Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-০৬-২০১৬

সংসদের মূল নকশা আনতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে প্রতিনিধি দল

সাজিদুল হক


সংসদের মূল নকশা আনতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে প্রতিনিধি দল

ঢাকা, ০৬ জুন- পেনসেলভেনিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কাইভ থেকে জাতীয় সংসদের মূল নকশা আনতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইপিএ) গোলাম কিবরিয়া। তার সঙ্গে রয়েছেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. মনিরুজ্জামান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সহকারী স্থপতি সাইকা বিনতে আলম।

২০১৪ সালে সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংসদ ভবনের মূল নকশা আনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর লুই কানের প্রতিষ্ঠান ডেভিড অ্যান্ড উইজডম এর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে স্থাপত্য অধিদপ্তর।

লুই কানের নকশাগুলো পেনসেলভেনিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচারাল আর্কাইভে থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে সেখানেও যোগাযোগ করা হয়।

গত জানুয়ারি মাসে সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানান, সংসদ ভবনের অঙ্কিত বর্ণনামূলক তালিকা (ড্রয়িং ইনভেনটরি লিস্ট)  যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে এসেছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনি নির্মাণ নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থপতি লুই আই কানের করা মূল নকশা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং সংসদের নিরাপত্তা শাখার সঙ্গে এক বৈঠকে শেখ হাসিনা নকশার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তখনই মূল নকশার ‘কিছু অংশ’ বাংলাদেশের কাছে না থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম কিবরিয়া বলেন, “সবকিছূ চূড়ান্ত। আগামী ২৪ অথবা ২৫ তারিখে মধ্যে আমরা নকশা নিয়ে দেশে ফিরব। কিছু নকশা যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য সবমিলিয়ে ১৫ দিন সময় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি।”

এর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সংসদ ভবন ও এর আশ-পাশের এলাকার ছোট-বড় প্রায় আট হাজার নকশা ও ডকুমেন্ট রয়েছে পেনসেলভেনিয়া ইউনিভার্সিটির কাছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৮৫৩টি নকশা। স্থাপত্য অধিদপ্তরের পরামর্শে এসব নকশা চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে প্রতিটি নকশার যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে গুণতে হয়েছে সাড়ে তিন হাজার ডলার।

সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব তহবিলে এ পরিমাণ টাকা না থাকায় বিশেষ বরাদ্দ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ বরাদ্দ  পেয়েছে সংসদ সচিবালয়।

মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীতে লুই কান কয়েকবার বাংলাদেশে কাজের জন্য আসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মূল নকশা সংশ্লিষ্ট কিছু ‘প্ল্যান’ তিনি হস্তান্তর করেত পারেননি। পরবর্তীতে এ নিয়ে কোনো সরকার আগ্রহ দেখায়নি।

গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও সংসদ এলাকায় মূল নকশার বাইরে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের জন্য বাসভবন বানানো হয়।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তখন ভবন দুটি তৈরি হয়। এ সংক্রান্ত একটি মামলা এখনো বিচারাধীন।

২০১৩ সালের ২ জুন সংসদ কমিশনের বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ ভবন সংরক্ষণে মূল নকশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় এমন কিছু না করার ব্যাপারে মত দেন। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলারও পরামর্শ দেন তিনি।

১৯৬১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের আমলে বর্তমান সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সে সময় স্থপতি মাজহারুল ইসলামকে এই ভবনের স্থপতি নিয়োগ করা হয়। তার প্রস্তাবেই লুই আই কান এই প্রকল্পের প্রধান স্থপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি এ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে