Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২০-২০১৬

পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে আসছে ১২৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প

পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে আসছে ১২৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প

ঢাকা, ২০ জুন- দেশের দক্ষিন পশ্চিম অঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠছে বিশাল অর্থনৈতিক জোন। পদ্মা সেতু নির্মান শুরুর পর থেকেই এই অঞ্চল জুড়ে গড়ে উঠছে সরকারি বেসরকারি নানা ধরনের অবকাঠামো ও স্থাপনা। এই অর্থনৈতিক জোন পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা ইতোমধ্যে আমলে নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তাই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার উদ্যেগ নিয়েছে বিভাগটি । এজন্য দেশের পশ্চিমাঞ্চলের (ওয়েস্ট জোন) বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও হালনাগাদকরণ (আপগ্রেডেশন) নামের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে ‘ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’।

জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে এ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে পশ্চিমাঞ্চলের জেলা-উপজেলায় মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের বিকাশ ঘটার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অনেক উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ওজোপাডিকোর অধীনে ছয়টি সার্কেল এবং ৪৮টি বিদ্যুৎ বিতরণ দফতর রয়েছে। ভৌগলিকভাবে ওজোপাডিকোর অধীনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২১টি জেলার ২১টি সদর উপজেলা ও ২০টি উপজেলাসহ মোট ৪১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত, যার বিস্তৃতি প্রায় ৪ হাজার ১৯০ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৫২ লাখ ১০ হাজার। কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মূলত আবাসিক ও কৃষি ভিত্তিক, তবে এখানে বেশ কিছু মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প রয়েছে এবং ভবিষ্যতে শিল্প বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের বিষয়টি এগিয়ে নিতে হবে।

অন্যদিকে, এই অঞ্চলে বর্তমানে বিতরণ ব্যবস্থায় বিদ্যমান বিতরণ ট্রান্সফরমার ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রসহ যন্ত্রপাতিসমূহ অনেক দিনের পুরাতন হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই লাইন ও উপকেন্দ্রসমূহ ওভারলোডেড এবং যন্ত্রপাতিসমূহ পুরাতন হয়ে গেছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ও চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ হারে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এ অঞ্চলের পুরো বিতরণ ব্যবস্থার পুণর্বাসন, সম্প্রসারণ ও বর্ধিতকরণের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ওয়েস্ট জোনের বিতরণ ব্যবস্থার পুনর্বাসন, সম্প্রসারণ ও বর্ধিত করণের জন্য ওজোপাডিকো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য জুয়েনা আজিজ  বলেন, ‘দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার পূনর্বাসন, সম্প্রসারণ ও বর্ধিতকরণে এই প্রকল্পটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তাই পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য বলে মনে করে।’

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে পদ্মা সেতু ও স্থাপিতব্য অর্থনৈতিক জোনের কারণে যে বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি হতে যাচ্ছে -তা পুরণ সম্ভব হবে। বিদ্যুতের উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধিও জন্য বর্তমানে স্থাপিত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে এবং কারিগরি সিস্টেম লস কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যেসব জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সেগুলো হচ্ছে, ফরিদপুর, রাজাবাড়ি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর জেলার ফরিদপুর সদর, মধুখালি, সদরপুর, ভাঙ্গা, পংশা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি সদর, মাদারিপুর সদর, গোপালগঞ্জ সদর এবং শরিয়তপুর উপজেলা।

খুলনা জেলা, খুলনা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, মাগুরা, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদাহ জেলার খুলনা সদর, ফুলতলা, বাগের হাট সদর, মংলা, যশোর সদর, সাতক্ষীরা সদর, নড়াইল সদর, মাগুরা সদর, ঝিনাইদহ সদর, মেহেরপুর সদর, কুমারখালী, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া সদর, আলমডাঙ্গা, কালিগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গা, শৈলকূপা এবং মহেশপুর উপজেলা।
বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালি, বরগুনা ও ভোলা জেলার বরিশাল সদর, পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া, ঝালকাঠি সদর, কাঠালিয়া, নলছিটি, পটুয়াখালি সদর, বরগুনা সদর, ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন এবং মনপুরা উপজেলা।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রম গুলো হচ্ছে, ৩৩ কেভি বিতরণ লাইন ১ হাজার ৫৪ দশমিক ২৫ কিলোমিটার, ১১ কেভি বিতরন লাইন ৬২ হাজার কিলোমিটার, ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র ৬৩টি এবং ১১/শূণ্য দশমিক ৪ কেভি বিতরণ ট্রান্সফরমার ১ হাজার ৭২২টি।

এ আর/০৮:৫৫/ ২০ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে