Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-১৭-২০১৬

১১১ জনের খুনি রাজাকার মনসুরই সাভারের মনসুর মার্কেটের মালিক

সৈয়দ হাসিব


১১১ জনের খুনি রাজাকার মনসুরই সাভারের মনসুর মার্কেটের মালিক

ঢাকা, ১৭ জুন- মুক্তিযুদ্ধে একজন দু’জন নয়। ১১১ জনকে সরাসরি হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুরই সাভারে ঘাপটি মেরে থাকা জাসাস (জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা) নেতা রাজাকার মনসুর।

ধসে পড়া রানা প্লাজার ঠিক উল্টো দিকে থাকা মনসুর মার্কেটটির মালিক এই রাজাকার মনসুর।

মার্কেটটির নাম মনসুর মার্কেট হলেও স্থানীয়রা কেউ সে নামে নয়, ডাকেন রাজাকারের মার্কেট হিসেবেই।

রানা প্লাজা ধসে উদ্ধার তৎপরতার জন্যে এই ভবনেই নিয়ন্ত্রন কক্ষ চালু করেছিলো সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন।

যদিও ভবনটির কোন অনুমোদন নেই। সাভারের বাজার রোড ও বিরুলিয়া রোডেও এই রাজাকারের রয়েছে বিলাসবহুল বহুতল ভবন।

এই রাজাকারের বিরুদ্ধে সাভারে প্রথম আন্দোলনে নেমেছিলেন আজকের সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তেতুঁলঝোড়া ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফকরুল আলম সমর।

সেই আন্দোলনের জের ধরে এই দুজনকে জোট সরকারের আমলে একের পর এক মিথ্যে মামলায় জেরবার হয়ে ছাড়তে হয়েছিলো সাভার।

তারপরের ইতিহাস অন্যরকম। কেবলই সুবিধে নেবার ইতিহাস। উপরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। আর নিচে সন্ধি ও সখ্যতার ইতিহাস। রাজনৈতিকভাবে এই রাজাকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন। তার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা ও সমর্থন নিয়ে রাজনীতি করেছেন এমন অনেক নেতাই এখন আওয়ামী লীগের কথিত কান্ডারি।


ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সে সময়ের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম রাজীব বলেন, আমরা এই রাজাকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেছিলাম। আন্দোলন করেছিলাম। পদযাত্রা, পথসভা, ঝাড়ু মিছিল করেছিলাম। এর জেরে বিএনপি জোট সরকারের সময় আমাদের মিথ্যে মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করা হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে আঁতাতের রাজনীতির বিনিময়ে পার পেয়ে যায় এই রাজাকার।

গণহত্যা করে নোয়াখালী ছেড়ে আসা এই রাজাকার সাভারে ততদিনে গেড়েছেন নিরাপদ আস্তানা। বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির নামে সাভারে বসবাসকারী নোয়াখালীর বাসিন্দাদের নিয়ে গড়ে তোলেন নোয়াখালী সমিতি। যোগ দেন বিএনপিতে। হন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সংস্থা জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা।

ক্রমেই হয়ে উঠেছিলেন রাজনীতির কথিত গডফাদার। সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ইউপি নির্বাচন এমনকি স্কুল কমিটির নির্বাচন হলেও সবাই ছুটতেন এই রাজাকারের কাছে। দোয়া আর আশীর্বাদ নিতে। গত আওয়ামী লীগের আমলেও বহাল তবিয়তেই ছিলেন এই যুদ্ধাপরাধী।

মনসুর মার্কেটে অফিস খুলে করতেন বিচার সালিস। আর নেপথ্যে সক্রিয় ছিলেন যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার ষড়যন্ত্রে।

পুড়িয়ে মানুষ হত্যা,গাড়িতে আগুনসহ নানা ভাবে যুদ্ধারপাধীদের বিচারে বিঘ্ন সৃষ্টিতে নানা তৎপরতার বিষয় উঠে আসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো পুলিশ রিপোর্টে।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন নোয়াখালীর সুধারাম থানায় ১১১ জনকে হত্যাসহ তিনটি অভিযোগ রয়েছে কুখ্যাত এই রাজাকারের বিরুদ্ধে। প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১৫ জুন নোয়াখালীর সুধারামে শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা-গণহত্যায় নেতৃত্ব দেন রাজাকার একেএম মনসুরসহ পাঁচ আসামি।

এছাড়াও  একাত্তরের ১৩ সেপ্টেম্বর ৯ জনকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন রাজাকার আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুর, আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী ও মো. ইউসুফ।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজাকার আবুল কালাম ওরফে একেএম মনসুর, আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী এই সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মো. ইউসুফ ও মো. জয়নাল আবেদিন দু‘টি এবং মো. আব্দুল কুদ্দুস একটি ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার এই পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ১৪ অক্টোবর পাঁচজন আসামির মধ্যে গ্রেফতারকৃত চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আবুল কালাম ওরফে মনসুরকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেন।

কিন্তু তার আগেই বিচার এড়াতে পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে আঁতাত করে থাইল্যান্ড পাড়ি জমান কুখ্যাত রাজাকার আবুল কালাম ওরফে একেএম মনসুর।

আবুল কালাম মনসুর ওরফে একেএম মনসুরসহ পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে গত ২০১৪ সালের  ১৬ নভেম্বর তদন্ত শুরু হয়ে। ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট শেষ হয়। ওই দিনই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত কুখ্যাত রাজাকার আবুল কালাম ওরফে একেএম মনসুর কি করে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগ করলো। কি করে ইমিগ্রেশন পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নিরাপদে থাইল্যান্ডে চলে গেলে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ প্রসিকিউশনের কর্মকর্তারা।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রসিকিউশনের একটি সূত্র বলেছে,প্রশাসন ও দলীয় নেতাদের সাথে আঁতাত করেই দেশ ছেড়েছে এই রাজাকার।

এই রাজাকারের পরিবারকে নজরদারিতে রাখা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোফাজ্জল হোসেন জানান, আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হয়েছি কুখ্যাত এই রাজাকার এখন থাইল্যান্ডে পালিয়ে আছেন। আমরা জানতে পেরেছি, দেশ থেকে প্রতিদিন ১০ হাজার করে টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা হয় থাইল্যান্ডে। আর এই কাজটিই করে আসছিলেন রাজাকার পুত্র একেএম শামসুদ্দিন পলাশ ও জামাতা যুবদল নেতা আব্দুল রহমান।

দু’জনকে দীর্ঘদিন নজরদারিতে রাখা হলেও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছে রাজাকার জামাতা আব্দুর রহমান। তার হোটেল ব্যবসাসহ অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নাশকতার অভিযোগে সম্প্রতি একটি শ্যুটার গান ও ৫ রাউন্ড গুলিসহ রাজাকার পুত্র একেএম শামসুদ্দিন পলাশকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার ( জুন ১৭) ৫ দিনের রিম্যান্ড প্রার্থনা করে এই রাজাকার পুত্রকে পাঠানো হয় আদালতে।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক মোফাজ্জল হোসেন জানান, যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই রাজাকার পুত্র নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। কিভাবে কাদের সহযোগিতা নিয়ে কুখ্যাত রাজাকার দেশত্যাগ করেছে। কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় দেশের অর্থ থাইল্যান্ডে পাচার করা হচ্ছে- প্রভৃতি বিষয়ে জানতেই তাকে রিমান্ডে আনার প্রার্থনা করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আর/১০:২৪/১৭ জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে