Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১২-২০১৬

২০৩৫ সালের মধ্যেই ২০ শতাংশ বনভূমি

২০৩৫ সালের মধ্যেই ২০ শতাংশ বনভূমি

ঢাকা,১২ জুন- ২০৩৫ সালের মধ্যেই দেশের মোট ভৌগোলিক এলাকার ২০ শতাংশ বনভূমি এবং সারাদেশের শতভাগ ভূমিকে বৃক্ষ আচ্ছাদিত করতে চায় সরকার। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায়  এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 

সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই বন ব্যবস্থাপনার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
 
এ লক্ষ্যে ‘জাতীয় বন নীতি ২০১৬’ এর খসড়া তৈরি করেছে বন অধিদফতর। এ খসড়া নীতির ওপর মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করবে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। এটি চূড়ান্ত হলে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।
 
এর আগে ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ বনভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। তবে গ্রামীণ বনায়ন ফলপ্রসু হলেও জনসংখ্যার চাপ এবং আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় বনভূমি সংরক্ষণের এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। দিনের পর দিন বনজ সম্পদ উজাড় হওয়ায় এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বনজ সম্পদের রুপান্তর দেখা দেয়।

এটি রোধ করতে নতুন করে ২০৩৫ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২০ শতাংশ বন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   
    
খসড়া নীতমালায় বলা হয়, ‘ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে জনসংখ্যার বাড়তি চাপের মুখে বন উজাড় হওয়া ও এ সম্পদের ক্ষয় রোধ বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় আধুনিক বন নীতি প্রয়োজন। প্রস্তাবিত খসড়া নীতি বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের ২০ শতাংশ এলাকা বনভূমি ও শতভাগ ভূমিকে বৃক্ষ আচ্ছাদিত করা সম্ভব হবে’।

বর্তমানে দেশের মোট ভৌগোলিক এলাকার ১৭ শতাংশে সামাজিক বনায়নসহ বনভূমি রয়েছে।
বন অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে পাহাড়ি বন প্রায় ১৩ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টর, যা দেশের আয়তনের ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে বন অধিদফতর নিয়ন্ত্রিত পাহাড়ি বনভূমির পরিমাণ ৬ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর, যা বন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৪৪ শতাংশ।
পৃথিবীর একক বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন হচ্ছে আমাদের সুন্দরবন। এ বনের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ০১ হাজার ৭০০ হেক্টর, যা দেশের আয়তনের ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং বন অধিদফতর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৩৮ দশমিক ১২ শতাংশ।}

উপকূলীয় এলাকার বনের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর, যা দেশের আয়তনের ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং বন অধিদফতর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
 
হাওড় বা জলাভূমির বনের পরিমাণ ২৩ হাজার হেক্টর, যা দেশের মোট ভূমির শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ এবং বন অধিদফতর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। রাতারগুলের বনের আয়তন ৫০৪ একর।

এদিকে গ্রামীণ ভূমির প্রায় ৫০ শতাংশ বৃক্ষ আচ্ছাদিত বন রয়েছে।
 
এ অবস্থায় বন বিভাগের ভিশন ও মিশন হচ্ছে- আধুনিক প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে বন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বন সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ।

খসড়া নীতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের জীবন ব্যবস্থার সঙ্গে প্রকৃতি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে। তাই নবায়নযোগ্য টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় আইন-কানুন প্রয়োগ করে বাস্তবসম্মতভাবে নীতি কার্যকর করা হবে’।
 
‘হারিয়ে যাওয়া বন পুনরুদ্ধার এবং দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন স্থিতিশীল অবস্থানে রাখা,  খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব বন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি চিহ্নিত করবে এই পলিসি’।
 
‘কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে বন সম্পদের অপব্যবহার রোধ, বনের রূপান্তর নিয়ন্ত্রণ করা, বনজ সম্পদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ, মানচিত্র তৈরি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করা এবং আর্থ-সামাজিক পরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করা হবে’।
 
নীতিমালায় আরো বলা হয়, ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনে নতুন আইন ও বিধি তৈরি করে বন শাসন নিশ্চিত করা হবে। আর্থ-রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জবাবদিহিতামূলক সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে’।

এ আর/ ০৯:৩৬/ ১২ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে