Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১৩-২০১৬

সিলেট মহিলা কলেজ ছাত্রী সুবির মনে কি যন্ত্রণা ছিলো?

ইমরান আহমদ


সিলেট মহিলা কলেজ ছাত্রী সুবির মনে কি যন্ত্রণা ছিলো?

সিলেট, ১৩ জুন- জীবন একটাই। যে কারনে একজন মানুষের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান। মহামূল্যবান জীবনকে ঘিরে কি এমন যন্ত্রণা ছিলো সুবির- যে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যাই করতে হলো তাকে। সুবি সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী। এই সময়ে তারুণ্য দিপ্ত জীবন থাকে সবার। কিন্তু সুবির জীবনে কি এমন হতাশা ছিলো-যে দীপ্ত এই জীবনকে স্তব্দ করে দিতে হলো। তার সহপাঠি থেকে শিক্ষক- কেউই হিসেব মিলাতে পারছেন না আত্মহত্যার রহস্যের। তবে সহপাঠিরা বলছেন বেশ কিছুদিন থেকে সুবি চুপশে গিয়েছিলো। অনেকটা আনমনা থাকত সে। কারো সঙ্গেই ভালোভাবে মিশতে পারতনা। কলেজের মাত্র ১১ মাস ২১ দিন বসবাস করে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে তাকে। সুবির মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ির সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পাওয়া যায় সুবির বড় ভাই সুজেব মিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

সুবির গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। এইচএসসি পাশ করার পর বছর খানেক আগে সে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে অর্থনীতি (সম্মান) বিভাগে ভর্তি হয়। ভর্তির পরে কলেজের হোস্টেলে সিট পায় সে। মৃত্যুর আগপর্যন্ত হোস্টেলের পুরাতন ভবনের দ্বীতিয় তলার ২১০ নম্বর কক্ষে থাকত সুবি। এই কক্ষে সুবির আরো ৪ জন সহপাঠি থাকত। রমজান শুরুর পর থেকে রুমে অন্যান্য সহপাঠিরা বাড়ি চলে যায়। এর পর থেকে একাই রুমে থাকত সুবি। গত কয়েকদিন থেকে প্রায়ই বিমর্ষ দেখা যেত তাকে। কারো সঙ্গেই ঠিক মতো কথা বলতো না। অনেকটা। নিজের মধ্যে ডুবে থাকত সে। 

শেষ পরিনতিতে গতকাল রুমের তালা ভেঙ্গে সুবির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। সহপাঠিরা জানান, শনিবার রাতে হোস্টেলের অন্যান্য মেয়েদের সাথে সেহরী খায় সুবি। এর পর একাই রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে। 

রবিবার সারা দিন সে দরজা খুলেনি। ইফতারির সময়ও তাকে দেখতে পাননি সহপাঠিরা। যে কারনে ইফতার শেষে অনেকে খুঁজ করেন তাকে। প্রথমে অনেকেই মনে করেন সুবি হয়ত বাইরে ইফতার করছে। কিন্তু রুমের সামনে গিয়ে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখে প্রশ্ন জাগে। সবাই তখন দরজা ধরে ডাকতে থাকেন। 

কিন্তু সুবির কোন সাড়া নেই। রুমে আলো নেই। এতে প্রশ্নে উদয় হয়। একজন ঘুমন্ত মানুষকে জাগাতে যতটুকু চেষ্টা প্রয়োজন সবই করেন তারা। কিন্তু ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ নেই। ততক্ষনে সুবির দরজার সামনে অপেক্ষমান সবার কপালে চিন্তার ভাজ। 

সহপাটি ফরজানা, তাহমিনা রুমের জানালা দিয়ে দেখতে পায় সুবির ঝুলন্ত লাশ। ঝুলন্ত লাশের খবর বলার সাথে সাথেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে উঠেন সকলেই। খবর দেয়া হয় কলেজের অধ্যক্ষ ও হোটেল সুপার সহকারি অধ্যাপক জামালুর রহমানকে। অধ্যক্ষের নির্দেশে ডাকা হয় পুলিশকে। পুলিশ এসে দরজা ভেঙেগ উদ্ধার করে সুবিকে। কিন্তু ততক্ষনে নিজের সময়কে নিজেই স্তব্ধ করে দিয়েছে সে। 

রবিবার রাতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলছে সুবির দেহ। গলায় ওড়না পেছিয়ে কোন একে সময় ফাঁস নেয় সে। প্রাথমিক অবস্থায় আত্মহত্যারই আলামত পেয়েছে পুলিশ। 

তবে পুলিশের ক্রাই সিম ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশও নেয়া হয়েছে ওসমানী হাসপাতালে। কলেজের পরিচিতরা কেউই বুঝতে পারছেন না কি কারনে আত্মহত্যা করলো সুবি। মৃত্যুর আগে কোন সুসাইড নোটও রেখে যায়নি সে। তবে সুবির সহপাঠি থেকে পরিবার সবাই ঘটনার সাঠিক তদন্ত দাবি করেছেন। যাতে পক্রিত রহস্য উন্মুচন ঘটে এ জন্য যতা পদক্ষেপও দাবি করেছেন অনেকে।

আর/১৬:৪৪/১৩ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে