Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৫-২০১৬

ইনুকে প্রশ্রয় ‘পিতার রক্তের’ সঙ্গে প্রতারণা: রিজভী

ইনুকে প্রশ্রয় ‘পিতার রক্তের’ সঙ্গে প্রতারণা: রিজভী

ঢাকা, ১৫ জুন- পঁচাত্তর পূর্ববর্তী বছরগুলোতে দেশে ‘অরাজকতা’ সৃষ্টির পেছনে জাসদের একটি অংশকে দায়ী করে দলটির নেতা বর্তমান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিচার দাবি করেছে বিএনপি।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়ে ইনুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘প্রশ্রয় দিচ্ছেন’ অভিযোগ করে তা তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের সঙ্গে প্রতারণার সামিল বলেও মন্তব্য করেন।

জাসদকে নিয়ে জোট শরিক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে ইনুর বিচার করার ‘তিনটি কারণও’ তুলে ধরেন রিজভী।

হাসানুল হক ইনুকে তখনকার ‘পঞ্চম বাহিনীর’ লোক আখ্যায়িত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “তিনি অতীতের এসব কর্মকাণ্ড থেকে ধোয়া-মোছার জন্য ক্রমাগতভাবে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অশ্রাব্য, কুশ্রাব্য, আজে-বাজে কথা বলেন। এই কারণে প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়ে তথ্যমন্ত্রী ইনুকে প্রশ্রয় দেন।”

“প্রধানমন্ত্রীর এই যে ইনুকে প্রশ্রয় দেওয়া, আমার মনে হয়েছে, এটা তার পিতার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) রক্তের সাথে প্রতারণা করার শামিল,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ছাত্রলীগের বিভক্তি থেকে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের’ স্লোগান দিয়ে জাসদ গঠন করে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতায় নামে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত রক্ষী বাহিনী ও জাসদের সামরিক শাখা গণবাহিনীর সংঘাতে অনেক প্রাণ ঝরেছিল।

পরে ওই জাসদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয় এবং বর্তমানে ১৪ দলীয় জোটেও দলটি রয়েছে। জাসদের তখনকার সামরিক শাখার উপ-প্রধান হাসানুল হক ইনু দলটির সভাপতি হয়ে মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারে।

সোমবার ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফ ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরির জন্য জাসদকে দায়ী করে বলেন, তাদের একজনকে মন্ত্রী করার জন্য আওয়ামী লীগকে আজীবন প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।

তার ওই বক্তব্য ‘ব্যক্তিগত মত’ বলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের প্রতিক্রিয়া জানালেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে গুম-খুন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তাদের জোটসঙ্গী জাসদকে দায়ী করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলের নেতাকর্মীদের ‘মনের কথাই’ বলেছেন মন্তব্য করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, “স্বাধীনতা পরবর্তী সারাদেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যালীলা চলেছে, এখানে জাসদের একটি অংশের ভূমিকা আছে।

“জাসদের সব মানুষ যে খারাপ, সব নেতৃবৃন্দ যে খারাপ- এটা আমি বলব না। এদের মধ্যে স্বাধীনতার সংগঠক আছেন, দেশপ্রেমিক আছেন, সবাই আছেন।তারা একটা কার্য্কর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারতেন।”
‘ইনুদের মতো’ যেসব মানুষ দেশকে ‘ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নেওয়ার চেষ্টা’ করেন তাদের কারণেই ‘আরও বেশি রক্ত ঝরেছে’ বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবীর রিজভী।

এখনকার জঙ্গিবাদের পেছনেও ইনুর ‘ভূমিকা’ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “১৯৭২-৭৫ সালে এই যে ব্যক্তি, ইনুর কর্মকাণ্ড আমি যদি বিশ্লেষণ করি, আজকের যে জঙ্গিবাদের উত্থান, এর যদি সংজ্ঞা খুঁজেন, তাহলে ইনুর কর্মকাণ্ডের মধ্যে তার সংজ্ঞাটি খুঁজে পাবেন, আজকের উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ ইনুর কর্মকাণ্ডের মধ্যে প্রতিধ্বনিত আছে।”

‘তিনটি কারণে’ ইনুর বিচার হওয়া উচিৎ মন্তব্য করে রিজভী বলেন, “প্রথমটি হচ্ছে, ১৯৭৩-৭৪ সালে আজকের স্বাস্থমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বাবা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনসুর আলী সাহেবের বাসা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ছিল। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছিল। সেখানে হঠাৎ করে নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে গুলি করল জাসদের কিছু লোক- এই হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে।

“তারপর তারা ( আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য) পাল্টা গুলি ছুঁড়লেন। জাসদের নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেই গুলির শিকারে পরিণত করা হল। এরজন্য দায়ী এই হাসানুল হক ইনু।”

দ্বিতীয় কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক আমাদের সেনাবাহিনী। সেই বাহিনীকে অস্থিতিশীল করা, সেখানে লিফলেট ছড়ানো, নানাবিধ স্লোগান দেওয়া- এভাবে একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা সৃষ্টির অন্যতম নায়ক হচ্ছেন এই হাসানুল হক ইনু।”

ভারতীয় হাই কমিশনে আক্রমণকে তৃতীয় কারণ জানিয়ে রিজভী বলেন, “এটিরও মাস্টার প্ল্যান ছিল এই হাসানুল হক ইনুর। কারণ আমাদের দেশে একটি কূটনীতিক মিশনের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব জনগণের।

“সেখানে যদি একটি রাজনৈতিক দলের অংশ হামলা করতে যায়, তাহলে আগ্রাসনকে ত্বরান্বিত করা হয়। এটা একটা ভয়ঙ্কর রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছিলেন ইনু। এই তিনটি কারণে তার বিচার হওয়া উচিৎ।”

সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর পাশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও সাখাওয়াত হোসেন জীবন ছিলেন।

আর/১৭:২৪/১৫ জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে