Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১২-২০১৬

যেভাবে পদ হারালেন মন্ত্রী মেনন

যেভাবে পদ হারালেন মন্ত্রী মেনন

ঢাকা, ১২ জুন-২০০৯ সালে রাশেদ খান মেনন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন। ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চার বার এডহক কমিটি গঠিত হয়, যার মেয়াদ ছিলো ৬ মাস করে। এরপর এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২ বার বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, যার মেয়াদ ছিলো ২বছর করে।

বিশেষ কমিটি ও এডহক কমিটির বৈধতার বিষয়ে রাশেদ খান মেননসহ বিবাদীদেরকে কয়েকবার আইনী নোটিশ প্রেরণ করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। এতেও কাজ না হলে তিনি উচ্চ আদালতে সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ স্কুল কমিটির বিরুদ্ধে রিট মামলা করেন। মামলার শুনানী শেষে কয়েকবার এ বিষয়ে আদালত রুল জারী করেন। সে রুলেও সাড়া না দেওয়ায়, আইনী লড়াই চলে ইউনুছ আলী আকন্দের।
সর্বশেষ গত ১ জুন হাইকোর্ট এ মামলার রুল নিষ্পত্তি করে ভিকারুন্নেসার নুন স্কুল এ্যান্ড কলেজের বিশষ কমিটি বাতিল, বিশেষ কমিটি গঠনের ধারা ৫০ বাতিল, এমপিরা প্রত্যেকে ৪টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানের ধারা ৫ বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এ আদেশের স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বার আদালতে যায় ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি ও ভিকারুন্নেসা কর্তৃপক্ষ। চেম্বার আদালত হাইকোর্টের সে রায় স্থগিত না করে আপিল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। আজ শুনানী করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। মেননের আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ হয়ে যায়।

আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি পদে সংসদ সদস্যদের থাকার বিধান রহিত করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল থাকলো। তবে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে দায়িত্ব পালনে বাঁধা থাকা থাকবে না এমপিদের। আদালতের এ রায়ের ফলে ভিকারুননেসার গভর্নিং বডির সভাপতির পদে থাকতে পারছেন না মেনন। এ বিষয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, আদালতের আদেশের ফলে গত ১ জুন থেকেই এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে এমপিরা আইনগতও নৈতিকভাবে বৈধতা হরিয়েছেন।

জানা যায়, ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে। ২০০৯ সালে আইন হলে ৫৩ ধারা মতে সকল কমিটি বাতিল করে শুরু হয় এডহক কমিটি ও বিশেষ কমিটি গঠনের মহড়া। ইউনুছ আলী বলেন, ভিকারুন্নেসায় ৬ বার কমিটি, ৪ বার এডহক কমিটি ও ২ বার বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। প্রথম এডহক কমিটি গঠন হয় ২০১১ সালের ১৪ জুলাই। ২য় এডহক কমিটি গঠন হয় ২০১২ সালে পরে এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয় এবং রুল জারী ইস্যু হয়। ৩য় বিশেষ কমিটি গঠিত ২ বছরের জন্য গঠিত হয়। ৪র্থ এডহক কমিটি গঠিত হয় ২০১৫ সালে। (হাইকোর্টের রুল পেন্ডিং থাকাবস্থায়) ৬ষ্ঠ বিশেষ কমিটি গঠিত হয় ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে(রুল পেইনন্ডিং থাকাবস্থায়)।

ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, এরপর ৭ম বিশেষ কমিটি গঠন বাতিলের আবেদন করি। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারীতে। রুল হয় ১৯ জানুয়ারী।

এরপর চলতি বছরেই এমপিদের চেয়ারম্যান পদে থাকার ধারা ৫ বিশেষ কমিটি গঠনের ধারা ৫০ এর বৈধতা চ্যালেঞ্চ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এই আইনজীবী। রুল জারী হয় ৬ এপ্রিল। এরপর ভিকারুন্নেসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মঞ্জু আরা বেগমকে ২ বছরের জন্য নিয়োগ দেয় সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এ নিয়োগের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্চ করে হাইকোর্টে রিট করেন ইউনুছ আলী অকন্দ। শুনানী শেষে আদালত মঞ্জু আরার চাকুরী অবৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু হাইকোর্টের এ আদেশ অমান্য করে মামলার বিবাদীগন অভিযোগ ইউনুছ আলী আকন্দের। তার মধ্যে মঞ্জু আরা বেগম ও রাশেদ খান মেনন অন্যতম।
এর আগে ২০১৫ সালে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ চেম্বার জজ আদালতে মুচলেকা দিয়ে যায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন দেয়ার বিষয়ে মুচলেকা দিয়ে যান। এরপর এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলেও তারা স্কুলে নির্বাচন দেয়নি। এই আইনজীবী বলেন, এরা বিচারপতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

আজ এ মামলার লিভ টু আপিলের শুনানীতে রাষ্ট্রপক্ষ ও ভিকারুন্নেসার পক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি‌ জেনারেল অপরদিকে আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।

এ আর/ ১৭:৩৮/ ১২ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে