Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৭-২০১৬

বৈবাহিক ধর্ষণ বন্ধে আইন করার চাপ বাড়ছে! 

বৈবাহিক ধর্ষণ বন্ধে আইন করার চাপ বাড়ছে! 

দিল্লী, ০৭ জুন- ভারতে পারিবারিক হিংসা এবং বৈবাহিক ধর্ষণের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে৷ কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর এই  মন্তব্যের পর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন নারী অধিকার কর্মীরা৷

হিন্দু বিয়েতে নানা ধর্মীয় আচার-আচরণ এবং উপবাসের পর নারীরা স্বভাবতই কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে৷ কিন্তু স্বামী কি নববধূর সেই ক্লান্তি বুঝতে পারেন? না তারা ইচ্ছের বিরুদ্ধেই স্ত্রীর ওপর প্রথম রাতেই শুরু করেন পাশবিক অত্যাচার, যাকে ঠিক মিলন বলা যায় না৷ সংবাদ সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক  মহিলা জানিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতা৷ কেবল বিয়ের দিনে নয়, তিনি জানিয়েছেন, তার স্বামী এতটাই নৃশংস যে, যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন তখনও তাকে ‘ধর্ষণ’ করা হয়েছে!

তিন বছর হল,  সেই  মহিলা স্বামীর সংসার  ছেড়েছেন৷ রীতিমতো বাধ্য হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন৷ কিন্তু তাঁর আশঙ্কা, স্বামীর কোনও শাস্তি হবে না৷ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর মতো ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলারা কি এ কারণে বিচার পাবে না যে, সেই ধর্ষক তার স্বামী?
ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে৷ শুধু স্বামী দ্বারা স্ত্রী নন, পরিবারে অন্যান্য আত্মীয়দের দ্বারাও নারীরা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন৷ কিন্তু সরকার ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’কে অপরাধ হিসেবে মানতে রাজি নয়৷

সম্প্রতি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেনকা গান্ধী পার্লামেন্টে বলেছেন, ‘দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, ধর্মান্ধতা এবং সামাজিক প্রথার কারণে এই ধরনের আইন করা সম্ভব হচ্ছে না৷’  নারী অধিকার কর্মীরা এই ধরনের মন্তব্যের পর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন৷ মে মাসেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেনকা বলেছেন, ‘এটা খুব স্পর্শকাতর বিষয়, কারণ আপনি মানুষের শোওয়ার ঘরে ডুকে পড়ছেন৷”

ভারতের আইন অনুযায়ী, স্ত্রী’র বয়স ১৫ বছরের কম না হলে স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সঙ্গে সহবাস করলেও সেটা ধর্ষণ নয়৷ এমনকি পারিবারিক নির্যাতনেরও খুব সামান্যই শাস্তি আছে পুরুষদের বিরুদ্ধে৷ সর্বোচ্চ দণ্ড মাত্র তিন বছরের কারাদণ্ড৷

নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, কঠোর শাস্তিসহ এর বিরুদ্ধে  কড়া আইন না হলে, মহিলারা  নিজেদের বাড়িতে নিরাপদ থাকবেন না৷ তারা বলছেন, এই ধরনের আইন হলে স্বামীরা স্ত্রীদের ধর্ষণ করার আগে অন্তত একবার হলেও ভাববে৷

প্রাক্তন এক প্রধান বিচারপতি সরকারকে এই ধরনের আইন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ২০১৩ সালে৷ কিন্তু তাঁর প্রস্তাব মেনে নেয়নি সরকার৷ দুই বছর আগে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উইমেন এবং রাষ্ট্রসংঘের পপুলেশন ফান্ড ভারতে একটি সমীক্ষা  করেছিল৷ তাতে প্রায় অর্ধেক মহিলাই বলেছেন, তারা তাদের স্বামীদের দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার৷ ৬০ ভাগ পুরুষও স্বীকার করেছেন যে, তারা স্ত্রীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌনমিলন করে তাদের নির্যাতন করেছেন৷

বৈবাহিক ধর্ষণ কাউন্সেলর এবং আইনজীবী মনিকা ভারতের সংস্কৃতিকে এ ধরনের আইন না হওয়ার জন্য দায়ী করেছেন৷ তার মতে, পুরুষরা মনে করে, ‘‘বিয়ে মানেই সহবাসের বৈধতা৷ তাদের এটা মনেই হয় না যে এ বিষয়ে স্ত্রীর অনুমোদন জরুরি৷”

এমনকি কিছু মহিলা যখন পুলিশের কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট করতে গিয়েছে, তখন তাদের বলা হয়েছে বাসায় ফিরে যেতে৷ আর স্ত্রী তার বাপের বাড়ি ফিরে গেলে তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, স্বামী যা বলছে তাই করা উচিত৷

এ আর/ ১৬:০৪ /জুন

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে