Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-১৬-২০১৬

আদালতের নির্দেশ অমান্য, দৈনিক জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

আদালতের নির্দেশ অমান্য, দৈনিক জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

ঢাকা, ১৬ জুন- আদালতে নির্দেশ পালন না করায় ১৫৪ ট্যানারি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশের ক্ষতি করায় এসব প্রতিষ্ঠানকে হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

আদালতের নির্দেশে যেসব ট্যানারি এখনও সাভারে স্থানান্তর করা হয়নি তাদের তালিকা দাখিলের পর বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের বেঞ্চে এ নির্দেশ দেন।

রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, যতদিন পর্যন্ত কারখানা সরাবে না ততদিন পর্যন্ত পরিবেশের ক্ষতি হিসাবে ট্যানারিকে সরকারি কোষাগারে ৫০ হাজার টাকা করে জমা দিতে হবে।

আদালতের এ আদেশ সময়ে সময়ে মনিটরিং করে শিল্প সচিব ১৭ ‍জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন আকারে জানাবেন। একইসময়ের মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানিরর কারণে বুড়িগঙ্গায় কী পরিমাণ পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তা নির্ণয় করে পরিবেশ সচিব আদালতকে প্রতিবেদন আকার জানাতে হবে। আদালতে শিল্পসচিবের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রইস উদ্দিন।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
 
দীর্ঘদিন ধরে ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় অন্য এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন।

সরকারপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।

কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও স্থানান্তর না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা করেন পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মনজিল মোরসেদ।

এ মামলার প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

পরে গত বছরের ২১ এপ্রিল আদালতের তলবে হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন  শিল্প সচিব।

এরপরও ওই দশ প্রতিষ্ঠান হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ফের আদালত অবমাননার অভিযোগে আরও একটি আবেদন করেন মনজিল মোরসেদ।

এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১১ আগস্ট হাইকোর্ট দশ কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। এ রুলের পর দশ মালিককে তলব করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২১ মার্চ আবেদন করেন মনজিল মোরসেদ। ২৩ মার্চ এ আবেদনের শুনানি শেষে ব্যাখ্যা দিতে আদালত ১০ মালিককে ১০ এপ্রিল তলব করেন।
 
হাজিরা দিতে আসার পর ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তিন মালিককে কোর্ট তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে পুলিশে সোপর্দ করার আদেশ দেন হাইকোর্ট। পরে কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক তাদেরকে কোর্ট পুলিশের কাছে রাখেন।

বিকেলে তাদের আইনজীবী ফিদা এম কামাল সময়ের আবেদন ও তাদের পক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সোমবার দুপুর একটার মধ্যে ট্যানারি সরানোর বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবেন- এ শর্তে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে জানান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

পরের দিন তাদের আইনজীবী ফিদা এম কামালের মাধ্যমে হলফনামা জমা দেন তিন ট্যানারি মালিক। হলফনামায় তারা তাদের হাজারীবাগের কারখানা বন্ধ রাখাসহ আগামীতে হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি স্থানান্তরের আশ্বাস দেন। পরে তাদের আদালত অবমাননার হাত থেকে রেহাই দেয়া হয়। 

এর মধ্যে ১৩ এপ্রিল রাজধানীর হাজারীবাগে এখনো যেসব ট্যানারি ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের তালিকা চেয়েছিলো হাইকোর্ট।

তিন সপ্তাহের মধ্যে শিল্প সচিবকে এই তালিকা বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করতে হবে।

আদালতের এ আদেশ অনুসারে শিল্প সচিবের পক্ষে আইনজীবী রইস উদ্দিন ১৫৫টি ট্যানারির তালিকা হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে মাত্র একটি ট্যানারি স্থানান্তর করে।

আর/১৭:৩৪/১৬ জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে