Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৭-২০১৬

স্বর্ণপদকের জন্য দৌড়াচ্ছেন মোদি

স্বর্ণপদকের জন্য দৌড়াচ্ছেন মোদি

নয়া দিল্লী, ১৭ জুন- অর্থনীতি, অবকাঠামো ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বেশ ভালই করছে মোদির সরকার।  কিন্তু রাজনৈতিক , ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে তার সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথা, এই দুই বছরে সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে পরবর্তী তিন বছরের কর্মপন্থা ঠিক করছেন তিনি। রব উঠেছে, রৌপ্যপদক তো হলো, এবার স্বর্ণপদকের জন্য দৌড়াচ্ছেন মোদি।

এ দুই বছরে মোদির অবস্থান কখনো শক্ত, কখনোবা নাজুক হয়েছে। তিনি প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি সমালোচিতও হয়েছেন। তাঁর পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব মেলাচ্ছে ইন্ডিয়া টুডে। সামনে মোদিকে আরও কঠিন সময়ের মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতায় থাকার দুই বছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, শিল্পায়ন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে কূটনৈতিক সম্পর্ক।

তবে এ দুই বছরে মোদি রাজনৈতিক মহলে সমালোচিত হয়েছেন অনেক বার। সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতেও পড়েছেন বিপত্তিতে। এই দুই ইস্যুতে মোদির সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে মোদি একাধিক প্রকল্প নিয়েছেন। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশি সময় লাগায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে এক বৈঠকে মোদি বলেন, কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর সহজে ও কম সময়ে জনগণ যাতে সুফল পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য পার্লামেন্টে একটি আইন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মোদি বিশ্বাস করেন, ঘোষণা দেওয়ার এক দিনের মধ্যেই কোনো একটি কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নকাজ শুরু করা উচিত।

গত ২৬ মে মোদির ক্ষমতায় আসার দুই বছর পূর্তি উদ্যাপন করা হয়। মোদি মনে করেন, এই সময়ে গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে তিনি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। ১৯৮৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর পর আর কোনো প্রধানমন্ত্রী এত পদক্ষেপ নেননি বলে তিনি মনে করেন।

৭০০ কর্মদিবসে মোদি অক্লান্তভাবে কাজ করে গেছেন বলে মত দিয়েছেন তাঁর সহযোগীরা। মেয়েশিশু রক্ষা, আধুনিক নগরায়ণ, গ্রামে বিদ্যুতায়ন, যুবকদের প্রশিক্ষিত করতে নানা প্রকল্প নিয়েছেন মোদি।

মোদি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর মতো করে সরকার পরিচালনা করেন। তিনি নিজেই বিভিন্ন এজেন্ডা নির্ধারণ করেন, যথার্থতা যাচাই করেন। বেশি কথার চেয়ে কাজ তাঁর পছন্দের।

মোদির এত কড়া নজরদারি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সবকিছু তিনি নিজে কুক্ষিগত করতে চান বলে সমালোচনাও রয়েছে। তবে মোদির সরকার সম্ভবত এ কারণেই দুই বছরে বড় ধরনের কোনো কেলেঙ্কারিতে জড়ায়নি। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট বা ইউপিএ সরকারের চেয়ে মোদির আমলে এ কারণে শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতি কমেছে।

দ্বিতীয় বছরে মোদি গুরুত্ব দিয়েছেন অর্জনের ওপর। দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে মোদি যেসব পরিকল্পনা নিয়েছেন তার কতটা সুফল জনগণ পেয়েছে বা পাচ্ছে সেদিকে এখন প্রধানমন্ত্রীর কড়া নজর। ওপর মহলের নির্দেশ পাওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন হলো কি না, তা নিয়ে সতর্ক মোদি।

মোদির পূর্বসূরি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পাকিস্তান সফর না করায় সমালোচিত হয়েছেন। সেটি মাথায় রেখেই মোদি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের জন্মদিনে লাহোরে গেছেন। এতে ভারত যে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে একেবারে অনিচ্ছুক নয়, এমন একটি ভাবমূর্তি বিশ্বে তৈরি হয়েছে।

বাজেটের পর মোদি বেশি সমালোচিত হয়েছেন। এতে কৃষকদের স্বার্থরক্ষা হয়নি বলে সমালোচনা উঠেছে। বিরোধীরা মোদি সরকারকে অভিহিত করেছেন ‘স্যুট বুট কি সরকার’ নামে। সেচব্যবস্থার উন্নয়ন মোদির আমলে হয়নি। ফলে ভালো শস্য পায়নি কৃষক। এ ব্যর্থতার দায় অনেকটাই মোদি সরকারের ঘাড়ে। তবে এটাও ঠিক যে গত ৩০ বছরের মধ্যে মোদির আমলেই ভারতে সবচেয়ে বেশি খরা দেখা দেয়। আর এই পরিস্থিতি মোদিকেই সামলাতে হয়।

ইউপিএ সরকারের তুলনায় মোদির আমলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশে। ভারতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে।

এক বছরে মোদি জাপানসহ অনেক দেশ সফর করেছেন। বিদেশিরা দুই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। মোদির আমলে পাকিস্তান, ভুটান, মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গেও মোদির সম্পর্ক ভালো হয়েছে।

অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও পররাষ্ট্রনীতিতে মোদি যতই প্রশংসিত হোন না কেন রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ।

মোদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে বিভিন্ন সময় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। গান্ধী পরিবারকে আক্রমণ করেও তিনি নানা কথা বলেছেন। কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়তে মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি যেন উঠেপড়ে লেগেছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘের (আরএসএস) কিছু নেতাকে মোদি বেশি প্রশ্রয় দিয়েছেন। এ কারণে গরুর মাংসের ওপর দেশটির কয়েকটি রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এতে মোদির সাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি প্রকাশ পেয়েছে। বহির্বিশ্বে তো বটেই, নিজ দেশেই তিনি সমালোচিত ও নিন্দিত হয়েছে।

এ আর/ ১৪:৪২/ ১৭ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে