Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৯-২০১৬

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যত নামে ডাকা হয় ‘বাবা’ কে

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যত নামে ডাকা হয় ‘বাবা’ কে

তিনি বটবৃক্ষ, নিদাঘ সূর্যের তলে সন্তানের অমল-শীতল ছায়া তিনি বাবা। বছরের এই একটি দিনকে প্রিয় সন্তানরা আলাদা করে বেছে নিয়েছেন।আজ রোববার (১৯ জুন) বাবা দিবস। সারা বিশ্বের সন্তানরা পালন করবেন এই দিবস।

এখন না হয় অনেকেই বাবাকে আব্বু, ডেডি, পাপ্পাসহ বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। কিন্তু বাবা বাংলাদেশের ভাষায় মূলত বাবাই। আর এ ‘বাবা’ শব্দটা পৃথিবীর অন্যত্র অনেকভাবে উচ্চারিত হয়।

যেমন, জার্মান ভাষায় বাবা শব্দটি হচ্ছে ‘ফ্যাট্যা’ আর ড্যানিশ ভাষায় ‘ফার’। আফ্রিকান ভাষায় ‘ভাদের’ হচ্ছেন বাবা! চীনের ভাষায় চীনারা আবার ‘বাবা’ কেটে ‘বা’ বানিয়ে নিয়েছে! ক্রি (কানাডিয়ান) ভাষায় বাবা হচ্ছেন ‘পাপা’ তেমনি ক্রোয়েশিয়ানে ‘ওটেক’ ভাগ্যিস! ক্রোয়েশিয়ায় জন্মাইনি! কারণ ওরা বাবাকে ‘ওটেক’ ওটেক বলে!

দাঁড়ান!
আরো আছে, ব্রাজিলিয়ান পর্তুগিজ ভাষায় বাবা ডাক হচ্ছে ‘পাই’। ডাচ ভাষায় পাপা, ভাডের আর পাপাই এ তিনটি হচ্ছে বাবা ডাক। সবচেয়ে বেশি প্রতিশব্দ বোধ হয় ইংরেজি ভাষাতেই! ইংরেজরা বাবাকে ডাকেন, ফাদার, ড্যাড, ড্যাডি, পপ, পপা বা পাপা!

ফিলিপিনো ভাষায় কিন্তু ‘তাতেই’ মানেই বাবা। তবে, এছাড়াও ওরা আরো ডাকে ‘তেয়’ আর ‘আমা’ বলেও; যেমন আমাদের ‘আব্বু’, ‘বাজান’, ‘বাপজান’ বা ‘বুবাই’।

অন্যান্যের মধ্যে হিন্দি ভাষার ‘পিতাজী’ থেকেও কিন্তু আমরা বলি ‘পিতা’ যাকে বাহাসা ইন্দোনেশিয়া’য় বলে – ‘বাপা’ কিংবা ‘আইয়্যাহ’।
জাপানিরা ডাকে – ‘ওতোসান’। পুর্ব আফ্রিকায় বাবাকে ডাকে ‘বাবা’ বলেই আর হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় পাপা ছাড়াও বাবা শব্দের অনেকগুলো প্রতিশব্দ আছে, যেমন – আপা, আপু, এদেসাপা ইত্যাদি।

হিব্রু ভাষায় বাবা হচ্ছে ‘আব্বাহ্’ তার মানে আমরা যে ‘আব্বা’ বলে ডাকি তাই-ই কিন্তু!মুলত ‘আব্বা’ ডাকটা এসেছে হিব্রু ভাষা থেকে।

হিন্দি ভাষার বাবা ডাকটি অবশ্য কমবেশি সবাই জানি, ঠিক ঠিকই! হ্যাঁ, সেটা পিতাজি! আবার ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় অর্থাৎ সেই ‘বাহাসা ইন্দোনেশিয়া’য় যদি বাবা ডাকি তাহলে তা হবে- বাপা কিংবা আইয়্যাহ!

জাপানিরা তাদের ভাষায় বাবাকে ডাকেন_ ওতোসান, পাপা। পূর্ব আফ্রিকায় অবশ্য বাবাকে ‘বাবা’ বলেই ডাকা হয়! মজার, তাই না! হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় পাপা ছাড়াও বাবা শব্দের অনেক প্রতিশব্দ আছে, যেমন_ আপা, আপু, এদেসাপা।

এমন আরো অসংখ্য ভাষাই রয়েছে পৃথিবীতে যার শব্দগুলো আরো অনেক মজার! তবে পৃথিবীর নানা প্রান্তে যে যাই ডাকুক না কেন, বাবা তো বাবাই। ভালো থাকুক সবার বাবা।

কিভাবে এলো এই বাবা দিবস ?
বাবার প্রতি অঢেল সম্মান প্রদর্শন করে এগিয়ে চলি প্রতিনিয়ত। কেননা, বাবার জন্য এই পৃথিবী, এই দেশ, এই আকাশ, এই নদী দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। আর সেই শ্রদ্ধাময় আগামী গড়ার জনক বাবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, ভালোবাসা জানিয়ে প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় ‘বাবা দিবস’।

এ বছর ১৯  জুন তাই এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু কী এই দিবস, এর উৎস কী? তাছাড়া, ‘বাবা’ শব্দটা পৃথিবীর অন্যত্র কীভাবে উচ্চারিত হয়? অন্যদেশের শিশুরা বাবাকে কী বলে ডাকে? এসব নিয়ে প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এগিয়ে যাবো বাবার প্রতি বিনম্র ভালোবাসা-শ্রদ্ধার মালা গেঁথে। ‘বাবা দিবস’ পালন শুরু হয় গত শতাব্দীর প্রথমদিকে। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল_ এটা বোঝানোর জন্যই এ দিবসের পালনের শুরু। পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু।

ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই প্রথম ‘বাবা দিবস’ পালিত হয়। আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম এই দিনটি পালিত হয়। আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্র মহিলার মাথাতেও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৮ সালের ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না।

ডড এই আইডিয়াটা পান এক গির্জায় পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মাকে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থাৎ ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে ‘বাবা দিবস’ পালন করা শুরু করেন। বর্তমানে যেমন বাবা দিবস নিয়ে বিভিন্ন আয়োজন হচ্ছে প্রথমদিকে কিন্তু এতটা ছিল না। ‘বাবা দিবস’ বেশ টানাপড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! আসলে ‘মা দিবস’ নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাত, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাত না, বরং ‘বাবা দিবস’-এর বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল।

ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়, ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার ‘বাবা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

আর/১৭:১৪/১৯ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে