Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৫-২০১৬

এক গুলিতে মৃত্যু নিশ্চিত করেই পালিয়েছে খুনিরা: পুলিশ

এক গুলিতে মৃত্যু নিশ্চিত করেই পালিয়েছে খুনিরা: পুলিশ

চট্টগ্রাম, ০৫ জুন- মুখের বাম পাশে কপালের নিচে এক গুলিতেই পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু ‘র (৩২)  মৃত্যু নিশ্চিত করেই খুনিরা পালিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

রোববার সকাল সোয়া ৭টার দিকে চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে সদ্য পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি পাওয়া বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানমকে গুলি করে হত্যা করেছে মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।  

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘আসলে উনি বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলের বাসে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য এখানে এসেছিলেন। এটা ৬টা ৩৫, ৪০-এর দিকে হবে। তো, ওই সময়ে একটা মোটরসাইকেলে তিনজন এসেছে। একজন হেলমেট পরা আর দুজন হেলমেট বিহীন ছিল।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটু তর্কাতর্কি করে একপর্যায়ে প্রথমে ছুরি মেরেছে। পরে গুলি করে চলে গেছে। ঘটনাস্থলেই উনার মৃত্যু হয়েছে।’

সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা এখন খতিয়ে দেখছি, এই রাস্তায়, অয়েল ফুড থেকে শুরু করে মন্দির পর্যন্ত অনেক সিসি (ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা) আছে। সবকটির ফুটেজ নিয়ে আমরা এদের চেহারা শনাক্ত করতে পারব।’

ইকবাল বাহার আরও বলেন, ‘বাবুল আক্তার যেহেতু জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিয়ে অনেক কাজ করেছে, তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটি অবশ্যই আমরা খতিয়ে দেখব এবং আশা করি, খুব দ্রুততার সঙ্গেই আমরা এদেরকে গ্রেফতার করতে পারব।’

তদন্ত প্রসঙ্গে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’র মতো খুব ছোট আকারের পিস্তল থেকে নিখুঁত নিশানায় গুলি করা হয়েছে। মুখের বাম পাশে কপালের নিচে এক গুলিতেই মৃত্যু নিশ্চিত করেই পালিয়ে গেছে খুনিরা।  ঘটনাস্থল থেকে মোট চারটি কার্তুজ উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে একটি ব্যবহৃত, তিনটি অব্যবহৃত। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। বিস্তারিত ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে।

হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে মায়ের সঙ্গে থাকা ছেলে আক্তার মাহমুদ মাহির (৭) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই যে গুণ্ডা, আম্মুকে মারসে। ওরা হোন্ডা করে ওখানে দাঁড়ায়সিল। ওখানে তিনজন ছিল। তারপর একজন দৌড়ায়ে আইসা আম্মুকে নিচে ফালাই দিয়ে চাকু ঢুকাই দিসিল। আরেকজন গুলি মেরে মেরে ফেলসে। তারপর আম্মুর মুখের থেকে রক্ত বের হচ্ছিল।’

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মোক্তার আহমদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্তকাজ শুরু করে দিয়েছে। শিগগিরই খুনিদের ধরা সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিরাই জড়িত। কারণ, বাবুল আক্তার জঙ্গি দমনে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন।’ 

বাবুল আক্তারের ব্যাচমেট র‌্যাব-১ এর কর্মকর্তা এসএম তানভীর আরাফাত ঢাকা থেকে জানান, স্ত্রীর দুঃসংবাদ শোনার পর থেকে বাবুল আক্তার ঘন ঘন অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। তারপরও তাকে সান্ত্বনা দিয়ে চট্টগ্রাম পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। 

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

শারমীন আক্তার নামের এক প্রতিবেশী জানান, মাহমুদা প্রায়ই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলতেন। বলতেন, ওই বাসা সবাই চিনে গেছে, বাসা বদলে ফেলতে হবে।

বাবুল-মাহমুদা দম্পতির চার বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে বলে শারমীন আক্তার জানান। 

আর/১৭:১৪/০৫ জুন

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে