Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৩-২০১৬

তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা

তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা

কুমিল্লা, ১৩ জুন- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে কুমিল্লা সিআইডি। সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রিপোর্টটি আদালতে জমা দেয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রবিবার ১২ জুন সকালে কুমিল্লা মেডিকোল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সকাল সাড়ে ১০টায় ফরেনসিক বিভাগের কর্মচারী ফারুক আহমেদ সিলগালা করা একটি খাম কুমিল্লা পুলিশ ভবনে অবস্থিত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে গিয়ে দিয়ে আসেন।

সেটি গ্রহণ করেন সিআইডির এএসআই মোশাররফ হোসেন। প্রতিবেদন জমার সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম কার্যালয়ে ছিলেন না। দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তকারী তিন সদস্যের চিকিৎসক দলের প্রধান ছিলেন ডা. কামদাপ্রসাদ সাহা। তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগেরও প্রধান।

ডা, কামদা প্রসাদ সাহা বলেন- ‘মেডিকেল টার্মে ধর্ষণ বলে কিছু নেই। এটা আইনি ব্যাখ্যা। ডাক্তারেরা ধর্ষণ বলে না। ডাক্তারেরা বলে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স (যৌন সংসর্গ)। আমরা কখনো ধর্ষণ বলি না।’ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তনুর মৃত্যুর আগে ‘যৌন সংসর্গের’ হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর তনুর মৃত্যুর ১০ দিন পর ফের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এ সময় তাঁর মরদেহ পচা-গলা ছিল। এ কারণে এ মৃতদেহ থেকে নতুন করে কোনো আঘাত বোঝা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে অধিকতর তদন্তে ‘সারকামস্ট্যান্স এভিডেন্স’ বিবেচনায় নিতে হবে। ‘যৌন সংসর্গের’ বলতে এ ক্ষেত্রে ধর্ষণ বোঝানো হচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ডা. কামদাপ্রসাদ সাহা বলেন, ‘ধর্ষণের ব্যাপারে মতামত চাইলে আমরা প্রতিবেদনে লিখি যৌন সংসর্গের হয়েছে কি হয়নি। তনুর ক্ষেত্রেও সে উত্তর দেওয়া হয়েছে।

কামদাপ্রসাদ সাহার পাশে বসা ময়নাতদন্ত দলের আরেক সদস্য ডা. ওমর ফারুক বলেন, ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স ও রেপ দুটো ভিন্ন জিনিস। সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সও রেপ হতে পারে।’ সাংবাদিকরা বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারাই বুঝে নেন।’ মৃত্যুর কতক্ষণ আগে এ ঘটনা ঘটেছিল—জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা জানা যায়নি।

গত ১৬ মে তনু হত্যা মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ রিপোর্টের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করে তারা ধর্ষণের আলামত পেয়েছে। এতে অন্তত তিনজন পুরুষ জড়িত ছিল।

জানা যায়- গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক। ওই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই প্রতিবেদনে তনুর মাথার জখমের কথা গোপন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মেডিকেল বোর্ড গঠন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেন। এরপর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কামদা প্রসাদ সাহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অপর দুই সদস্য হলেন একই কলেজের গাইনি বিভাগের প্রধান করুণা রানী কর্মকার ও ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক মো. ওমর ফারুক। ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর লাশ তোলার পর তাঁরা দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করেন। এরপর প্রতিবেদন দিতে কালক্ষেপণ করা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সময় তনুর শরীরের কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেসব নমুনা ও তনুর পরনের কাপড় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরে সিআইডি জানায়, ডিএনএ ফরেনসিক পরীক্ষায় তনুকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। তাতে পৃথক তিন ব্যক্তির বীর্য পাওয়া গেছে। ওই তিন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলও তৈরি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার মেডিকেল বোর্ডকে দেয় সিআইডি। পরবর্তীতে রোববার মেডিকেল বোর্ড সিআইডিকে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করার পর গতকাল সোমবার তা আদালতে জমা দেয়া হয়।

আর/১৬:৪৪/১৩ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে