Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৯-২০১৬

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বগালেক

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বগালেক

বাংলাদেশের আকর্ষনীয় প্রাকৃতিক স্থানগুলোর  একটি বান্দরবানের বগালেক। এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির হ্রদ। আয়তন প্রায় ১৫ একর।

বগালেক বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত। জেলা শহর থেকে ৬৯ কিলোমিটার দূরে। রুমা বাজার থেকে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় ও আরাম প্রিয় দুই ধরনের ভ্রমনকারীদের আছে দুটি পথ। প্রথম গ্রুপ পায়ে হেঁটে দ্বিতীয় গ্রুপ চাঁন্দের গাড়িতে। তবে, দুটি কাজ আপনাকে করতেই হবে এক, একজন গাইড সঙ্গে নিয়ে যাওয়া। দুই, রুমা আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করা।

বগালেক নিজেকে ধরে রেখেছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭০০ ফুট উচ্চতায়। আকাশের এত কাছাকাছি যেন শান্তজলের হ্রদ আকাশের কাছ থেকে একমুঠো নীল নিয়ে নিজেও ধারণ করেছে সে বর্নিল রং।

পায়ে হেঁটে যাবেন এ কথা ভাবলে ধরে নিন আপনাকে ৩.৩০-৪.৩০ মিনিটের মত হাঁটতে হবে। এসময় আপনাকে অতিক্রম করতে হবে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড়।আর চাঁন্দের গাড়ি? সুধুমাত্র ২ ঘন্টা থেকে ২.৩০ মিনিট।চাঁন্দের গাড়িতে একটু ভয় পাবেন। কারণ মাঝে মাঝে বাঁকা হয়ে এত উপরে উঠতে থাকে যে ভয় না পেয়ে থাকা যায় না। তবে পাহাড়ী কলা, জুম ও অন্যান্য নানা রকম নাম না জানা ফল ও গাছ আপনাকে অবশ্যই আন্দলিত করবে। এভাবেই একসময় বগালেক পাড়াতে গিয়ে পৌঁছবেন। সেখান থেকে ট্রাকিং করে উপরে উঠতে হবে যাতে আপনার সময় লাগবে ব্যক্তি ভেদে ৩০/৪৫ মিনিট।

বগালেকের জন্ম নিয়ে স্থানীয়ভাবে দুটি মজার তথ্য প্রচলিত আছে। তবে দুটি তথ্যের মধ্যে অনেকটাই সাদৃশ্য রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে, যে ‘কয়েক হাজার বছর আগে এখানে একটি সুরু আকৃতির পাহাড় ছিল। দুর্গম পাহাড়ে ঘন বন। পাহাড়ের বাস করত আদিবাসীরা যাদের মধ্যে ছিলো, বম, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা ইত্যাদি। পাহাড়ি গ্রাম থেকে প্রায়ই আদিবাসী বা ছোট বাচ্চারা ও গবাদিপশু ওই সুরু পাহাড়টিতে হারিয়ে যেত। গ্রামের সাহসী আদিবাসীদল কারণ খুজতে গিয়ে সন্ধান পায়, সেই পাহাড়ের চূড়ার গর্তে বাস করে এক ভয়ঙ্কর বগা (আদিবাসী ভাষায় বগা অর্থ-ড্রাগন)। তারা সম্মলিতভাবে ড্রাগনটিকে হত্যা করে ফেলে। ফলে ড্রাগনের গুহা থেকে ভয়ঙ্কর গর্জনের সঙ্গে আগুন বেরিয়ে আসে। মূহুর্তেই পাহাড়ের চূড়ায় অলৌকিক এক লেকের জন্ম হয়।’

আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ‘বগালেকের পাশে একটি বম পাড়া বগামুখপাড়া ও একটি মুরং পাড়া আছে। স্থানীয় আদিবাসীদের উপকথা অনুযায়ী, অনেক কাল আগে পাহাড়ের গুহায় একটি ড্রগন বাস করতো। বম ভাষায় ড্রাগনকে “বগা” বলা হয়। ড্রাগন-দেবতাকে তুষ্ট করতে স্থানীয়রা গবাদী পশু উৎসর্গ করতেন। কিন্তু একবার কয়েকজন এই ড্রাগন দেবতাকে হত্যা করলে চূঁড়াটি জলমগ্ন লেকে পরিণত হয় এবং গ্রামগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে।

যদিও এই উপকথাগুলোর কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই, তবুও উপকথার আগুন উদগীরণকারী ড্রাগন বা বগা এবং হ্রদের জ্বালামুখের গঠন মৃত আগ্নেয়গিরির ধারণাটির সাথে মিলে যায়।

এখানে থাকার কোন ভাল ব্যবস্থা নেই। তবে স্থানীয় কিছু কিছু আদিবাসীরা টাকার বিনিময়ে থাকার সুযোগ দিয়ে থাকে।

এ আর/ ১১:১৬ / ০৯জুন

পর্যটন

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে