Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৪-২০১৬

৬ বছরে ৩৬ হাজার কোটি টাকা লোকসান পিডিবির

৬ বছরে ৩৬ হাজার কোটি টাকা লোকসান পিডিবির

ঢাকা, ০৪ জুন- সরকারি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সময়মতো উৎপাদনে আসছে না। ফলে চাহিদা মেটাতে এখনো বেসরকারি রেন্টাল-কুইক রেন্টালের ওপর নির্ভরতা কাটানো যায়নি। এতে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)। গত ছয় বছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। চলতি জুন শেষে লোকসানের এ পরিমাণ আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত পিডিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৩৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষে এ লোকসান সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া গত অর্থবছর পিডিবির লোকসান ছিল ৭ হাজার ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা সংস্থাটির সর্বোচ্চ লোকসান। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬ হাজার ৮০৬ কোটি ৫৩ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫ হাজার ২৬ কোটি ১১ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩৫৯ কোটি ৮৬ লাখ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা লোকসান হয় পিডিবির।

উৎপাদন বৃদ্ধিকেই লোকসান বাড়ার কারণ বলে মনে করেন পিডিবির চেয়ারম্যান মো. শামসুল হাসান মিয়া। তিনি বলেন, প্রতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে উৎপাদন বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও দাম সে অনুপাতে বাড়েনি। ফলে পিডিবির লোকসান বেড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রমতে, গত অর্থবছর পিডিবি বিদ্যুত্ উৎপাদন করে প্রায় ৪ হাজার ৫৮৩ কোটি ইউনিট। আর চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৪৯৩ কোটি ইউনিট। ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে মোট উৎপাদন পাঁচ হাজার কোটি ইউনিট ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্যাস থেকে এসেছে ৭০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বিদ্যুৎ। যদিও গ্যাসস্বল্পতার কারণে অর্থবছরের শেষ ছয় মাসে তেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে লোকসান বাড়ার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, রেন্টাল কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রাখলেও ভাড়া (ক্যাপাসিটি পেমেন্ট) দিতে হয়। এ হিসেবে উৎপাদন বাড়লে ইউনিটপ্রতি ব্যয় কমে যাওয়ার কথা। ব্যয় বাড়ার কোনো কারণ নেই। বরং বেসরকারি খাতের চুক্তিগুলোয় অনেক অস্বচ্ছতা রয়েছে। এ কারণেই লোকসান হচ্ছে। কারিগরি অডিট ছাড়া এটা রোধ করা যাবে না।

লোকসান কমাতে গত সেপ্টেম্বরে এক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর পরও জানুয়ারিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন করে পিডিবি। তবে একই অর্থবছরে দুই দফা দাম বাড়াতে রাজি নয় বিইআরসি। এতে জুনের পর আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও জ্বালানি তেলের রেকর্ড দরপতনের পর গত এপ্রিলে ফার্নেস অয়েলের দাম ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

আর/১০:৩৪/০৪ জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে