Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-০৫-২০১৬

অর্ধেকের বেশি প্রাণহানি আ’লীগের

অর্ধেকের বেশি প্রাণহানি আ’লীগের

ঢাকা,০৫ জুন- গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে রক্তঝড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। এ যেন কোন নির্বাচন না এক রকম যুদ্ধ ক্ষেত্র। এই যুদ্ধে ক্ষেত্রে ৬ ধাপে শিশুসহ প্রাণ ঝড়েছে ১২১টি। আহত হয়েছেন প্রায় ৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা পুরো নির্বাচন জুড়েই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতে জড়িয়েছেন। ব্যাপক সহিংসতা, অনিয়ম ও সন্ত্রাসের কারণে এবারের ইউপি নির্বাচন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

জানা গেছে, গতকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত ৬টি ধাপের ইউপি নির্বাচন পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচনোত্তর সংঘর্ষে প্রায় ১২১ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অসংখ্য।

এ ছাড়া বিএনপির ২ জন, জাতীয় পার্টির (জেপি) ১ জন, জনসংহতি সমিতির ১ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী বা সমর্থক ২ জন, সদস্য প্রার্থীর কর্মী বা সমর্থক ৩১ জন এবং ১২ জন সাধারণ মানুষ রয়েছেন নিহতের তালিকায়। তবে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতে জড়িয়ে এত বেশিসংখ্যক নেতাকর্মীর প্রাণহানিকে সামাজিক দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীরা।
এত বিপুলসংখ্যক প্রাণহানিকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করলেও এর দায় নিতে নারাজ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে সহিংসতা হয়।

এর দায় আমরা কেন নেব? তিনি আরো বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে পারি। একই প্রসঙ্গে দলের অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সামাজিক অনেক দ্বন্দ্ব থাকে। যার প্রভাব পড়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে।
এর জন্য ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা হয়। আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয়ে শনিবার এক যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, প্রত্যেক সরকার চায় শান্তি বজায় থাকুক, কোনো সরকারই সহিংসতা চায় না। তিনি বলেন, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসতে হবে।
এদিকে সদ্য শেষ হওয়া ৬টি ধাপের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও সংঘাতের ফলে এত বেশিসংখ্যক প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং দেশীয়, আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ। তারা মনে করেন, ইউপি নির্বাচনে ইসি ও দল হিসেবে আওয়ামী লীগ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে প্রাণহানি এড়ানো যেত।

তাদের মতে, মূলত দলীয় প্রতীকে নির্বাচন, ক্ষমতাসীন দলের এমপি, মন্ত্রীদের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের আধিপাত্য বিস্তার, দল মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের যেকোনো মূল্যে জয়লাভের মানসিকতাই নির্বাচনে সংঘাত ও আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে এত বেশিসংখ্যক প্রাণহানির কারণ। সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) হিসেবে ইউপি নির্বাচনে নিহতদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিরোধে ৬০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কর্মী বা সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এত সহিংসতার পরও নির্বাচন কমিশনের কঠোরতা প্রয়োগ না করাই এত প্রাণহানির কারণ বলে মনে করে সুজন।

এ আর/ ১১:০৩/০৫ জুন

 

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে