Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৩-২০১৬

বিএনপি নেতা কাইয়ুমসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত

বিএনপি নেতা কাইয়ুমসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত

ঢাকা, ২৩ জুন- ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এম এ কাইয়ুম, তাঁর ভাই আবদুল মতিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। আগামী সপ্তাহে আদালতে এই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, এই হত্যা মামলায় অপর যে চারজনকে অভিযোগপত্রভুক্ত করা হচ্ছে তাঁরা হলেন তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল আরেফিন ওরফে ভাগনে রাসেল ও শাখাওয়াত হোসেন। তামজিদ, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল ও শাখাওয়াত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই চারজন ও মতিন কারাগারে আছেন। কাইয়ুম পলাতক।

সূত্র বলেছে, আদালতে রাসেল চৌধুরী ও মিনহাজুলের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে মতিনের নাম এসেছে। মতিন রিমান্ডে ডিবির কাছে তাবেলা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হননি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল একজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে দেশে-বিদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই পরিকল্পনা করা হয় বলে ডিবির কাছে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। মতিনের নির্দেশে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর শাখাওয়াতের মোটরসাইকেল নিয়ে মিনহাজুল, তামজিদ, রাসেল চৌধুরী গুলশান ২-এর ৯০ নম্বর সড়কে যান। ওই সড়কের গভর্নর হাউসের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে ফুটপাতে নিরিবিলি ও অন্ধকার স্থানে তামজিদ গুলি করে সিজার তাবেলাকে (৫১) হত্যা করেন। এতে তাঁকে সহায়তা করেন রাসেল চৌধুরী ও মিনহাজুল। মোটরসাইকেলটি চালিয়েছিলেন মিনহাজুল। ওই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

তাবেলা হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেছিলেন, দুই তরুণ তাবেলাকে গুলি করে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষমাণ ব্যক্তির পেছনে উঠে পালিয়ে যান। তাবেলা নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক আইসিসিও কো-অপারেশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রুফ (প্রফিটেবল অপরচুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ছিলেন।

মামলার তদন্ত-তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম গত মঙ্গলবার বলেন, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে সিজার তাবেলাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। কাইয়ুম পরিকল্পনা করলেও তা বাস্তবায়ন করেন তাঁর ছোট ভাই আবদুল মতিন। মতিন খুনি ভাড়া করে তাবেলাকে হত্যা করিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ভাঙারি সোহেলের কাছ থেকে পিস্তল ভাড়া নিয়ে খুনিরা তাবেলাকে হত্যা করেন। মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় ও পিস্তলটি উদ্ধার না হওয়ায় ভাঙারি সোহেলকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ডিবি বলেছিল, হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার না হওয়ায় অভিযোগপত্র দিতে দেরি হচ্ছে। পিস্তল না পেলেও এখন অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে কেন—এ প্রশ্নের জবাবে শেখ নাজমুল আলম বলেন, ভাঙারি সোহেল পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর পিস্তলটি উদ্ধার করা যায়নি। তবে পিস্তলটি না পেলেও এতে মামলার বিচারকাজে কোনো সমস্যা হবে না। প্রমাণ হিসেবে অভিযোগপত্রের সঙ্গে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংযুক্ত করা হবে।

অবশ্য গ্রেপ্তার হওয়া মতিন, তামজিদ, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল ও শাখাওয়াতের স্বজনেরা শুরু থেকেই দাবি করছেন, ওই পাঁচজন তাবেলা হত্যায় জড়িত নন। ডিবি ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে। আর ভাঙারি সোহেলের ভাই পারভেজ আহম্মেদ বলেন, তাঁর ভাইয়ের নাম সোহেল আহম্মেদ। তিনি পুরোনো ভবন কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। গত বছরের ১৬ অক্টোবর ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মধ্য বাড্ডার ব্যাপারীপাড়ার বাসার কাছ থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। এ ঘটনায় ডিবির কথা উল্লেখ করে বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে থানা তা নেয়নি। পরে থানায় নিখোঁজসংক্রান্ত জিডি করা হয়।

পারভেজ অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইকে হত্যার পর হয়তো গুম করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার পাঁচজনের স্বজনদের দাবি, ওই পাঁচজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

তাবেলা হত্যার পর সিরিয়া ও ইরাকভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়। পরে আইএসের নিজস্ব সাময়িকী দাবিক-এর নভেম্বর সংখ্যায় একটি নিবন্ধে দাবি করা হয়, আইএসের একটি ‘সিকিউরিটি সেল’ ঢাকায় সিজার তাবেলাকে চিহ্নিত করে হত্যা করেছে। এর পাঁচ দিন পর আইএসের সদস্যরা আঘাত হানেন রংপুরে, যেখানে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে হত্যা করা হয়।

তবে সরকার শুরু থেকেই আইএসের এসব দাবি নাকচ করছে। বিভিন্ন সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাপানি নাগরিক হত্যাসহ অন্য সব ঘটনায় দেশীয় জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) জড়িত।

এ আর/ ০৭:৫৮/ ২৩জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে