Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৬-২০১৬

অটুট থাকুক খাদ্যের পুষ্টিগুণ

অটুট থাকুক খাদ্যের পুষ্টিগুণ

আপনি কীভাবে খাবার প্রস্তুত করছেন তার উপর খাদ্যের পুষ্টিমান নির্ভর করে। রান্নার সময় অনেক খাবারের পুষ্টিমান পরিবর্তিত হয়। রান্না করা খাবার হজম সহায়ক এবং পুষ্টি উপাদানের শোষণ বৃদ্ধি করে। যেমন- কাঁচা ডিমের চেয়ে রান্না ডিমের প্রোটিন ১৮০% হজম উপযোগী। আবার রান্না করার ফলে বিভিন্ন খাবারের পুষ্টি উপাদান কমে যায় যেমন: পানিতে  দ্রবণীয় ভিটামিন- ভিটামিন সি, থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন, নায়াসিন, পেন্টোথেনিক এসিড, পাইরিডোক্সিন, ফলিক এসিড এবং কোবালামিন, চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন- ভিটামিন এ, ডি, ই এবং  কে, বিভিন্ন খনিজ উপাদান- পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম এবং ক্যালসিয়াম। কোন ধরণের খাবার কীভাবে প্রস্তুত করা উচিৎ তা জেনে নিই চলুন।

১। বয়লিং, শিমারিং ও পোচিং- রান্নার এই ৩টি প্রক্রিয়াতে পানি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত সবজি হচ্ছে ভিটামিন সি এর উৎস। কিন্তু যখন পানি দিয়ে রান্না করা হয় তখন এর বেশির ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। ব্রোকলি, পালং শাক ও লেটুস এর ৫০ শতাংশের বেশি ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায় যখন এদের সিদ্ধ করা হয়। অন্যদিকে মাছ ভাজা হলে বা মাইক্রোওয়েভে রান্না করার চেয়ে সিদ্ধ করলে এর ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ বেশি থাকে।

২। গ্রিলিং ও ব্রয়লিং ও একই ধরণের রান্নার প্রক্রিয়া যেখানে শুষ্ক তাপে রান্না করা হয়। গ্রিলিং এর সময় তাপ দেয়া হয় নিচ থেকে। ব্রয়লিং এর সময় তাপ দেয়া হয় উপর থেকে। গ্রিল করা খাবার খুবই জনপ্রিয় এর চমৎকার স্বাদের জন্য। গ্রিলিং বা ব্রয়লিং এর ফলে মাংস থেকে বি ভিটামিন ও মিনারেল ৪০% নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া গ্রিল করার সময় ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন উৎপন্ন হয়।

৩। মাইক্রোওয়েভে রানা করাটা সহজ ও নিরাপদ। কম সময়ে রান্না করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাইক্রোওয়েভে রান্না করলে রসুন এবং মাশরুমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ঠিক থাকে। কিন্তু সবুজ শাকসবজি থেকে ভিটামিন সি এর পরিমাণ ২০-৩০% কমে যায় মাইক্রোওয়েভে রান্না করলে।

৪। রোষ্ট ও বেকড খাবারে খাদ্যের পুষ্টিমান বজায় থাকে। এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম হচ্ছে ভিটামিন বি। মাংসের রোষ্টে বি ভিটামিনের পরিমাণ ৪০% কমে যায়।  

৫। অনেক বেশি তাপে ও কম সময়ে রান্নার প্রক্রিয়া হচ্ছে স্টির ফ্রাই। এটি একটি স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া। এতে পানি ব্যবহার করা হয় না বলে বি ভিটামিন অক্ষুণ্ণ থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কাঁচা গাজরের চেয়ে স্টির ফ্রাই করা গাজরে বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে ব্রোকলি ও বাঁধাকপির ভিটামিন সি এর পরিমাণ কমে যায় স্টির ফ্রাই করলে।

৬। ফ্রাই করা খাবার সুস্বাদু হয় কিন্তু সব ধরণের খাবার ফ্রাই করা ঠিক নয়। ফ্যাটি ফিশ উচ্চ তাপে রান্না করলে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড কমে যায়। যদিও ফ্রাই করলে ভিটামিন সি ও বি ভিটামিন ঠিক থাকে এবং আলুর ফাইবারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তেল যখন উচ্চতাপে গরম করা হয় তখন অ্যাল্ডেহাইড নামক বিষাক্ত পদার্থ উৎপন্ন হয় যা ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। তেলের ধরণ, তাপমাত্রা ও রান্নার সময় অ্যাল্ডেহাইডের উৎপাদনকে প্রভাবিত করে। একবার ভাঁজার পর বেঁচে যাওয়া তেল পুনরায় গরম করলে অ্যাল্ডেহাইডের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

৭। সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হচ্ছে ভাপে রান্না করা। গবেষণায় জানা যায় যে, ব্রোকলি, পালং শাক ও লেটুস এর ভিটামিন সি খুব কম পরিমাণে নষ্ট হয় ভাপ দিয়ে রান্না করা।

এ আর/ ১৪:৪৮/০৬ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে