Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৩-২০১৬

লাভ-লোকসানের হিসাব বাংলাদেশিদের

লাভ-লোকসানের হিসাব বাংলাদেশিদের

লন্ডন, ২৩ জুন- ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়া (ব্রেক্সিট) বা থাকার (রিমেইন) বিষয়টি নির্ধারিত হবে বৃহস্পতিবার। এদিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এ নিয়ে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে প্রচারণা।  

এই গণভোটে প্রচারণায় শামিল বাংলাদেশিরাও। বিশেষ করে চিন্তিত ব্রিটেনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। তাদের মধ্যে চলছে তীব্র বিতর্ক। হিসাব চলছে লোভ-লোকসানের। একটি অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে। অন্যরা থাকার পক্ষে।

বুধবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে ব্রিটেনের গণভোটে বাংলাদেশি এসব ব্যবসায়ীর অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়।  

তাতে বলা হয়, ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন যে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়, দক্ষ কর্মীর অভাবে সেই ব্যবসা এখন সংকটে। কারণ পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয় তখন ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। তাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনা বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে বিপাকে পড়ে রেস্টোরেন্টগুলো।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট এবং ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী “রেস্টুরেন্ট মালিকরা দেখলেন, যেখানে তারা বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনতে পারছেন না, সেখানে ইউরোপ থেকে বিনা বাধায় যে কেউ ব্রিটেনে চলে আসতে পারে, কাজ করতে পারে। এটা তাদের একটা বিরাট ক্ষোভের কারণ। এই ক্ষোভ থেকে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট মালিকরা গণভোটে ইউরোপ ছাড়ার পক্ষে জোরে-শোরে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।”

এনাম আলী আরও বলেন, “রেস্টুরেন্ট মালিকরা মনে করেন যখন ইউরোপ থেকে লোক আসা বন্ধ হয়ে যাবে, তখন নন-ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে কর্মী আনার সুযোগ খুলে যাবে। তারা মনে করছেন বাংলাদেশ থেকে বা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটা সুযোগ তখন তৈরি হবে।”

ব্রিটেন ইইউ ছাড়লে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে কর্মী আনার সুযোগ দেয়ার জন্য রেস্টুরেন্ট মালিকদের সংগঠনগুলো সরকারের সঙ্গে লবিং করছে। কিন্তু এনাম আলী বলছেন, সে রকম সম্ভাবনা নেই। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ডাউনিং স্ট্রিটে তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার ঘোর বিরোধী পোশাক রপ্তানিকারকও অন্য ব্যবসায়ীরা। তাদেরই একজন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মামুন চৌধুরী। তার পূর্ব লন্ডনের কারখানায় যেসব শীতের কোট তৈরি হয়, সেগুলো রফতানি হয় মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।


মামুন চৌধুরী বলেন, “আমার ব্যবসার আশি শতাংশ কাঁচামাল আমি ইউরোপ থেকে আমদানি করি। কোনো রকম ট্যাক্স, ভ্যাট ছাড়া আমি এসব কাঁচামাল আনছি। যখন আমরা ইইউ থেকে বেরিয়ে যাব, তখন আমার ব্যবসার খরচ অনেক বেড়ে যাবে।” তার আরও আশংকা, ব্রিটেন ইইউ ছাড়লে পাউন্ডের বড় দরপতন ঘটবে। সেটাও তার কাঁচামালের আমদানি খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে।

ব্রিটেনের আরেক সফল বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদের আশংকাও তাই। তার কোম্পানি ইবকো বাংলাদেশ সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে মাছ এবং কাঁচা শাকসব্জি আমদানি করে। এরপর সেগুলো আবার ব্রিটেন থেকে রফতানি করা হয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে।

তিনি বলেন, "আমাদের ব্যবসার বড় অংশ ইউরোপের সঙ্গে। ব্রিটেন ইউরোপ ছাড়লে সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্যে গণভোটে আমরা ইউরোপে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছি।"
 
আর/১০:৪৪/২২ জুন

যুক্তরাজ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে