Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-১১-২০১৬

‘ইশা’র বাবায় আমার বাবা-মারে মারছইন’

‘ইশা’র বাবায় আমার বাবা-মারে মারছইন’

সিলেট, ১১ জুন- সিলেট নগরীর টিলাগড়ে প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত দম্পতির একমাত্র সন্তান স্নেহা বাবা-মায়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেনা। স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী স্নেহা রায়কে শুক্রবার দুপুরে অসুস্থাবস্থায় বাবা-মায়ের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের জন্য আনা হয় বাড়িতে। তখনই তাকে প্রথমবারের মতো শোনানো হয় বাবা-মা’র মৃত্যুসংবাদ। স্কুল ছাত্রী স্নেহা এ খবর শোনা মাত্রই চিৎকার করে ওঠে। আর সে বলতে থাকে- ‘‘ইশা’র বাবায় আমার বাবা-মারে মারছইন’’।

শুক্রবার দুপুর ১টায় স্নেহাদের নিপোবন আবাসিক এলাকার বাড়িতে শুরু হয় স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরজিত রায় ও তার স্ত্রী দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাসের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান। দুপুর তিনটায় শেষ হয় এ অনুষ্ঠান।

নিহত দম্পতির একমাত্র সন্তান স্নেহা এসময় সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি নিজ হাতে সম্পন্ন করে। শারীরিক অসুস্থাবস্থার কারণে সে চেয়ারে বসে বসে অংশ নেয় এসব অনুষ্ঠানে। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের কার্যাদি শেষে স্নেহা কিছু সময় বিশ্রাম নেয়।

এসময় স্নেহার সাথে চিকিৎসক ময়ূখ চৌধুরী মাহী ও তার ভাই রাহি ছিলেন। 

পরে তাকে আবার সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এখন সে তৃতীয় তলার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।

এদিকে স্নেহার আত্মীয় রাজ কুমার দাস তনু বলেন, স্নেহার মাসী সম্পা দাস বর্তমানে তার সাথে আছেন। রাজ কুমার জানান, দুর্ঘটনার দিন থেকে ৪১ তম দিবসে নিহত দম্পতির বাড়িতে বৈষ্ণবসেবা অনুষ্ঠিত হবে।

স্নেহার স্বজনরা জানান, ইশা হচ্ছে স্কলার্সহোম স্কুলের এক শিক্ষার্থী। যে প্রাইভেট কারটির সাথে স্নেহাদের বহনকারি সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয় ওই কারটি ইশার বাবার। স্নেহার স্বজনরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ইশার বাবা চালকের আসনে ছিলেন। 

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় দিকে টিলাগড় শাহ মাদানি ঈদগাহের সামনে মর্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার সময় বাসা থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে নিহত স্কলার্সহোমের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরজিত রায় ও তার স্ত্রী দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাস মেয়ে স্নেহাকে নিয়ে ঈদগাহস্থ স্কলার্সহোম স্কুলের উদ্দেশ্যে আসছিলেন।

এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অরজিত রায়। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সুমিতা দাসকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আর/০৪:০৩/১১ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে