Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০৪-২০১৬

মন্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে হিতে বিপরীত

মন্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে হিতে বিপরীত

ঢাকা, ০৪ জুন-  তখন মিছিল-স্লোগানে কাঁপছে বিআরটিসি’র জোয়ার সাহারা বাস ডিপো চত্বর। উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে খুশি করা। কিন্তু বিধি বাম! ঘটলো হিতে বিপরীত ঘটনা। মন্ত্রী খুশিতো হলেনই না, বরং গালমন্দ করলেন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি’র স্লোগানধারী শ্রমিক নেতা-কর্মচারীদের।

শনিবার (০৪ জুন) সকাল দশটা থেকে বেলা সাড়ে এগারটায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আসার আগে পর্যন্ত কয়েক দফা স্লোগান চর্চা করতে থাকেন বিআরটিসি’র কয়েকশ’ শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ঘটনাস্থলে তখন অবস্থান করে দেখা গেছে, শ্রমিক লীগের দুই নেতা মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান কিভাবে দিতে হবে তা শিখিয়ে দিচ্ছেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মন্ত্রী এসে পৌঁছামাত্রই উচ্চস্বরের স্লোগানে ‘প্রকম্পিত’ হতে থাকে জোয়ার সাহারা। মন্ত্রী হাত বাড়িয়ে স্লোগান থামিয়ে দিলেন। কিন্তু আপাতত কিছু বললেন না।

যখন মন্ত্রীর বক্তব্যের পালা, তখন শুরুতেই বলে উঠলেন, ‘এটা কি আমার দলীয় সভা না বিআরটিসি’র? কেউ কিছু বলছেন না দেখে মন্ত্রী পেছনে টানানো ব্যানারের দিকে তাকালেন। দেখালেন, সভার আয়োজক সরকারি পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠান ‘বিআরটিসি’।

মন্ত্রী তখন বলেন, ‘আমি তো এসে মনে করলাম, এটা দলীয় সভা’।

তারপর হুশিয়ারি দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি। কিন্তু আপনারা আমার চেয়ে বড় আওয়ামী লীগার হতে যাবেন না। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে পারি। কিন্তু এখানে এসেছি মন্ত্রী হয়ে, প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়ে নয়’।

ক্ষুব্ধ মন্ত্রী সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সরকারের আড়াই বছর পার হয়ে গেছে। এখন জনগণ স্লোগান আর প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ দেখতে চায়। এখন ‘ডেলিভারির’ সময়’।

তিনি বলেন, ‘ভাষণ দিয়ে আর স্লোগানে প্রকম্পিত করে সমস্যার সমাধান হয় না। দল আর সরকার আলাদা রাখতে হবে’।

মঞ্চে তার পাশেই বসা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিআরটিসি’র চেয়ারম্যানকে দেখিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছাড়া মঞ্চে বসা এই দু’জন কোনো দল করেন না। তাহলে স্লোগান দিয়ে বাতাস গরম করছেন কেন? বিআরটিসি’র যারা শ্রমিকলীগ করেন তারা দলীয় মিটিং ডাকলেই পারেন। সেখানে মনের মাধুরি মিশিয়ে স্লোগান-বক্তৃতা দেন, কোন অসুবিধা নেই। আমাকে বললে আমিও যাবো প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে’।

কথায় কথা এসে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী নিজ দলের এমপি ও নেতাকর্মীদের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘সরকারের শেষ দিকে দলের কিছু কিছু নেতা বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। এটা ভালো লক্ষণ নয়। তাদের তালিকা হচ্ছে। নির্বাচনটা শেষ হোক। তাদেরকে খারাপ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। অনেক এমপিও পরবতী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না’।

তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান দিয়ে এমপি হওয়া যাবে না। দুই বছর পরে চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তা কোথায় যাবে, সেটাতো এখনই বলা যায় না’।

এ আর/ ১৯:০৫/০৪  জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে