Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-০৭-২০১৬

রোজায় যানজটে নাকাল নগরবাসী

রোজায় যানজটে নাকাল নগরবাসী

ঢাকা, ০৭ জুন- বৃষ্টি পড়ছে। সেই সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস ওঠার মতো দশা। কোথাও দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থেকে যে রেহাই পাবেন, সে অবস্থাও যেন নেই। ভিজছে ট্রাফিক পুলিশ, ভিজছে মোটরসাইকেল আরোহী, রিকশা কিংবা বাসের যাত্রীরা। পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই যানজটে নাকাল নগরবাসী। আজকের রাজধানীর চিত্র এটি।

রাজধানীর প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সকাল থেকে অসহনীয় যানজটে কর্মমুখী মানুষদের অবস্থা নাজেহাল। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে রাস্তায় যেন তিল ধারণের জায়গা নেই। এক জায়গায় দাঁড়িয়েই ঘণ্টা পর ঘণ্টা পাড়। সহসা যানজট কমারও যেন কোনো লক্ষণ নেই। মঙ্গলবার বিকেলে অফিস ফেরত রোজাদার নগরবাসীকে সব চেয়ে বেশি নাজেহাল হতে হয়।


সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন, রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, উত্তরা, শাহবাগ, ফার্মগেট, মগবাজার, আজিমপুর, কমলাপুর, খিলগাঁও, শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলী, আমিনবাজার, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকার রাস্তাগুলোতে সকাল থেকেই তীব্র যানজট লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে বলা হয়, সবচেয়ে বড় কারণ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ড্রেনেজ সিস্টেমের কাজ শুরু করেছে কাকলী ও বনানীতে। ট্রাফিক নির্দেশনা না মেনেই উত্তর সিটির ইঞ্জিনিয়ার ও কন্ডাক্টররা প্রধান সড়ক কেটে উপরে লোহার স্লিপার বসিয়েছেন। সে কারণে পুরো কাকলী ও বনানীতে যানবাহনের গতি ধীর। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বেশে কয়েকটি রুটে।


ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বলছেন, সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তায় এমনিতে বেহাল দশা। তার মধ্যে বৃষ্টিতে খানাখন্দ ভরে গেছে বৃষ্টির পানিতে। তার উপর রোজাদার যাত্রী ও অফিস থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ যেন একটু বেশিই। সবমিলে ট্রাফিক পুলিশের আরো অবনতি হয়েছে।

জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মামুন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকা থেকে জানান, পুরো রাস্তায় যানজট। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে নাকাল যাত্রী সাধারণ।

হাতিরঝিলে মোটরসাইকেল আরোহী মিজানুর রহমান জানান, পুরো হাতিরঝিল এলাকায় যানজট। বৃষ্টিতে ভিজে যানজটের কারণে শত শত মোটরসাইকেল আরোহীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।


হাতিরঝিলের বাসস্টপেজেও যাত্রীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও বাস আসার কোনো নাম নেই। পুরো রাস্তা যানজটে বন্ধ হয়ে পড়ায় বৃষ্টিতে ভিজেই যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বনশ্রীর গাড়ি এবং সোজা রাস্তার গাড়ির চাপে পড়ে বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্মজীবী মানুষদের প্রতিদিনই এই যানজটের শিকার হতে হয়। মূল সড়কে যানজট থাকায় পার্শ্ববর্তী অলিগলিতে প্রাইভেটকার ও সিএনজি নিয়ে ঢুকে পড়ায় সেখানেও যানজটের সৃষ্টি হয়।

যানজট কমানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মধ্যে। ট্রাফিক পুলিশের Traffic Awareness/ ট্রাফিক সচেতনতা নামক একটি ফেসবুক পেজে যানজটের আপডেট তথ্য দিয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারে নির্দেশনা দেয়া হয়।

সেখানে ট্রাফিক উত্তর বিভাগের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) আবু ইউসুফ ‘ব্রেকিং নিউজ’ জানিয়ে ফেসবুকে জানান, রমনা থানা থেকে কাকলী পর্যন্ত যানজট। গুলশান/উত্তরা যেতে সোনারগাঁও রোড ব্যবহার করুন।

আবু ইউসুফ জাগো বলেন, ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে যানজটের আপডেট জানতে চাওয়া হচ্ছিল। আমরা দিচ্ছি। মূল কারণ কে শুনবে। সবাই তো দোষ খোঁজে ট্রাফিক পুলিশের। ট্রাফিক উত্তর বিভাগকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কোনো ধরনের সহযোগিতা করছে না। এজন্য যানজট হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে একই অভিযোগ ট্রাফিক পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নুসরাত জাহান মুক্তার। 

তিনি বলেন, ‘কি করবো ভাই, অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে যানজট নিরসনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উত্তর সিটির কন্ট্রাক্টর রাস্তা কেটে বেহাল এ দশা তৈরি করেছে।

ডিএমপির উত্তর ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) প্রবীর কুমার রায় বলেন, আমাদের চেষ্টার কোনো ক্রটি নেই। রোজাদার ট্রাফিক পুলিশ সদস্যও আমাদের রয়েছেন। কিন্তু তারা রাস্তায় ভিজে যাত্রী সাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

আর/১০:০৪/০৭ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে