Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২১-২০১৬

ঝুঁকিপূর্ণ রাজা ম্যানশন ভাঙা নিয়ে বিতর্ক

ঝুঁকিপূর্ণ রাজা ম্যানশন ভাঙা নিয়ে বিতর্ক

সিলেট, ২১ জুন- ‘রাজা ম্যানশন’। সিলেটজুড়ে পরিচিত। বইয়ের মার্কেট বলে এই রাজা ম্যানশনের বহুল পরিচিতি সবখানে। রাজা ম্যানশনকে ঘিরে কবি সাহিত্যিকদের আবেগ-অনুভূতিরও কমতি নেই। মার্কেটের মালিকও প্রখ্যাত সাধক হাছন রাজার বংশধর। এ কারণেই বংশের নামের শেষাংশে যুক্ত হয়েছে মার্কেটের নামের সঙ্গেও। এই রাজা ম্যানশন নিয়ে সম্প্রতি  ঘটছে নানা ঘটনা। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে নির্মাণ করা রাজা ম্যানশনের বয়স প্রায় ৪৩ বছর। কিন্তু মার্কেটটির কোনো ফাউন্ডেশন নেই।  ইতিমধ্যে সিলেটের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় পড়েছে তিনতলা রাজা ম্যানশন। একটু ঝাঁকুনি দিলেই নড়বড় করে মার্কেটটি। আর ফাটলও গোটা মার্কেটজুড়ে। ফলে এই ভবনে ব্যবসা পরিচালনা পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে রাজা ম্যানশনটি তালিকায় থাকলেও মার্কেট ছাড়ছেন না ব্যবসায়ীরা। 

সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ রাজা ম্যানশনের মালিকপক্ষকে মার্কেট ছেড়ে দেয়ার তাগিদ দিলেও ব্যবসায়ীরা এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ১৯৭৩ সালে তৈরি হওয়া এ মার্কেটের প্রতিটি তলায় বড় বড় ফাটলের পাশাপাশি বিভিন্ন খুঁটি ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ মার্কেটের পৌনে ২শ ব্যবসায়ী, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ বই ক্রয় করতে আসা লোকজন মিলে প্রতিটি মুহূর্তে অন্তত হাজার তিনেক লোকের অবস্থান থাকায় মার্কেট কর্তৃপক্ষও আতঙ্কিত। যেকোনো সময় মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা। ৩য় তলা ভবনের এ মার্কেটের ডানপাশে ফরিদ প্লাজা আর বাম পাশে কাকলি শপিং সিটি নামের অত্যাধুনিক বিপণি বিতান। রাজা ম্যানশনের প্রবেশ পথের দু’পাশে অর্থাৎ দুটি সিঁড়ির নিচে দুটি করে ৪টি দোকান। এ ছাড়াও মার্কেটের গলিতে ঢুকার আরো ২টি গেট রয়েছে। সিঁড়ি দুটির অবস্থা জরাজীর্ণ।

এগুলোতে কোনো রেলিং নেই, তেমনি পিলারগুলোর ফাটলও ভয়ঙ্করভাবে চোখে পড়ে। মার্কেটে প্রবেশের পর সারি সারি বইয়ের দোকানের পাশাপাশি নিচতলায় একটি স্থানীয় দৈনিকের অফিস, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় বিভিন্ন লাইব্রেরি, ট্রাভেলস, ছাপাখানার অফিসও রয়েছে। নিচতলার ফ্লোরের মতোই দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফ্লোরের অবস্থা যাচ্ছেতাই। তৃতীয় তলার ছাদে উঠে দেখা যায়, অন্যান্য স্বাভাবিক ভবনের ছাদের চেয়ে এ ছাদটি একটু দেবে গেছে। সিলেটের সংস্কৃতি কর্মীরা জানিয়েছেন, রাজাম্যানশন সিলেটের সাহিত্য সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এখন আর সেটি নেই। ক্রমেই বইয়ের বাইরেও আরও কিছু ব্যবসা এখানে পরিচালিত হচ্ছে। মার্কেটের ব্যবসায়ী ও মালিকপক্ষ মার্কেট না ভেঙ্গে আধুনিক উপায়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে। রাজা ম্যানশনের প্রথম ব্যবসায়ী বন্ধু লাইব্রেবির মালিক মাহবুবুল আলম মিলন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ১৯৭৩ সালে দেওয়ান তৈমুর রাজার তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়া এ মার্কেটটি ৬ তলা ফাউন্ডেশনের। 

বর্তমানে মার্কেটের ৩ তলায় ২১০টি দোকান কোঠায় দেড় শ ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অধিকাংশ ব্যবসায়ী  মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পজেশন কিনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কর্তৃপক্ষ জমিদারি হিসেবে একটি ভাড়া পান। 

২০০৩ সালে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা পজেশনের পাশাপাশি মার্কেটের ভূমিও কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় মালিকপক্ষের সঙ্গে  একাধিকবার বৈঠক হলেও দরদামে না মেলায় তা কার্যকর হয়নি। এদিকে, ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত এপ্রিল মাসের ভূমিকম্পে মার্কেটের প্রবেশপথ সিঁড়ির কাছে দুটি বিমে ফাটল দেখা দেয়। যা মূল বিল্ডিংয়ের অংশ নয়। একটি বিম সিঁড়ির ও অন্যটি বারান্দার বিম। মালিক পক্ষ সিটি করপোরেশনের নোটিশ পেয়ে ব্যবসায়ীদের মার্কেট ছাড়ার জন্য বলেন। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বিশিষ্ট প্রকৌশলী বসন্ত সিংহকে দিয়ে সার্ভে করিয়ে প্রতিবেদন নিয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কেটটি ৬ তলা ভিত্তির। বর্তমানে ৩ তলা করা আছে। মার্কেট তৈরিকালে যে রড ব্যবহার করা হয়েছে, তা বর্তমান সময়ের ৬০ গ্রেড হাই কোয়ালিটি রডের সমতুল্য। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প পর্যন্ত সহ্য করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। যেসব মার্কেট এখনই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ নয় সেগুলোকে কিছুটা ছাড় দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে রাজা ম্যানশনের স্বত্বাধিকারী শমসের রাজা চৌধুরী জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন নোটিশ দেয়ার পর আমরা ব্যবসায়ীদের মার্কেট খালি করার জন্য বলেছি। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী টিমের প্রতিবেদন পেয়ে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এ মার্কেট ছাড়তে চূড়ান্ত নোটিশ দেবো। তিনি বলেন, মার্কেটের ৩ তলার ছাদও অনেকটা দেবে গেছে। ছাদে গাছ গজিয়েছে। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মার্কেটে আসা সাধারণ ক্রেতা, লোকজনও ঝুঁকির বাইরে নন।

এ আর/১৩:২৪/ ২১জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে