Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১১-২০১৬

‘বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসা ছিল মোহাম্মদ আলীর’

‘বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসা ছিল মোহাম্মদ আলীর’

ওয়াশিংটন, ১১ জুন- বাংলাদেশ সফরের আহ্বান ফেরাননি মোহাম্মদ আলী। কিভাবে এ দেশের মানুষের ভালোবাসার জবাব দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী, তা নিয়ে গার্ডিয়ান পত্রিকায় লিখেছেন সাংবাদিক ও লেখক রেজিনাল্ড ম্যাসে।

তিনি আলীর ওই সফর নিয়ে বাংলাদেশ আই লাভ ইউ নামের প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন।

ম্যাসে অনেক চেষ্টার পরই ১৯৭৮ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে আলীকে বাংলাদেশ সফরে রাজি করাতে পেরেছিলেন। আলী শুরুতে বলেছিলেন, লিওন স্পিংকসের সঙ্গে শিরোপার লড়াইটা শেষ করে তিনি বাংলাদেশে আসতে চান। কিন্তু লিওনের সঙ্গে সামান্য ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন আলী। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ম্যাসে তাঁকে ফোন করে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা মনে করিয়ে দিলে আলী বলেন, পরাজয়ের এই গ্লানি নিয়ে তিনি বাংলাদেশের ভক্তদের মুখোমুখি হতে অনিচ্ছুক।

ম্যাসে তখন আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এখনো তোমাকেই দ্য গ্রেটেস্ট হিসেবে ভালোবাসে। ওখানে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র চাষি পর্যন্ত সবাই আলীকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।’

আলী তখন বরাবরের মতো ঠাট্টাচ্ছলে নিচু গলায় বলেন, ‘ভাই রেজিনাল্ড, আপনি মন থেকে বলছেন তো?’ জবাবে ম্যাসে বললেন, ‘আল্লাহ কসম, মন থেকে বলছি।’ তখন আলীর উত্তর, ‘ঠিক আছে। আমি যাব।’

আলী কথা রেখেছিলেন। ১৯৭৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এসে সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন। চার দিনের সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হয়েছিলেন তাঁর তখনকার স্ত্রী ভেরোনিকা এবং কয়েকজন বন্ধু।

তবে বছর কয়েক পর একই ধাঁচে ইন্ডিয়া আই লাভ ইউ নামে আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র বানানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ম্যাসে। ইন্দিরা গান্ধী তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সবকিছু ঠিকমতোই চলছিল। কিন্তু আচমকা বাদ সাধল আন্তর্জাতিক রাজনীতি। নির্ধারিত ওই সফরে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) থাকাকালে আলীর কাছে হোয়াইট হাউস থেকে একটি টেলিফোন এল- কথা বলবেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। আলী সসম্মানে সটান দাঁড়িয়ে ফোনে বললেন, ‘ঠিক আছে মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি এখানে সবকিছু বন্ধ করে দিচ্ছি।’

সবগুলো মুসলিম দেশকে মস্কো অলিম্পিক বর্জনের আহ্বান জানাতে আলীকে অনুরোধ করেছিলেন জিমি কার্টার। কারণ, এক ঘণ্টা আগে আফগানিস্তানে সেনা পাঠিয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। আলী বললেন, ‘আমার প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দিয়েছেন। আমি অবশ্যই তাঁকে মান্য করি।’

তিন ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন কমান্ডোরা একটি উড়োজাহাজ নিয়ে হাজির। আলীকে সপরিবারে নিয়ে উড়ে গেল বিমানটি। আর ম্যাসের চলচ্চিত্রটি ভেস্তে গেল।

এ আর/০৯:৪৯/ ১১ জুন

 

অন্যান্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে