Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২২-২০১৬

হামলায় সরাসরি অংশ নেন তিনজন

হামলায় সরাসরি অংশ নেন তিনজন

ঢাকা, ২২জুন- প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল হত্যাচেষ্টায় তিনজন সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার সুমন হোসেন পাটোয়ারী ওরফে সিহাব। গত বছরের ৩১ অক্টোবর সুমনসহ তিনজন রাজধানীর লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে ঢুকে টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সুমন হোসেন এই জবানবন্দি দেন। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) কুতুব উদ্দিন জানান, গতকাল বেলা তিনটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক বাহাউদ্দিন গ্রেপ্তার সুমনকে হাজির করে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। সন্ধ্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে সুমনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। ১৬ জুন আদালত সুমনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জবানবন্দিতে সুমন বলেন, তাঁর প্রকৃত নাম সুমন হোসেন পাটোয়ারী। তাঁর ছদ্মনাম সাকিব ওরফে সিহাব ওরফে সাইফুল। তাঁর বাড়ি চাঁদপুরে। তিনি ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন। পরে হালিশহরে বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন জামে মসজিদে পড়তে গিয়ে একজন রিকশাচালকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁর মাধ্যমে তিনি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেন। একে একে আরও পাঁচজনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁরা তাঁকে একটি পরিচয়পত্র দেন এবং জিহাদে উদ্বুব্ধ করেন। তাঁরা পরিবার ছেড়ে তাঁকে অন্যত্র গিয়ে প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নিতে বলেন। এরপর তিনি বাসে করে ঢাকার টঙ্গীর বর্ণমালা রোডের একটি মেসে ওঠেন। এ বাসায় চারজন তিন মাস জিহাদের প্রশিক্ষণ নেন।

আদালতকে সুমন বলেন, পুলিশ ছয়জনের ছবি প্রকাশ করে তাঁদের ধরিয়ে দিতে যে পুরস্কার ঘোষণা করেছে, তাঁদের তিনজনকে তিনি শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাঁদের মধ্যে রাজু, সেলিম ও সাকিব ওরফে শরীফুল চাকু নিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ইশতিয়াক নামে এক কথিত ‘বড় ভাইয়ের’ নির্দেশে তাঁরা এ প্রশিক্ষণ নেন। বড় ভাই ইশতিয়াক সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে জিহাদে অংশ নেন। ওই বড় ভাইয়ের নির্দেশে সেলিম ও শরীফুল আহমেদুর রশীদ টুটুলের ছবি দেখিয়ে তাঁকে বলেন, এই ব্যক্তি আল্লাহ ও ধর্মের বিরুদ্ধে বই ছাপেন। তাঁকে কতল (খুন) করতে হবে। এরপর অনেক দিন তাঁরা লালমাটিয়ার শুদ্ধস্বরের কার্যালয় পর্যবেক্ষণ (রেকি) করেন।

সুমন আদালতকে বলেন, ‘বড় ভাইয়ের’ নির্দেশে ৩১ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে শরীফুলসহ তাঁরা চারজন লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে তিনটার দিকে কর্তব্যরত দারোয়ানকে পিস্তলের ভয় দেখিয়ে দুজন ভেতরে ঢুকে টুটুল, লেখক রণদীপম বসু ও ব্লগার আবদুর রহিমকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করেন। টুটুল বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে তিনি টুটুলের হাতে কোপ দেন। এ সময় অভিযান সফল করতে শরীফুল চাপাতি নিয়ে বাইরে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পরে তাঁরা টুটুল, রণদীপম বসু ও ব্লগার আবদুর রহিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে চলে যান।

সুমন আদালতকে আরও বলেন, রাজু (পুলিশের পুরস্কারঘোষিত জঙ্গি) পিস্তল ও চাকু চালানোর প্রশিক্ষণ দেন। সামরিক প্রধান বা অভিযান দলের প্রধান ছিলেন শরীফুল (ক্রসফায়ারে নিহত)।
এর আগে গত ১৯ মে সুমনসহ ছয়জনকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১৮ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার ২৫ দিনের মাথায় ১৩ জুন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম সোলায়মানী ওরফে আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সুমন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুরস্কার ঘোষিত অন্যরা হলেন শরীফুল (ক্রসফায়ারে নিহত) সেলিম, সিফাত, রাজু ও সাজ্জাদ।

এ আর/ ০৯:০২/ ২২জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে