Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৯-২০১৬

আধুনিকতার ছোঁয়ায় নতুন আঙ্গিকে সাজছে শহরের ‘রাজ-বাড়িগুলি’

শুভেন্দু ভট্টাচার্য


আধুনিকতার ছোঁয়ায় নতুন আঙ্গিকে সাজছে শহরের ‘রাজ-বাড়িগুলি’

কলকাতা, ১৯ জুন- একটা সময় কোচবিহার ছিল রাজার শহর। রাজারা নিজেদের মত করে এই শহরটাকে সজিয়ে তুলেছিলেন।  যেহেতু কোচবিহার রাজাদের সঙ্গে ইংরেজ সরকারের সম্পর্ক ছিল ভাল,  তাই রাজাদের শহর ও শহরের বাড়ি নির্মানের মধ্যে ইরেজদের প্রভাব স্পষ্ট লক্ষ করা গেছে। কোচবিহারে শহরের বিভিন্ন স্থানে এই রকম ১০০ বছর ও তারও বেশী পুরোনো বাড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। একসময় এই বাড়িগুলি ছিল কোচবিহার রাজ্যের সম্পত্তি। কিন্তু কালক্রমে কোচবিহার একটি জেলা হিসেবে পরিনিত হওয়ার পর এগুলি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে আসে। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে এই বাড়িগুলি সংস্কার না হওয়ায় তা হারিয়ে যেতে বসেছিল সবই। কিন্তু জেলা প্রাশাসনের উদ্যোগে আধুনিক রুপ পাচ্ছে এই বাড়িগুলি , যদিও পুরোনো ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই তা করা হয়েছে।

কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ল্যান্সডাউন হল বা সার্কিটহাউস অথবা পুরোনো ডাকবাংলো একটা সময় কোচবিহার শহরের প্রাচীন এই ঐতিহ্যশালী ভবনগুলো ক্রমাগত অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছিল । সার্কিট হাউসটি কোনও রকমভাবে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হলেও বাকি দুটি ভবনের অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। সরকারি অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছিল ভবনগুলি। তবে অবস্থা বদলেছে । প্রায় ৬ কোটি টাকা খরচ করে ল্যান্ডডাউন হল, সার্কিট হাউস, ও পুরোনো ডাকবাংলোটি সংস্কার করে অত্যাধুনিক ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, তবে এক্ষেত্রে ভবনগুলির আঙ্গিক কোন পরিবর্তন না করেই তা করা হয়েছে।

কোচবিহারে শহরের সাগর দিঘীর পারে ল্যান্সডাউন হল , ১৮৮৫ সালে তৈরি এই দোতালা বাড়িটি রাজ আমলে ছিল কোচবিহারের সংস্কৃতির কেন্দ্র , পরে এই দোতলা ভবনটিকে জেলা শাসকের দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়। নিচের হলঘড়টিতে সামান্য পরিকাঠামোর মধ্যেই চলত বিভিন্ন অরাজনৈতিক অনুষ্টান, সম্প্রতি এই ভবনটিকে আধুনিক সুবিধা যুক্ত পেক্ষাগৃহ  তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে , এর জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। একই ভাবে কোচবিহার সার্কিট হাউস ব্যবহার করা হচ্ছিল সরকারি অতিথিদের জন্য, তবে আধুনিক সুবিধা বেশী ছিল না। প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করে সার্কিট হাউসটিকেও ঢেলে সাজানো হয়েছে , সার্কিট হাউস সংলগ্ন পার্কটিকেও ঢেলে সাজানো হয়েছে। সার্কিট হাউসের পিছনের ডাক বাংলোটিও রাজ আমলে উচ্চপদস্থ কর্মচারিরা থাকতেন । কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রক্ষনাবেক্ষনের  অভাবে এই পুরোনো ডাক বাংলোটি প্রায় পরিতক্ত হয়ে পরেছিল। বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ করে সেটিরও হাল ফেরানো হয়েছে । এখন পুরোনো ঘড়গুলির জায়গায় তৈরি হয়েছে ঝাঁচকচকে বাতানুকুল ঘর। এছাড়াও ডাকবাংলোর পাশে একটি একই রকম ভবন তৈরি করা হয়েছে , সেখানে সরকারি অতিথিদের থাকার পাশাপাশি খাবার ব্যবস্থা। পুরোনো ডাক বংলোটিকে আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে সন্ধে বেলা আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ডাকবাংলোর পরিবেশকে বদলে দিয়েছে।

কোচবিহারের জেলা শাসক পি. উল্গানাথন বলেন “ কোচবিহার শাহরে বিভিন্ন নির্দশন  গুলিকে অত্যাধুনিক ভাবে তৈরি করে ভালো ভাবে ব্যাবহারের উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে, এতে একদিকে যেমন সরকারি কাজের সুবিধে হচ্ছে ,অন্যদিকে শহরের ঐতিহ্যশালী ভবনগুলিও রক্ষনা বেক্ষনের কাজ হয়েছে। আমারা চেষ্টা করেছি  ভবন গুলির মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে এর আধুনিকিকরন করতে। সেই কাজে পূর্ত দপ্তর আমাদের অনেকটাই সাহায্য করেছে,”।

আর/১৭:১৪/১৯ জুন

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে