Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২২-২০১৬

জামিনে থাকা অর্ধশতাধিক জঙ্গির হদিস মিলছে না

জামিনে থাকা অর্ধশতাধিক জঙ্গির হদিস মিলছে না

ঢাকা, ২২জুন- গত ৫ বছরে বিভিন্ন উগ্র ও জঙ্গি সংগঠনের ৫ শতাধিক সদস্য জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়েছেন। নজরদারির মধ্যেই প্রথম সারির অর্ধশতাধিক জঙ্গি সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানামুখি তৎপরতার মধ্যেই জামিন নিয়ে পালিয়েছেন তারা। সে কারণে আর তাদের সন্ধান মিলছে না।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে বিচারাধীন মামলায় জামিন পায় প্রায় আড়াইশ’ জঙ্গি সদস্য। এদের মধ্যে জেএমবি ও হুজিসহ উগ্রপন্থি বিভিন্ন সংগঠনের ৮৯ জঙ্গি সদস্য পলাতক ছিলেন।

গত প্রায় চার বছরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জেএমবি ও হুজির শীর্ষ নেতাসহ আড়াইশ`র বেশি জঙ্গি সদস্য জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৮৯ জন এখন পলাতক।

পলাতকদের মধ্যে যাদের সন্ধান দিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তারা হলেন মাওলানা সাব্বির ওরফে হান্নান, মুফতি আবদুল হাই ওরফে আবু নাইম, হাফেজ আবু বকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, হাফেজ জাহাঙ্গীর বদর, মাওলানা আকবর হোসেন ওরফে হেলাল উদ্দিন, মুফতি শফিকুর রহমান, ময়মনিসংহের আবদুস সামাদ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল হালিম, মুক্তাগাছার হাতেম আলী, সিলেটের আরিফ আহম্মেদ মমতাজ,  মাওলানা তাজউদ্দিন, মৌলভীবাজারের মারুফ মোহাম্মদ ইউসুফ, নারায়ণগঞ্জের আমিনুল হক ইমন, আবদুল আজিজ সৈকত, গোপালগঞ্জের মাওলানা আমিরুল ইসলাম, রাঙামাটির রুহুল আমিন, লক্ষ্মীপুরের নজরুল ইসলাম সুমন, ইউনুছ আলী সরদার, গিয়াস উদ্দিন, রবিউল ইসলাম সোহাগ, আনিছুর রহমান খোকন, জুলফিকার আলী, লিয়াকত শেখ, আবদুল আহাদ খান, আমির খান, মাওলানা ওবায়দুর রহমান, আবু নোমান আমানউল্লাহ, মাওলানা আমিরুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম আনিস, এইচএম শফিকুল ইসলাম শাকির, নূর সাঈদী তিতুমীর, টাঈাইলের মাওলানা আবু তাহের, ময়মনসিংহের কাজী নূর আলম সিদ্দিকী ও ভোলার বোরহান উদ্দিনের ফয়সাল মোস্তফা।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দফতরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিচারাধীন মামলার অর্ধশত জঙ্গি সদস্য জামিন পেয়েই দেশত্যাগ করেছেন। এসব জঙ্গিদের কয়েকজন প্রতিবেশী দেশ ভারতেও আশ্রয় নিয়েছেন। দেশের বাইরে থেকে তারা নিজেদের সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কলকাঠি নাড়ছেন। তবে কে বা কারা এসব করছেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পলাতক জঙ্গিরা দেশের বাইরে থেকে নিজেদের সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে কলকাঠি নাড়ছেন। একই সঙ্গে তারা সংগঠিত হতে কয়েকটি সমমনা সংগঠন একত্রিত হয়ে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে উত্তরার তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা। এটিকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গি তৎপরতার কারণে দেশে পাঁচটি উগ্রপন্থি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এগুলো হলো জামা`আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজিবি), শাহাদাৎ আল হিকমা, জাগ্রত মুসলিম জনতা ও হিজবুত তাহরির।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সংগঠিত হওয়ার সুবিধার্থে কয়েকটি সমমনা সংগঠন এখন একই ছাতার নিচে অবস্থান নিয়েছে। কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ হলেও থেমে নেই জঙ্গি ৬টি সংগঠনের কার্যক্রম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে দেশে কোনো জঙ্গি সংগঠনই শক্তিশালী অবস্থানে নেই। তাদের গতিবিধির ওপর পুলিশের নজরদারি রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাঝে মধ্যেই পলাতক জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, গত কয়েক বছরে কয়েকটি ডিসপারেট উগ্রপন্থি সংগঠনের কর্মকাণ্ড আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশি নজরে রেখেছে। এর মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নৃশংসতার ঘটনা বেশি।

পলাতক ও জামিন পাওয়া জঙ্গিরা মিলিত হচ্ছে
গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পলাতক জঙ্গি সদস্যদের সঙ্গে কারাগার থেকে যোগাযোগ হচ্ছে। জামিনে বেরিয়ে মিলিত হয়ে নানামুখি ষড়যন্ত্র করেন তারা। পলাতক হুজি নেতা মুফতি শফিকুর রহমান ও মাওলানা তাজউদ্দিন, জেএমবি নেতা মাওলানা সায়েম প্রতিবেশী দেশ থেকে এবং হুজি নেতা মুফতি হান্নান ও জেএমবি নেতা সাইদুর রহমান কারাগার থেকেই সংগঠনের কর্মীদের পরিচালনা করছেন। জেএমবি ও হুজি এখন একসঙ্গেই মিলেমিশে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, উগ্রপন্থি আরো কয়েকটি সংগঠনকে গত কয়েক বছর ধরে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৈয়দ হুমায়ুন কবীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সমাজ, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত মাওলানা আবু বেলাল মুহাম্মদ ইলিয়াছ আক্তার কাদেরীর দাওয়াতে ইসলাম, হজরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহাম্মদ দিল্লুর রহমানের ওলামা আঞ্জুমান আল বাইয়্যিনাত এবং ইসলাম ও মুসলিম।

গত ৫ জুন চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে প্রকাশ্যে খুন করে দুর্বৃত্তরা। খুনের ধরন বিবেচনায় এটি জঙ্গিদের কাজ বলে পুলিশ ধারণা করছে। এরপর গত ১০ জুন থেকে দেশব্যাপি জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ১৯৪ জন জঙ্গিকে আটক করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেশব্যাপি সাঁড়াশি অভিযানেও জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না। একটা ঘটনা ঘটানোর পর মাঝখানে বিরতি দিয়েই আবারো আরেকটি ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

এ আর/ ০৭:৩8/ ২২জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে