Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-২৩-২০১৬

প্রতিদিন জরিমানার পরও ট্যানারি স্থানান্তর হয়নি 

নাসির উদ্দিন চৌধুরী


প্রতিদিন জরিমানার পরও ট্যানারি স্থানান্তর হয়নি 

ঢাকা, ২৩ জুন- রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তর না করলে প্রতিদিন জরিমানার নির্দেশের পরও কোনো ট্যানারি স্থানান্তর হয়নি।
 
গত ১৬ জুন উচ্চ আদালত সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত ১৫৪ ট্যানারিকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন।
 
আজ বুধবার সরেজমিন গিয়ে হাজারীবাগের অধিকাংশ ট্যানারি কারখানায় শ্রমিকদের কাঁচা চামড়া পরিশোধনের কাজ করতে দেখা গেছে। ট্যানারি হস্তান্তরের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
 
ট্যানারি স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে মালিকরা বলছেন, জরিমানা গুনতে হলেও তাদের কিছুই করার নেই। এ বছরের মধ্যেও ট্যানারি স্থানান্তর শেষ করা যাবে না। ট্যানারি সরিয়ে নিয়ে নতুন করে কারখানা তৈরি করতে সময় লাগবে। এর সঙ্গে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যাপার রয়েছে। সরকার যে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, তা দিয়ে কারখানা স্থানান্তর সম্ভব নয়।
 
তারা আরো জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও মালিকদের খরচ হবে ৩ কোটি টাকার বেশি। এ অবস্থায় তারা সহজ শর্তে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে সাড়া মিলছে না। সব মিলিয়ে ট্যানারিগুলো সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে সরে যেতে চলতি বছর লাগবে।
 
এদিকে, হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ঘনমিটার বিষাক্ত বর্জ্য বুড়িগঙ্গার পানির সঙ্গে মিশে যায়। এতে একদিকে যেমন দূষিত হচ্ছে পানি, তেমনি অন্যদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
 
এ ছাড়া এলাকার খোলা ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং চামড়াজাত বর্জ্যের উচ্ছিষ্টাংশ খোলা মাঠে রোদে শুকানো পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষাক্ত গন্ধে এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ক্ষতিকর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
 
হাজারীবাগে দীর্ঘ দিন বসবাস করেন জালাল উদ্দিন। তিনি জানান, এই এলাকার ট্যানারি বর্জ্যের কারণে মানুষজন কষ্টে জীবন-যাপন করছে। সরকার ট্যানারি স্থানান্তরের বিষয়ে উদ্যোগ নিলেও এটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। পত্রিকার পাতা ভরে লেখা আসে, টেলিভিশনে প্রতিবেদন দেখায়, কিন্তু তারা এর থেকে নিস্তার পান না।
 
পরিবেশ অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, হাজারীবাগের ট্যানারির যে বর্জ্য প্রতিদিন পানি ও পরিবেশ দূষণ করে, তন্মধ্যে ক্ষতিকর সালফার, ক্রোমিয়াম, অ্যামোনিয়াসহ প্রায় ৬৫ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
 
হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
 
দীর্ঘদিন ধরে ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় অন্য এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন ফের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরবর্তীকালে সরকারপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।
 
কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও স্থানান্তরিত না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা করেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশর’ পক্ষ থেকে মনজিল মোরসেদ। এ মামলার প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পরে গত বছরের ২১ এপ্রিল আদালতের তলবে হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন শিল্প সচিব। এরপরও ওই ১০টি প্রতিষ্ঠান হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ফের আদালত অবমাননার অভিযোগে আরও একটি আবেদন করেন মনজিল মোরসেদ।
 
এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১১ আগস্ট ১০ কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এ রুলের পর ১০ মালিককে তলব করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে গত ২১ মার্চ আবেদন করেন মনজিল মোরসেদ। গত ২৩ মার্চ এ আবেদনের শুনানি শেষে ব্যাখ্যা দিতে ১০ মালিককে ১০ এপ্রিল তলব করেন আদালত।
 
গত ১০ এপ্রিল হাজিরা দিতে আসার পর ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তিন মালিককে কোর্ট তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে পুলিশে সোপর্দ করার আদেশ দেন হাইকোর্ট। পরে কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক তাদের কোর্ট পুলিশের কাছে রাখেন।
 
বিকেলে তাদের আইনজীবী ফিদা এম কামাল সময়ের আবেদন ও তাদের পক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরদিন দুপুর একটার মধ্যে ট্যানারি সরানোর বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবেন, এ শর্তে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে জানান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
 
পরদিন তাদের আইনজীবী ফিদা এম কামালের মাধ্যমে হলফনামা জমা দেন তিন ট্যানারি মালিক। হলফনামায় তারা তাদের হাজারীবাগের কারখানা বন্ধ রাখাসহ আগামীতে হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি স্থানান্তরের আশ্বাস দেন। পরে তাদের আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে রেহাই দেওয়া হয়। 
 
এরপর গত ১৩ এপ্রিল হাজারীবাগে এখনো যেসব ট্যানারি ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের তালিকা চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। তিন সপ্তাহের মধ্যে শিল্পসচিবকে ওই তালিকা দাখিল করতে বলা হয়। আদালতের এ আদেশ অনুসারে শিল্প সচিবের পক্ষে আইনজীবী রইস উদ্দিন ১৫৫টি ট্যানারির তালিকা হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে মাত্র একটি ট্যানারি স্থানান্তর করেছে।
 
শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট ট্যানারি প্রতিষ্ঠান না সরালে ট্যানারি মালিকদের প্রতিদিন সরকারি কোষাগারে ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
 
আর/০২:০৪/২৩ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে