Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (34 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২১-২০১৬

গোঁফ যার অহংকার

গোঁফ যার অহংকার

নওগাঁ, ২১ জুন- নাম তার মোজাহার হোসেন। গোঁফ যার অহংকার। নওগাঁ শহরের লিটন ব্রিজের ধারে মস্ত বড় এক গোঁফওয়ালা ব্যক্তিকে দেখা যায় বাহারি ফল বিক্রি করতে। অনেকের প্রশ্ন এই আজব মানুষটি আবার কোথা থেকে এল। রাস্তায় যখন তিনি বের হন তখন তাকে ঘিরে মানুষ নানা কথায় আশপাশ মুখরিত করে তোলে। তাদের অনেক প্রশ্ন এই বড় বড় গোঁফওয়ালা মানুষটিকে নিয়ে। এত বড় গোঁফ তিনি কেন রাখলেন আর এই এত বড় গোঁফ রাখার কারণ বা রহস্য কী? এই আজব লোকের পরিচয় কী? অনেক মানুষ একটু সাহস করে তার এই ইয়া বড় গোঁফ দেখেই ক্ষান্ত হয়ে পড়েন।

লোকটি শহরবাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন। মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টিতে তিনিও কিছুটা বিব্রত। আবার এত বড় গোঁফের সাথে চিপ। আসলে আজব এই মানুষের গোঁফ আর চিপ এক সাথে আছে প্রায় ২০ বছর ধরে। সবাই তাকে দেখে রীতিমতো অবাক!

মোজাহার হোসেনের বয়স ৪৫ বছর। গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলা শহরের পাশে বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহারের বোয়ালিয়া গ্রামে। তিনি তার এই গোঁফ ১৫ বছর ধরে কাটেননি। এই গোফের জন্য প্রতি সপ্তাহে খরচ হয় প্রায় ১৫০ টাকা। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার নাপিতের কাছে যেতেই হয়। তার ওপর আবার দিতে হয় দামি হেয়ার জেল, কন্ডিশনার, শ্যাম্পু ও হেয়ারটনিক।

এ ছাড়া ১৫ দিন পরপর তাকে চিরুনি বদলাতে হয়। সাথে সব সময় রাখতে হয় চিরুনি ও আয়না। সব মিলিয়ে গোঁফ রাখা আর হাতি পালা সমান ব্যাপার। তার সঙ্গে কথা বলার এক ফাঁকে তার গোঁফের মাপজোক করা হলো। দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি, প্রস্থ আড়াই ইঞ্চি।

ইয়া বড় গোঁফের মালিক মোজাহার হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি নাইট গার্ডের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। বছরের প্রতিটি দিন-রাত ধরে মানুষকে সেবা দেওয়ার পর এই একটা ইচ্ছাই তিনি পূরণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। এরই ফাঁকে ফাঁকে হাতে থাকা চিরুনি দিয়ে বারবার যত্নসহকারে গোঁফগুলো আঁচড়াচ্ছিলেন। এত বড় গোঁফ নিয়ে তিনি একটু অহংকার করতেই পারেন। তিনি বেশ গর্বের সাথেই বলেন, যেখানে যাই সেখানে আমাকে সবাই এত বড় গোঁফ দেখে মোচুয়া বলে ডাকে।

এমন বড় গোঁফ রাখার ইচ্ছা কেন হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তার পরিচিতি যেন আজব মানুষ হিসেবে থাকে এটাই তার কামনা। আর এজন্য গোঁফ রাখার প্রথম দিকে চিপ আর গোঁফ আলাদা ছিল। কিন্তু আজ থেকে ৫ বছর আগে গোঁফ আর চিপ একসাথে করে নিয়েছেন। এতে সুবিধা হয় গোঁফ টেকসই রাখতে। তিনি কোনো দিন এই গোঁফ আর কাটবেন না বলে জানান।

তিনি আরও জানান, এত দিন ধরে গোঁফ পোষা চারটিখানি কথা নয়। এই গোঁফ দেখে কেউ হাসেন, কেউ আবার ফিস ফিস করে গালি দেন। কিন্তু এতে দমার পাত্র নন তিনি। ‘এটা আমার শখ। প্রথম দিকে স্ত্রী-সন্তান খুবই বিরক্ত হতো। এখন তারা আর কিছু বলে না। তারা এখন বলে গোঁফ কাটার দরকার নাই।’ গোঁফেই নাকি মোজাহারকে বেশ মানায়।

এ আর/১০:৩৯/ ২১জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে