শিশুর হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন দেশে ১২ই অক্টোবর ১৯৭২ সালে, মহান সংসদে দাঁড়িয়ে বুক ভরা আশা নিয়ে বলেছিলেন, ‘আদর্শ নিয়ে বাংলার নতুন সমাজ গড়ে উঠবে। সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। সোনার মানুষ ছাড়া সোনার বাংলা গড়ে তুলা সম্ভব নয়’। বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে  মাতা উচু করে দাঁড়াবার জন্য, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা উন্নয়নের পাশাপাশি, ৩০ লক্ষ শহীদের ঝণ পরিশোধের জন্য, বাঙালী প্রাণের দাবী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য্য অব্যহত রেখেছেন। দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে, লাল-সবুজ নিশান ধরে রেখেছেন। আজ আমরা বিজয়ী জাতির উত্তসূরী প্রজন্ম। বুক ফুলিয়ে কথা বলতে পারি, অহংকার করতে পারি, স্বদেশ প্রেমে গর্ববোধ করতে পারি। তরুনের দেশ আজকের বাংলাদেশ। মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশের বয়স ২৪‘র নিচে। যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি মহেন্দ্রক্ষন। বহুযুগ পরে এমন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন হয়েছে আমাদের। শেখ হাসিনা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তরুণ প্রজন্মে আজ বাংলাদেশ-কে বিশ্ব দরবারে প্রতিনিধিত্ব করছে। বাংলাদেশের পতাকাকে তুলে ধরছে বিশ্ব আকাঁশে। সময় এসেছে, দেশ গড়বার। সঠিক নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। সোনার বাংলার অভিষ্ট লক্ষে ‘জয়বাংল’ আজ শুধু আওয়ামীলীগের স্লোগান নয়। বাংলার জয়ই-জয়বাংলার…জয় ।

‘জয়বাংলা’ গণমানুষের স্লোগান। আওয়ামীলীগ গণমানুষের আকাংক্খা পূরণের মধ্যদিয়ে ‘জয়বাংলা’র বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নপূরণে; একটি সুখী-সমৃদ্ধ নিরাপদ ‘সোনার বাংলা’ গড়তে; বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কান্ডারী জননেত্রী শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর। 

আসুন, বিজয় নিশান হাতে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে গড়ার প্রত্যয় নিয়ে, হাতে-হাত ধরে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই, ভবিষতের সোনালী দিনগুলোতে।

জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে