Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-০৯-২০১৬

সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ০৯ জুন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে হত্যাসহ ঘটে যাওয়া গুপ্তহত্যাগুলো পরিকল্পিত।

তিনটি সফল ও গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক সফরের পরিবর্তে দেশজুড়ে গুপ্তহত্যা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে কেন, এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরণের প্রতিটি হত্যার প্রক্রিয়া একরকম। বিভিন্ন হত্যায় বিভিন্ন সংগঠন দায় স্বীকার করলেও, আমরা সবাই জানি কারা এর আগে বলত, বৃষ্টির মতো গুলি কর। মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী। এরাই হত্যাগুলো ঘটাচ্ছে। এরা আগে প্রকাশ্যে মানুষ পুড়িয়েছে, এখন কৌশল পাল্টে গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে তারা।’

তিনি আরো বলেন, জনমনে ভীতি তৈরির জন্যই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটানো হচ্ছে। তবে সরকার বসে নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া যারা চায়নি তারাই হত্যাকাণ্ড করছে। আর এতে ‘সফট টার্গেট’ হচ্ছে মানুষ।

শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামে সন্ত্রাসের স্থান নেই। শেষ বিচার আল্লাহ করবেন। যারা ধর্মের নামে হত্যা চালায় তারা আসলে ধর্মে বিশ্বাস করে না। এভাবে মানুষকে হত্যা করে ইসলামকে কলুষিত করা হচ্ছে। কিছু ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর জন্য মুসলিম উম্মাহ হেয় হচ্ছে।

পরিবারের কেউ ওই পথে যাচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের সচেতন হতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সন্ত্রাসীরা মানুষ পোড়ানোর সময় জনগণ যেমন তাদের প্রতিহত করেছিল, একইভাবে দেশজুড়ে জঙ্গিরা কোথায় বসে পরিকল্পনা করছে তা বের করে তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার কথা বলেন তিনি।

সৌদি আরব সফরে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী ভূমিকায় সৌদির আহ্বানে সাড়া দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, মক্কার কা’বা শরীফ ও মদীনায় মসজিদের নিরাপত্তা দিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ। জঙ্গিবাদ বিরোধী অবস্থানে সৌদি আরবসহ যে কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশ থাকবে।

গুপ্তহত্যায় জামায়াত-বিএনপিকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত - এমন কথা বলছেন অনেকে। এতে আসল জঙ্গিরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এসব বলছে তারা যদি জানেন এই আসল জঙ্গিরা কারা, তবে দয়া করে আমাদের তথ্যটি জানান। যারা এই দু’টি রাজনৈতিক দলের অপরাধগুলো ঢাকতে চায় তারা এসব কথা ছড়াচ্ছে।’ এখানে তিনি যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও বাংলাভাইসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরেন।

‘এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট। আমার কাছে তথ্য আছে বলেই নিশ্চয়ই আমি কথাগুলো বলেছি। সব তথ্য সবসময় প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু তথ্যের ভিত্তিতেই কথাগুলো বলা হয়,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা বাংলাদেশের ব্যাপারে নেতিবাচক কথা বলছে এতে আমাদেরই অনেকে দায়ী। বাঙালি জাতি পরচর্চা করতে ভালোবাসে। আমাদেরই অনেকে তাদের কাছে গিয়ে পরচর্চা করতে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসে। এতে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশিদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।’ তাই এসব ব্যাপারে সংযত হয়ে দেশের ইতিবাচক কথাগুলো তুলে ধরতে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘর্ষ ও হতাহতের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী গোলযোগ বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। এর আগে সব সরকারের সময় সব নির্বাচনেই এমন অনেক কিছু হয়েছে। ইসি আওয়ামী লীগের এমপির মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যেই সংঘাত সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। তবে এটি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতীক বরাদ্দের কারণে ইউপি নির্বাচনে এত সহিংসতা হয়েছে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতীক দেয়ার কারণেই তৃণমূল রাজনৈতিক পর্যায়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিয়ে তাদের ধরণের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের কাজ পাকিস্তান করেছে। পাকিস্তানের ভূমিকায় স্পষ্ট, যুদ্ধাপরাধীরা আসলেই বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা চায়নি।

মার্কিন প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফোর্বস-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের ৩৬ তম ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে স্থান দেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কাজ করি দেশের জন্য, দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য। কে কত র‌্যাংকিং দিলো তাতে আমার কিছু আসে যায় না। দেশের মানুষ ভালো থাকলেই আমি খুশি থাকব। দেশের মানুষ উন্নত হচ্ছে, বিশ্বে পরিচিতি পাচ্ছে, এটাই আমার সম্মান।’

তিনি বলেন, ‘এখনো বাংলাদেশের বহু মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে। তাদের জন্য অন্তত একটা স্থায়ী আশ্রয়, খাবার আর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলেই আমি খুশি হবো। দেশের মানুষের উন্নয়ন করতে পারলে সেটাই হবে আমার পুরস্কার।’

শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকের বিনিয়োগের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে সৌদি আরবে ২০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করছে। শুধু শ্রমিক পাঠানো নয়, সৌদি ব্যবসায়ীরা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও সফরে কথা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সৌদি আরব সফর ফলপ্রসূ হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ছাড়াও অন্যান্য উচ্চ পদে দক্ষ, অর্ধদক্ষ ও পেশাজীবী লোক নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

সৌদি আরব সফর শেষে গণভবনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এবারের সৌদি আরব সফরে ফরেন কনসালটেন্সির ব্যাপারে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। রিয়াদে চ্যান্সেরি ভবন ও রাষ্ট্রদূত ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতির কথাও জানান তিনি।

এছাড়াও তার সাম্প্রতিক বুলগেরিয়া ও জাপান সফর নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরপর তিনটি সফরকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বুলগেরিয়া সফরে চারটি সমঝোতা স্মারক সইসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করেন। জাপানে জি৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।

আর/০৭:১৪/০৯ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে