Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৯-২০১৬

মানবপাচারে অভিযুক্তরাই ওমরার দায়িত্বে!

মানবপাচারে অভিযুক্তরাই ওমরার দায়িত্বে!

ঢাকা, ০৮ জুন- সৌদি সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি পাওয়া এজেন্সির মালিকদেরই আবার ওমরা হজ কোটার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  শুধু তাই নয়, মন্ত্রিসভায় ২০১৬ সালের অনুমোদিত হজ ও ওমরা নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করে অতিরিক্ত ওমরাযাত্রী পাঠানোরও অনুমতি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

মানব পাচারের অভিযোগে গত বছর সৌদি আরব বাংলাদেশি ওমরাযাত্রীদের ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে দেশটির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি আরব। কিন্তু কৌশলে আবার ওই সব এজেন্সির মালিকদেরই ওমরা হজের কোটা বরাদ্দ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সরাসরি না দিয়ে দণ্ডিত এজেন্সির মালিকদের অন্য এজেন্সি বা তার পরিবারের সদস্যদের এজেন্সির নামে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ছিল, মানব পচারের অভিযোগে দণ্ডিত কোনো এজেন্সি ওমরা হজযাত্রী পাঠাতে পারবে না।

এদিকে ২০১৬ সালের হজ ও ওমরা নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ওমরা এজেন্সি সর্বোচ্চ ৫০০ জন ওমরাযাত্রী সৌদি আরব পাঠাতে পারবে।  কিন্তু দণ্ডিত কোনো কোনো এজেন্সিরই সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে ৫০০ ওমরাযাত্রীর বেশি পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয় নীতিমালা ভঙ্গ করে।  কোনো কোনো এজেন্সিকে দেড় থেকে দুই হাজার ওমরাযাত্রী পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আব্দুল জলিল বলেন, দণ্ড পাওয়া এজেন্সিগুলোর আপিলের শুনানির পর তাদের ১৯ জনের আপিল আবেদন বিবেচনা করেছে কর্তৃপক্ষ।  শাস্তি পাওয়া যারা ওমরায় যাত্রী পাঠাচ্ছেন তারা মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন।

নীতিমালা ভঙ্গ করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মসচিব মো. আব্দুল জলিল বলেন, “নীতিমালায় বলা আছে ৫০০ ওমরাযাত্রী পাঠাতে পারবে একটি এজেন্সি। তবে সরকার মনে করলে এই সংখ্যা হ্রাস বা বৃদ্ধি করতে পারবে।” মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ১৯টি এজেন্সির শাস্তি শিথিল করা হয়েছে।  তবে কাউকে পুরোপুরি মওকুফ করা হয়নি।  চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণের পরেও হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠনের (হাব) নেতার এজেন্সি এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনালকেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ওমরার নামে মানব পাচারের অভিযোগে গত বছরের  ২২ মার্চ বাংলাদেশের ওমরা ভিসা বন্ধ করে দেয় সৌদি সরকার।  অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করে দেশটি।

সৌদি সরকারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় তদন্ত করে ১৪ ডিসেম্বর ১০৪টি এজেন্সিকে জরিমানা করে।  পাশাপাশি এসব এজেন্সির ওমরাযাত্রী পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।  এরপর সৌদি সরকার ওমরা ভিসা খুলে দেয় ১৪ ডিসেম্বর।

সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়া এজেন্সিগুলোর মধ্যে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়শেন অব বাংলাদেশ (হাব) নেতাদেরও এজেন্সি ছিল। তাদের এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল হলে তারা এবার নতুন করে তাদের বা তাদের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়ের এজেন্সিগুলোর নামে বরাদ্দ নেন।

মানব পাচারের অভিযোগে হাবের যেসব নেতার এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল হয় সেগুলো হলো হবের সভাপতি ইব্রাহিম বহারের মেগাটপ ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহর সাঞ্জারি ট্রাভেলস, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হেলাল উদ্দিনের মুনা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, ভাইস প্রেসিডেন্ট ফরিদ আহমেদ মজুমদারের গোল্ডেন বেঙ্গল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং হাব চট্টগ্রামের নেতা শাহ আলমের গাল্ফ ট্রাভেলস, ঢাকা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হাব মহাসচিব শেখ মো. আব্দুল্লাহর এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল হলে তার স্ত্রীর মালিকানাধীন এজেন্সি ইউরো বেঙ্গল ট্রাভেলস অ্যান্ড টুরিজম এবার বরাদ্দ পেয়েছে দেড় হাজার ওমরাযাত্রীর। হাব চট্টগ্রামের নেতা শাহ আলমের গাল্ফ ট্রাভেলস ঢাকা বন্ধ হলে গাল্ফ ট্রাভেলসের নামে এক হাজার বরাদ্দ পায়। হাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হেলাল উদ্দিনের মুনা ট্রাভেলসের লাইসেন্স বাতিল হলে ভিন্ন নামে মোজদালিফা অ্যাভিয়েশনের নামে বরাদ্দ নেন এক হাজার।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাবের সভাপতি ইব্রাহিম বহার বলেন, “১৯টি এজেন্সির শাস্তি শিথিল করেছে মন্ত্রণালয়। এ কারণে আমরা এজেন্সি লোক পাঠাতে পারছি।” অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি তিনি।  হাবের মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ ঢাকাটাইমসকে বলেন, “আদালত থেকে রায় পাওয়ার পর আমরা লোক পাঠাতে পারছি। এখনো পুরোপুরি পাইনি।”

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে