Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৪-২০১৬

ধন্যবাদ শচিন, ইতি হেডস্যার

ধন্যবাদ শচিন, ইতি হেডস্যার

কলকাতা, ১৪ জুন- শচিন ভারতের রাজ্যসভার সাংসদ। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের মতো সভা-সমাবেশ নেই। নেই দান দরবারের হিসাবও। কিন্তু কোনো স্কুলের নবনির্মিত ভবনের সামনে সাইনবোর্ডে যদি লেখা থাকে, ‘রাজ্যসভার মাননীয় সাংসদ শচিন রমেশ টেন্ডুলকারের সাংসদ-তহবিলের টাকায় তৈরি হচ্ছে এই স্কুল।’ তাহলেতো চমকানোরই কথা!

কিন্তু কলকাতা থেকে দেড়শো কিলোমিটার দূরে পশ্চিম মেদিনীপুরের এক অজ গ্রামে এমনটাই হচ্ছে। নবনির্মিত এই স্কুল ভবনের সামনে লাগানো একটি সাদামাটা টিনের কালো বোর্ড ইংরেজি হরফে তাই লেখা হয়েছে। স্কুলের নাম গোবিন্দপুর-মকরামপুর স্বর্ণময়ী শাসমল শিক্ষানিকেতন। নারায়ণগড়ের মকরামপুরে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে এই স্কুলেই শচিনের তহবিলের টাকায় হচ্ছে নতুন ভবন।

কিন্তু সবার আশ্চর্যের বিষয় এটা কিভাবে সম্ভব? তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তেমন কোনো যোগসূত্রও নেই। তা হলে মেদিনীপুরের এই অজ গাঁয়ে তার সাহায্য এল কী করে? 

সম্প্রতি বেরিয়েছে এর রহস্য। এই স্কুলের উত্তমকুমার মহান্তি করেছেন এই অসাধ্য সাধন। তিনিই সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে বুদ্ধি করে চিঠি লিখেছিলেন সচিন টেন্ডুলকারকে। খেলার মাঠের লোক না হয়েও যে মাস্টারমশাই ‘মাস্টার স্ট্রোক’ হাঁকিয়েছেন। নিজের স্কুলের জন্য অর্থসাহায্য আদায় করেছেন একেবারে ‘মাস্টার ব্লাস্টার’-এর কাছ থেকে।


এ ক্ষেত্রে নিয়মকানুনের অবশ্য বাধা নেই। রাজ্যসভার সাংসদ চাইলে দেশের যে কোনো প্রান্তেই উন্নয়নের জন্য অর্থ সাহায্য করতে পারেন। আর শচিনের ক্ষেত্রে রাজ্যগত সীমানার নৈতিক বাধ্যবাধকতাও নেই। কারণ, তাকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি নিজে।

আর এ তথ্যটাই জানতেন হেডমাস্টার উত্তমকুমার। সেই ভরসাতেই চিঠিটা লিখেছিলেন ২০১৩ সালে। প্রধান শিক্ষকের কথায়, ‘সাহায্যের জন্য এখানে-ওখানে গিয়ে যখন সাড়া পাচ্ছি না, তখন হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আমি সচিনের মস্ত ফ্যান। তাই স্কুলের হাল ফেরাতে শচিনের কথা মনে হয়েছিল। নেট ঘেঁটে দেখেছিলাম রাজ্যসভার সাংসদ সচিন দেশের যে কোনও জায়গায় টাকা দিতে পারেন। শুধু আবেদনটা করতে হয়। নেটেই পাই ঠিকানা।’

সময় নষ্ট না করে আবেদনটা করেই ফেলেন উত্তমবাবু। স্কুলের দুর্দশার কথা জানান ‘লিটল মাস্টার’কে। দিন যায়, মাস যায়, জবাব আর আসে না। কিছুটা হতাশ হয়েই ফের স্থানীয়ভাবে টাকা সংগ্রহে উদ্যোগী হন উত্তমবাবু। অর্থ়সাহায্যের আবেদন করেন জেলা পরিষদের কাছে। তবে লাভ হয়নি। শেষমেশ ২০১৪ সালের অগস্টে স্কুলের ঠিকানায় পৌঁছায় একটি চিঠি। উত্তমবাবু বললেন, ‘তারিখটা মনে আছে, ৭ আগস্ট। খামটা হাতে পেয়েই বুঝেছিলাম ভাল খবর। তারপর চিঠি পড়ে দেখলাম, শচিন আমাদের স্কুলকে ৭৬ লাখ টাকা দেবেন।’

২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে সাংসদ তহবিল থেকে নারায়ণগড়ের এই স্কুলের জন্য ৭৬ লাখ ২১ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছেন শচিন। তবে টাকা পেতে আরও কিছুটা সময় লাগে। ২০১৫-র সেপ্টেম্বরে দু’দফায় স্কুলের অ্যাকাউন্টে জমা হয় ৫৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা, মোট বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ। সেই টাকাতেই নতুন স্কুলবাড়িতে তৈরি হচ্ছে গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার এবং মেয়েদের কমন রুম।

আশির দশক থেকে এই স্কুলে শিক্ষকতা করা অজয়কুমার দে, অসিতকুমার বেরার মন্তব্য, ‘সচিনের সাহায্য পাওয়াটা যেন রূপকথার মতো।’ সত্যিই রূপকথা যিনি সত্যি করেছেন, সেই উত্তমবাবুর এখন একটাই ইচ্ছে— শচিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। সাক্ষাৎ না পেলে আবার চিঠি লিখবেন নিশ্চয়ই, ‘ধন্যবাদ শচিন, ইতি হেডস্যার’। সূত্র : আনন্দবাজার

আর/১৭:১৪/০১ জুন

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে