Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৫-২০১৬

ত্বকের ফুসকুড়ি ফাটানো কি ঠিক?

ত্বকের ফুসকুড়ি ফাটানো কি ঠিক?

নিজেকে সুন্দর ও তারুণ্যদীপ্ত রাখতে ত্বকের যত্নের বিকল্প নেই। তবে এই ত্বকের যত্ন নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। আজ বলব এমন কিছু ভুল ধারণার কথা।

প্রচলিত ধারণা, ফুসকুড়ি ফাটানো উচিত নয়
এটি একটি ভুল ধারণা। আসল সত্য হলো, এ ধরনের ছোটখাটো চিকিৎসা কাজে অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। মাঝেমধ্যে অনেকের মুখের ত্বকে গোলাপি ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এর জন্য যা করতে হবে তা হলো, প্রথমে আপনার হাত ও মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন। একটি সরু সুচ জীবাণুমুক্ত করে সুচের ডগা দিয়ে হালকাভাবে ফুসকুড়ির ওপর বিদ্ধ করুন। একটি পরিষ্কার টিস্যু দিয়ে আলতো করে চেপে চেপে ভেতরের পদার্থগুলো বের করে আনুন। বারবার ছিদ্র করলে কিংবা জোরে চাপলে ফুসকুড়ির মুখ বড় হয়ে যাবে এবং রক্তের শ্বেতকণিকা বের হয়ে আসবে। এতে ইনফেকশন ও স্থায়ী দাগ সৃষ্টি হবে। ফুসকুড়ি ফাটানোর পর ক্ষত আপনাআপনি সেরে যায়। তবে আপনি ইচ্ছা করলে অ্যান্টিসেপটিক মাখতে পারেন।

প্রচলিত ধারণা, বাষ্প ত্বককে বিষমুক্ত করে
হ্যাঁ, বাষ্পস্নান ও বাষ্পঘর ত্বককে উজ্জ্বল করে। কিন্তু এর দীর্ঘস্থায়ী কোনো সুফল নেই। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাষ্পস্নানের সময় শুধু ঘাম দূর হয়। ময়লা ও জীবাণু দূর হয় সাবানপানির মাধ্যমে। এ জন্য বাষ্পস্নান কিংবা ব্যায়ামের পরপরই গোসল করতে হবে। কারণ, ঘাম ফুসকুড়ি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্মক্ষেত্র।

প্রচলিত ধারণা, অ্যালার্জি পরীক্ষিত প্রসাধনী ত্বকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না
এটা সত্যি যে, হাইপোঅ্যালার্জেনিক লোশন ও প্রসাধনসামগ্রীর সংবেদনশীল ত্বকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার আশঙ্কা খুব কম, তবু এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রসাধনী দ্রব্য পরীক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও ত্বকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। আপনার ত্বক যদি খুব সুন্দর ও শুষ্ক হয়, তাহলে যেকোনো প্রসাধনী ব্যবহারে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা করে নিন। যদি আপনার ত্বক চুলকায়, টনটন করে, খসখসে হয় কিংবা লাল হয়, তাহলে প্রসাধনী দ্রব্যটি ব্যবহার করবেন না।

প্রচলিত ধারণা, অতিরিক্ত পানি পান করলে ত্বক আর্দ্র হয়
ত্বক, কোমল করাসহ সুস্বাস্থ্যের জন্য চিকিৎসকরা দৈনিক আট গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন। এর চেয়ে বেশি পান করলে ত্বক আর্দ্র হয় না। এটা কেবল পায়খানা-প্রস্রাবকে বাড়িয়ে দেয় এবং ত্বকের তেলগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তেল ত্বককে আর্দ্র রাখে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে  সঙ্গে গ্রন্থিগুলো থেকে তেল উৎপন্নের পরিমাণ কমে যায়। এতে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। ত্বক সুরক্ষাকারী এই পদার্থ সংরক্ষণের জন্য তাই গোসলের পর শরীর ভেজা থাকা অবস্থায় ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

প্রচলিত ধারণা, সূর্যালোকে ত্বকে যে ক্ষতি হয় তা আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব নয়
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ত্বকের ৯০ শতাংশ বলিরেখা বা ভাঁজ সৃষ্টি হয় সূর্যালোকের কারণে। কিন্তু আপনি যদি সূর্যের আলোতে ত্বক ঢেকে রাখেন এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাহলে ত্বকের নিচে কিছু কোষ পুনর্গঠিত হয় এবং নতুন কোষ সৃষ্টি হয়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সানস্ক্রিন বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন, যাতে কমপক্ষে ১০-১৫ এসপিএফ বা সান-প্রোটেকশন ফ্যাক্টর রয়েছে। নিয়মিত এই সানস্ক্রিন বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে এক-দুই বছরে আপনার ত্বক আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

লেখক : ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

আর/১৭:১৪/০৫ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে