Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৫-২০১৬

তাজউদ্দিনকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরাতে জটিলতা

তাজউদ্দিনকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরাতে জটিলতা

ঢাকা,১৫ জুন- ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় পলাতক আসামি মাওলানা তাজউদ্দিনকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরাতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর পাসপোর্টটি হাতে লেখা থাকায় আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

পাসপোর্ট অফিস জানিয়েছে, হাতে লেখা পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়ার কোনো নিয়ম ছিল না, তাই তাঁর ফিঙ্গার প্রিন্ট সে সময় দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে সরকার। 

এদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি তাজউদ্দিন একই ব্যক্তি কি না, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সরকার। তাজউদ্দিন পাকিস্তানের পাসপোর্ট কীভাবে পেলেন—এ ব্যাপারেও অনুসন্ধান শুরু করেছে। 

মাওলানা তাজউদ্দিন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় ২০০৮ সালে দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি ‘পাকিস্তানের পাসপোর্ট’ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন। তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানিয়ে তাজউদ্দিনের প্রকৃত তথ্য যাচাই করতে তাঁর পাসপোর্ট-সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে ইন্টারপোল। 

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইন্টারপোলের দক্ষিণ আফ্রিকার শাখা কার্যালয় বাংলাদেশের পুলিশকে জানিয়েছিল, বাদল নাম লেখা ভুয়া পাসপোর্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছেন তাজউদ্দিন। 

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। এতে আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ শতাধিক ব্যক্তি। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিষয়ে অনেক তথ্য রয়েছে তাজউদ্দিনের কাছে। তাঁকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে কয়েকটি চিঠি চালাচালিও হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির পর সর্বশেষ ৪ এপ্রিল ইন্টারপোল থেকে ই-মেইল পাঠানো হয়। ২৫ এপ্রিল চিঠি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) নেতা তাজউদ্দিন বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই। পিন্টুও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি, বর্তমানে কারাগারে আছেন।

পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ নিশ্চিত করে, মাওলানা তাজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা না হলেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাঁকে বহিঃসমর্পণের প্রস্তাব পাঠাতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার উপমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। সে সময় দেশটির উপমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আবেদন করলে তাঁরা এই আসামিকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এরপরই দক্ষিণ আফ্রিকায় এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ। 

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা তাজউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনার একটি প্রস্তাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। দু-এক দিনের মধ্যে এ প্রস্তাব দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হবে বলে আশা করছি। এ বিষয়ে ওই দেশের সরকারের সঙ্গে কথাও হয়েছে। তাজউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনতে যা যা করা দরকার, আমরা করব।’ 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কুশীলবদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মাওলানা তাজউদ্দিন। তিনি হুজি-বি নেতা মুফতি হান্নানকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন। হামলার আগে তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু তাঁর সরকারি বাসায় হুজি-বি নেতা মুফতি হান্নান, হাফেজ আবু তাহের ও তাজউদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছিলেন। পিন্টু ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। 

মাওলানা তাজউদ্দিন ঢাকার লালবাগ মাদ্রাসা ও মোহাম্মদপুরে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। পরে পাকিস্তানে চলে যান। পাকিস্তানে পড়াশোনা শেষ করে ২০০১ সালে দেশে ফেরেন এবং এ দেশে হুজি-বির কার্যক্রমে যুক্ত হন। 

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৬ সালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কতিপয় কর্মকর্তা ভুয়া পাসপোর্টে তাজউদ্দিনকে এ দেশ থেকে পাকিস্তানগামী বিমানে তুলে দেন। ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন দুজন কর্মকর্তা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পলাতক তাজউদ্দিনকে আটক করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল বিশ্বব্যাপী রেড নোটিশ জারি করে। এরপর ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার ইন্টারপোল (প্রিটোরিয়া এনসিবি) শাখা এক চিঠিতে বাংলাদেশ পুলিশকে জানায়, তাজউদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় নজরদারিতে আছেন। তখন দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সঙ্গে বহিঃসমর্পণ চুক্তি করতে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করে। এতে দেশটির সরকার রাজি হয়। এরপরই চুক্তির খসড়া পাঠানো হয় বাংলাদেশ সরকারের কাছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বহিঃসমর্পণের আওতায় তাজউদ্দিনকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানানো হয়।

এ আর/ ১৬:২০/ ১৫জুন 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে