Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৭-২০১৬

মানবিকতার অনন্য নজির গড়েছেন ইনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেছেন ১১১ জন শিশুশ্রমিককে

মানবিকতার অনন্য নজির গড়েছেন ইনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেছেন ১১১ জন শিশুশ্রমিককে

গান্ধীনগর, ০৭ জুন- তাঁর নাম ঝর্ণা জোশি। বয়স ২২। আমদাবাদে থাকেন। পড়ছেন বিবিএ। এই পর্যন্ত তাঁর পরিচয়ের মধ্যে বিশেষত্ব কিছুই নেই। কিন্তু ওঁর সাহসিকতার কথা শুনলে শ্রদ্ধায় আপনার মাথা নত হয়ে আসবে। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গুজরাটের এক সেরামিক কারখানায় কর্মরত ১১১ জন শিশুশ্রমিককে তিনি দেখিয়েছেন মুক্তির আলো। 

ঘটনার সূত্রপাত বছরখানেক আগে। গুজরাটেই মোর্বি অঞ্চলে এক দূর সম্পর্কের বোনের বাড়ি যাচ্ছিলেন ঝর্ণা। তখনই তাঁর চোখে পড়ে, বাস ভর্তি করে করে বহু শিশুকে কোথায় যেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বলা বাহুল্য, বাসগুলো স্কুল বাস ছিল না। ঘটনাটা চোখে পড়েছিল আরও অনেকেরই। হয়তো ঝর্ণার মতোই কৌতূহলীও হয়েছিলেন তাঁরাও। কিন্তু‌ ঝর্ণার মতো সাহস, বা কিছু করার উদ্যোগ তাঁদের ছিল না। ঝর্ণা কৌতূহলী হয়ে পিছু নেন বাসটির। দেখেন, শিশুগুলিকে একটি সেরামিক কারখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

ঝর্ণা আঁচ করতে পারেন যে, শিশুগুলিকে শ্রমিক হিসেবে খাটানো হচ্ছে ওই কারখানায়। কিন্তু তখনও ব্যাপারটা সম্পর্কে নিশ্চিৎ ছিলেন না তিনি। আরও ভাল করে এই বিষয়ে জানার জন্য তিনি নিজেও ওই কারখানায় কাজ নেন। তাঁকে দেওয়া হয় কাপ ও ডিশ তৈরি ও ডিজাইনিং-এর কাজ। দিন পনেরো কাজ করার পরেই তিনি বুঝতে পারেন, যেসব ছেলেমেয়ে এখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে তাদের অধিকাংশেরই বয়স ১৮-র নীচে। শ্রম আইনকে বু‌ড়ো আঙুল দেখিয়ে শিশুদের কাজ করানো হচ্ছে জ্বলন্ত ফার্নেসের সামনে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তারা কাজ করতে না চাইলেও জোর করে কাজ করানো হচ্ছে তাদের। এমনকী সকাল ৮টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত টানা কাজের মাঝে শিশুরা কারখানা থেকে বেরোতে চাইলে মিলছে না তারও অনুমতি। 

গোটা বিষয়টি শ্রম দপ্তরকে জানান ঝর্ণা। কিন্তু শ্রম দপ্তর কানেই তোলেনি ঝর্ণার অভিযোগ। বাধ্য হয়ে ঝর্ণা যোগাযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে। তাতে কাজ হয়। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে নড়েচড়ে বসে শ্রম দপ্তর ও পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলি। শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরি একটি দল হানা দেয় সেই কারখানায়। উদ্ধার হয় শিশুগুলি। তাদের এখন নিজেদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে প্রশাসনের তরফে।

আর ঝর্ণা, কেমন আছেন তিনি? বলতে খারাপ লাগে, ঝর্ণা ভাল নেই। সাপের ডেরায় হাত ঢুকিয়েছিলেন তিনি, ছোবল তো খেতেই হবে। গতকালই কিছু অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীর হামলায় আহত হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে ভর্তি। আসুন, কারখানার অন্ধকূপ থেকে উদ্ধার হওয়া সেই শিশুগুলি, আর তাদের পরিবারের মানুষজনদের মতোই আমরাও অন্তর থেকে এই সাহসিনীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে