Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৫-২০১৬

ভুলটা বিএনপিও করেছিল

ভুলটা বিএনপিও করেছিল

ঢাকা,১৫ জুন- ইতিহাসের মরে যাওয়া একটি অধ্যায়ের খাতা ফের খুললেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এমনিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি অন্যরকম এক চরিত্র। প্রায় নিঃসঙ্গ। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক। প্রভাবশালী মন্ত্রী। কিন্তু সৈয়দ আশরাফ দরবারি রাজনীতিবিদ নন। তদবিরবাজরা কখনও তার নাগাল পান না। তিনি কথা বলেন খুবই কম। তবে যা বলেন তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকে।

বছরখানেক আগে এ ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিস্তর বিতর্ক হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাসদের ভূমিকার কারণেই বঙ্গবন্ধুকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। লেখক মহিউদ্দিন আহমদের একটি বইও বারুদ ছড়িয়েছিল। তবে একসময় সে আলোচনা থেমে যায়। এখন আবার সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ইস্যুটি জাগিয়ে তুললেন। তবে পুরনো ইস্যুর পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের জন্য একটি হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, জাসদের একজনকে মন্ত্রী করায় আওয়ামী লীগকে এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে আজীবন।

জাসদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বহুল আলোচিত-সমালোচিত অধ্যায়ের নাম। মুক্তিযুদ্ধের সময়ই অবশ্য যুবনেতাদের সঙ্গে প্রবাসী সরকারের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দলটির তরুণ প্রভাবশালী একটি অংশের বিরোধ বাড়তে থাকে। এরই এক পর্যায়ে ১৯৭২ সালের ৩১শে অক্টোবর সকালে এক সভায় ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সিরাজুল আলম খান, কাজী আরেফ আহমেদ, মেজর জলিল, আসম রব, মনিরুল ইসলাম, শাজাহান সিরাজ, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, হাসানুল হক ইনু প্রমুখ। প্রয়াত লেখক আহমদ ছফা লিখেছিলেন, আওয়ামী লীগ থেকে জাসদের বেরিয়ে আসার কারণে আওয়ামী লীগ শক্তিহীন হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির সঙ্গে সঙ্গে জাসদের আসল মৃত্যু ঘটে গেছে।

ইতিহাসের চাকা ঘুরতে থাকে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করে। ১৯৭৪ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনা জাসদের স্বাভাবিক রাজনীতির পথ রুদ্ধ করে। এক পর্যায়ে গড়ে উঠে গণবাহিনী। গণবাহিনী- রক্ষীবাহিনী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় গুপ্তহত্যা। অনেক স্থানে প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষ হতো গণবাহিনী-রক্ষীবাহিনীর মধ্যে। হামলা-পাল্টা হামলা ছিল নিত্যকার ঘটনা। লাশ দাফনে ব্যস্ত সময় কাটাতে হতো আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের কর্মীদের। থানায় হামলা আর লুটপাটের ঘটনাও ছিল নিয়মিত। চারদিকে পরিস্থিতি ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠে। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ঘাতকেরা হত্যা করে বঙ্গবন্ধুকে। এ হত্যাকাণ্ডে জাসদের পক্ষ থেকে উল্লাসও প্রকাশ করা হয়েছিল। মহিউদ্দিন আহমদের ‘জাসদের উত্থান-পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি বইয়ে’ লেখা হয়েছে, ১৫ই আগস্ট সকালেই তাহের ‘সফল বিপ্লবকে অভিনন্দন জানাতে’ ঢাকা বেতার কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। তাহের অবশ্য পরে বলেছিলেন, মেজর রশিদের অনুরোধে তিনি বেতার কেন্দ্রে যান।

দীর্ঘসময় পর অবশ্য জাসদ আবার আওয়ামী লীগের শিবিরেই ফিরে যায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতির বিবরণ পাওয়া যায় মহিউদ্দিন আহমদের বইয়ে। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতির একটা পর্ব এখন গত হয়েছে। অপ্রকাশ্য বাম রাজনীতি এখন আর নেই। প্রকাশ্য বাম রাজনীতির নামে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকটি গোষ্ঠী এখনও পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের তত্ত্বের জাবর কেটে যাচ্ছে। সময় যে বদলে গেছে, পরিপ্রেক্ষিত যে পাল্টে গেছে তা তারা বুঝতে অক্ষম। এছাড়া, দলগুলোর মধ্যে নতুন নতুন সমীকরণ হচ্ছে। একদা যারা পরস্পরের পরম শত্রু ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন জোটবদ্ধ হচ্ছেন। এর পেছনেও আছে হাজারো যুক্তি। কে কোন পন্থি ছিলেন বা আছেন তা এখানে গৌণ। মুখ্য বিষয় হলো রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া। এর ওপর চড়ানো হয় আদর্শের চাদর। সে জন্যই সমীকরণ তৈরি হয়। ক্ষমতার রাজনীতিতে কে কাকে কতটা সফলতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে, সেটাই মৌলিক প্রশ্ন। জাসদের ব্যর্থতার প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে এখানেই। তবু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। এত প্রাণ যে ঝরে গেল, তার কি কোনো প্রয়োজন ছিল? নাকি এটা ছিল অনিবার্য? হয়তো একদিন এর উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে। আর কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনো দিনই পাওয়া যাবে না।’

অনেক পর্যবেক্ষকই আজকাল বলেন, জাসদের রাজনৈতিক কৌশল ভুল ছিল। যে ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে হাজার হাজার তরুণকে। নেতারা হয়তো বেশিরভাগই পার পেয়ে গেছেন। কেউ আবার রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে। কিন্তু যেসব তরুণ জীবন দিয়েছেন ইতিহাসের পাতায় হয়তো তাদের নামও লেখা নেই। ইতিহাসের বিচার থেকে কেউ রেহাই পায় না। এই আপ্ত বাক্য হয়তো সবক্ষেত্রে সত্য নয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্য। সে চিরকালীন ইতিহাসের বিচারের বিষয়টিই আবার সামনে নিয়ে এসেছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। জাসদকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া যে আওয়ামী লীগের ভুল ছিল তার বক্তব্যে সে ইঙ্গিতও মিলে। রাজনীতিতে অবশ্য কিছু কিছু ভুলের পরিণতি সবসময়ই ভোগ করতে হয়। এ থেকে কারোরই নিস্তার মিলে না। জামায়াতের কথাই ধরা যাক না কেন। ভারত ভাগের বিরোধিতা করেছিল এ দলটি। যে পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল জামায়াত সে পাকিস্তান রক্ষাতেই একসময় মাঠে নামে এই দল। অবস্থান নেয় বাংলাদেশের মহান মুক্তিসংগ্রামের বিরুদ্ধে।

যে ভুলের মাশুল জামায়াত আজও দিয়ে যাচ্ছে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, জাসদের একজনকে মন্ত্রী করায় আওয়ামী লীগকে এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে আজীবন। এ জন্য আওয়ামী লীগকে কী প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে একই ধরনের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত আজ করছে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। কোনো কোনো পর্যবেক্ষক মনে করেন, জামায়াত নেতাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া ছিল বিএনপির ঐতিহাসিক ভুল। সে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করছে এখন বিএনপি। হয়তো করতে হবে আরো অনেক দিন।

এ আর/ ১৩:৪০/ ১৫জুন 

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে