Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৪-২০১৬

টার্গেট কিলিংয়ে পলাতক ১১ জঙ্গি নেতা!  

টার্গেট কিলিংয়ে পলাতক ১১ জঙ্গি নেতা!

 

ঢাকা,১৪ জুন- জঙ্গিদের হাতে একের পর এক খুন হচ্ছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু খুনিদের ধরা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও খুনিদের টিকি ছুঁতে পারছে না। দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে এত মানুষ গ্রেফতার হচ্ছে। অথচ কিলাররা গ্রেফতার হচ্ছে না। এই কিলিং মিশনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের নেপথ্যেই বা কারা?
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর ঘটনায় বিশেষ তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দারা। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা দেখেছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জন জঙ্গি নেতা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এরাই নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত যত জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার হয়েছে তাদের অনেকেই এখন জামিনে ছাড়া পেয়ে বাইরে আছে। এরাও এসব অপরাধে অংশ নিচ্ছে।
গোয়েন্দারা এখন জঙ্গিদের বিষয়ে বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে। ঈদের পর শুধু জঙ্গিদের ধরার জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এখন গ্রেফতারের পর জামিনে থাকা জঙ্গিদের তালিকা, যেসব জঙ্গি ধরা পড়েনি তাদের তালিকাসহ বিভিন্ন রকমের তালিকা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার পর ৫ শতাধিক জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার হয়েছিল। এদের অধিকাংশই বর্তমানে জামিনে রয়েছে। গোয়েন্দারা তাদের খুঁজেও পাচ্ছে না। পাশাপাশি অনেক জঙ্গি সদস্য গ্রেফতারের পর জামিন পেয়ে লাপাত্তা।
পুলিশ সদর দফতরের একটি বিশেষ সেল জঙ্গিদের নিয়ে কাজ করছে। ওই সেলের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জন জঙ্গি নেতা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেই নেপথ্যের কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ। এদের মধ্যে চার জন ঢাকার হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, বরিশালের মাওলানা আবু বক্কর ওরফে সেলিম হাওলাদার, কিশোরগঞ্জের মুফতি শফিকুর রহমান ও কুমিল্লার মুফতি আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। কিন্তু এরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। এরা ২০০১ সালের পহেলা বৈশাখে রমনায় বোমা হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল। অন্য আসামিরা স্বীকারোক্তি দিয়ে এদের অংশ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে নিম্ন আদালত ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ৭ জঙ্গিকে ফাঁসি দিয়েছিল। পরে এরা হাইকোর্ট থেকে খালাস পেয়েছে। কিন্তু এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। খালাস পাওয়ার পর থেকেই তারা লাপাত্তা। তাদের খুঁজে পাচ্ছে না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এরাও আবার সক্রিয় হয়ে কলকাঠি নাড়ছে। এরা হলে- ঝিনাইদহের রবজেল হোসেন, একই জেলার আজিজুর রহমান, ইউনুস আলী ও আজিম উদ্দিন এবং গাইবান্ধার আবু তালেব আনসারী, খুলনার তরিকুল ইসলাম ও গাইবান্ধার মতিন মেহেদী। খালাস পাওয়ার পর এরা লাপাত্তা।

পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় ৫৬ জন জঙ্গির ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আরো তিনজনের। আপিল বিভাগ এক জঙ্গির বিষয়ে নিম্ন আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার আদেশ দিয়েছেন। আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে আরো তিন জঙ্গির মামলা। হাইকোর্ট ১৬ জন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। ১৫ জনকে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দিয়েছেন এবং ৭ জনকে খালাস দিয়েছেন। হাইকোর্টে এখন শুনানির অপেক্ষায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আরো ১৮ জঙ্গির মামলা। এই মামলাগুলো রাষ্ট্রপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এখন জঙ্গিদের নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। যখন জঙ্গিদের উত্থান হয়েছিল তখন বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়া হয়েছিল। জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাইসহ ৬ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর ও কিছু জঙ্গি গ্রেফতারের পর মনে হয়েছিল সব শেষ হয়ে গেছে। জঙ্গিদের আর সক্ষমতা নেই। বিষয়টি ভুল ছিল। এখন মনে হচ্ছে আরো গভীরভাবে তদন্ত করলে জঙ্গিদের ঠেকানো সম্ভব হতো। তবে এখন গ্রেফতার হওয়া বা পালিয়ে থাকা জঙ্গিদের প্রোফাইল তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রোফাইল ধরেই ঈদের পর অভিযান চলবে। জঙ্গিদের পুরো নেটওয়ার্ক তছনছ করে দেয়া হবে। দেশে জঙ্গিবাদের কোন অস্তিত্ব রাখা হবে না।

এ আর/ ১০:০৯/ ১৪ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে