Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৬-২০১৬

বিশ্ববিদ্যালয় নাকি বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কারখানা

মিছবাহ পাটওয়ারী


বিশ্ববিদ্যালয় নাকি বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কারখানা

বাগদাদ, ০৬ জুন- মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলের দখল নেওয়ার পর সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের আওতায় নিয়ে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার সঙ্গে মুক্ত জ্ঞান চর্চার বিষয়টি অপরিহার্যভাবে জড়িয়ে থাকলেও আইএসের দখলীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন দাঁড়িয়ে আছে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত জ্ঞানের বিপরীতে। সমরাস্ত্র উন্নয়ন আর জঙ্গিবাদ প্রসারের হাতিয়ার হিসেবেই মসুল বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবহার করছেন আইএস সদস্যরা।

মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি গোপন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল আইএস। তবে  এই বিদ্যাপীঠে এমন কিছু শিক্ষার্থী আর গবেষক ছিলেন, যারা আইএস কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এ বিশ্ববিদ্যায়ের আভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড বাইরের দুনিয়ার মানুষদের জানাতে চাইতেন। এ কাজে তাদের সহায়তা করে নিউইয়র্কভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন’র সহ-গবেষণা সংগঠন ‘স্কলার রেসকিউ ফান্ড’। বেরিয়ে আসে আইএসের ভয়াবহতার চিত্র।

মসুল ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। দুই বছর আগে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আইএস। জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বর্বরতার চরম রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। প্রাণ গেছে অনেকের। ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। তবে এসবের মধ্যেই মসুলের বিশ্ববিদ্যালয়টি ঠিকই চালু রেখেছে আইএস। দুনিয়াজুড়ে তারা যে বোমা হামলা চালাচ্ছে সেই বোমা তৈরি করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের গবেষণাগারে বসে।


মসুল ইউনিভার্সিটির প্রবেশদ্বার

বিশ্ববিদ্যালয় নাকি বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কারখানা
মার্কিন ও ইরাকি বাহিনীর বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে এই গবেষণাগারে বসেই আইএস তাদের জঙ্গিদের বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই গবেষণাগারের সুবাদেই তাদের পক্ষে উন্নত মানের বিস্ফোরক তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। সেখানে বহু বিদেশি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ বোমা তৈরির দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা ফিরে গেছেন নিজ নিজ দেশে। প্যারিস আর ব্রাসেলসের হামলা থেকেই বোঝা যায় বিস্ফোরক তৈরিতে কতটা দক্ষতা অর্জন করেছে আইএস।

সাহিত্য আর দর্শনের পাঠ বন্ধ, শিক্ষা মানেই যুদ্ধবিদ্যা
মসুল শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরই সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্য এবং দর্শনের মতো বিষয়গুলো বন্ধ করে দেয় আইএস। তাদের আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, এমন সবকিছুই নিষিদ্ধ করা হয় সেখানে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বই-পুস্তক পুড়িয়ে দেয়। এরপর তারা সেখানকার প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ধ্বংস করে দেয়। যেসব গবেষকরা পশ্চিমা দুনিয়া এবং ইরাক সরকারের আস্থাভজন প্রমাণিত হন তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় মূলত যুদ্ধবিদ্যা বিষয়ক বিষয়গুলোকে উৎসাহিত করে আইএস। এসব বিভাগের উন্নয়নের জন্য তারা বিদেশি যোদ্ধাদের নিয়োগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবন ব্যবহৃত হয় বিদেশি আইএস সদস্যদের বাসস্থান হিসেবে।

আইএস মসুল শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখান থেকে পালিয়ে যান বহু মানুষ। এর মধ্যে বহু চিকিৎসকও রয়েছেন। ফলে তাদের স্থান পূরণের জন্য চিকিৎসাবিদ্যা সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। গুরুত্বারোপ করা হয় শারীরিক কসরতের ওপর। সামরিক পদ্ধতিতে শেখানো হয় খেলাধুলা। বিদেশি যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ আর বৈশ্বিক প্রপাগাণ্ডা বিস্তারে সুবিধার জন্য বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে উৎসাহিত করা হয়।


ইরাক ও সিরিয়ার রাস্তায় এভাবেই নিজেদের শক্তির মহড়া প্রদর্শন করেন আইএস সদস্যরা।

গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্বাসঘাতকতা আর  ব্ল্যাকমেইলিং
একটি বর্বর গোষ্ঠীর হাতে কিভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে? বিবিসি’র এমন প্রশ্নের উত্তরে মসুলের একজন বাসিন্দা জানান, আইএসের অধীনে জীবন কাটানো হচ্ছে চরম ভয় আর আতঙ্কের। এখানকার সংস্কৃতিটা হচ্ছে গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্বাসঘাতকতা, ব্ল্যাকমেইল, নিয়মিত অপমান আর মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার।

২০১৪ সালের জুনে আইএস যখন মসুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়; সেই সময়কার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি। ওই ব্যক্তিরা জানান, ‘তাদের পক্ষে যে কাউকে খুন করা খুবই সহজ ব্যাপার। কিছু শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে কাজ করতো এবং তারা আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালাতো। শুরু থেকেই তাদের কাছে ধর্মীয় বা এর কাছাকাছি নয় এমন বই-পুস্তক অর্থহীন ও অখাদ্য হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং বিদ্যাচর্চার ভবিষ্যত
আইএসের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে চলতি বছরের মার্চে মসুল ইউনিভার্সিটিতে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এমন গুঞ্জন রয়েছে যে, ওই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলার শিকার হয়েছে জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রিত একটি রেডিও স্টেশন। এটি মূলত আইএসের প্রপাগাণ্ডা বিস্তারে ব্যবহৃত হতো। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইএসের ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের একজন সাবেক ডিনও নাকি রয়েছেন।

যাইহোক, বিমান হামলা সত্ত্বেও ওই বিশ্ববিদ্যালয়কে আইএস-মুক্ত করা যায়নি। সমরাস্ত্র মজুত এবং এ সংক্রান্ত গবেষণা ছাড়াও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তার ফলে মসুল ইউনিভার্সিটি আইএসের কাছে বেশ লোভনীয় স্থান হয়েই রয়েছে। তাই গত মার্চে ইরাকের দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করলেও তারা যে মসুল বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করবে না, তা প্রায় নিশ্চিত।  সূত্র: বিবিসি, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

আর/১০:১৪/০৬ জুন

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে