Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-০২-২০১৬

রাহুল শীঘ্রই সভাপতি, জোর জল্পনা কংগ্রেসে

রাহুল শীঘ্রই সভাপতি, জোর জল্পনা কংগ্রেসে

দিল্লি, ০২ জুন- পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে খারাপ ফলের পরেই কংগ্রেসের অন্দরমহলে ফের দাবি উঠেছিল, এ বার রাহুল গাঁধী দলের সভাপতির দায়িত্ব নিন। দিগ্বিজয় সিংহের মতো নেতারা দলের ‘অস্ত্রোপচার’ প্রয়োজন— এমন  কথাও বলতে শুরু করেছিলেন। এর মধ্যেই কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী দলের কিছু নেতাকে জানিয়ে দিলেন, খুব শীঘ্রই তিনি ‘নতুন প্রজন্ম’-র হাতে ব্যাটন তুলে দিতে চান।

রাহুল যে কংগ্রেস সভাপতি হবেন, তা নিয়ে দলে কোনও প্রশ্ন নেই। গত লোকসভা ভোটের পরই অনেকে বলছিলেন, অভিষেকের উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করতে করতে রাহুলের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’-ই কমে আসছে। তা ছাড়া সনিয়া ও রাহুলকে নিয়ে দলে এখন দু’টি ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। তিন বছর আগে রাহুল সহ-সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেই সমস্যা আরও বেড়েছে।
পঞ্জাবের কংগ্রেস নেতা ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংহ এ বার দলনেত্রীর ইচ্ছের কথা প্রকাশ্যে আনায় ফের প্রশ্নটা সামনে উঠে এসেছে, কবে রাহুল সভাপতি হবেন?

কংগ্রেস সূত্রের খবর, জুন মাসেই হিমাচলপ্রদেশ বা উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেসের চিন্তন শিবির বসবে। কংগ্রেস-শাসিত কর্নাটকেও চিন্তন শিবির করার একটি ভাবনা রয়েছে। যেখানেই হোক, কংগ্রেসের নেতারা চাইছেন, ওই শিবির থেকেই রাহুলের অভিষেকের ঘোষণা করা হোক। সভাপতি হিসেবেই উত্তরপ্রদেশের ভোট-যুদ্ধে নামুন রাহুল। অমরেন্দ্রের ইঙ্গিত, সনিয়াও তা চাইছেন। অমরেন্দ্রর কথায়, ‘‘উনি অন্য কারও হাতে ব্যাটন তুলে দিতে আগ্রহী। এটা ওঁর সিদ্ধান্ত। দল এ বার ঠিক করবে কী করণীয়। তবে আমাদের উচিত তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো।’’ অমরেন্দ্র অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সনিয়ার সঙ্গে কথা বলেননি। পঞ্জাবের এই প্রবীণ নেতার বক্তব্য, ‘‘যা জানতে পারছি, সবাই যে কথা বলছে, সেটা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন— নতুন প্রজন্মের সময় এসে গিয়েছে।’’ এই সূত্রে অমরেন্দ্র মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নীচে। সনিয়াও তা জানেন। গত ২০ বছর তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এবার নিজেই সরে দাঁড়াতে চাইলে সেই ইচ্ছেকে সম্নান জানানো উচিত।

উত্তরপ্রদেশের ভোটে প্রচার ও রণকৌশলের দায়িত্ব পেয়ে প্রশান্ত কিশোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, রাহুল নিজে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হোন। রাহুলকে প্রধানমন্ত্রীর গদিতে দেখতে চাওয়া কংগ্রেস নেতাদের সেই প্রস্তাব মনে ধরেনি স্বাভাবিক ভাবেই। রাহুল না হলে প্রিয়ঙ্কা বঢরাকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু গাঁধী পরিবার একসঙ্গে দু’টি তুরুপের তাস কাজে লাগাতে রাজি নয়। অমরেন্দ্রর বক্তব্য, ‘‘রাহুল দায়িত্ব নিলেও প্রিয়ঙ্কা দলের সম্পদ হিসেবে থাকবেন।’’
কিন্তু রাহুল দায়িত্ব নিলেই কি কংগ্রেসের সব রোগ দূর হয়ে যাবে?

কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, এমনটা আশা করা উচিতও নয়। তবে দলীয় সংগঠনে একটা ঝাঁকুনি দেওয়া যাবে। রাহুলের সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনে বড়সড় রদবদল অবশ্যম্ভাবী। তরুণ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসা হবে। লোকসভা ও পরের পর বিধানসভা ভোটে দলের ভরাডুবির ফলে বিজেপি এখন আগের চেয়ে জোর গলায় কংগ্রেস-মুক্ত ভারতের কথা বলছে। এই অবস্থায় সংগঠনে একটা ঝাঁকুনি দেওয়াটা দলের পক্ষে বড্ড জরুরি। কারণ, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও গুজরাত, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল, ও মণিপুরেও ভোট রয়েছে।

রাহুল-ঘনিষ্ঠ নেতারা চাইছেন, এ মাসের চিন্তন শিবিরের আগেই সাংগঠনিক রদবদলের নকশাটা তৈরি করে ফেলতে। এর আগে শেষ চিন্তন শিবির বসেছিল ২০১৩ সালে, জয়পুরে। সেখানেই সহ-সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে রাহুলকে লোকসভা ভোটে দলের মুখ করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়। সেই লোকসভায় ভরাডুবির পর এ বারই প্রথম চিন্তন শিবিরের ডাক দিচ্ছে কংগ্রেস। এর আগে ২০০৩-এ সনিয়া শিমলায় কংগ্রেসের চিন্তন শিবিরের ডাক দিয়েছিলেন। সেখানেই অন্য ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির সঙ্গে মিলে জোট সরকারের ভাবনা তৈরি হয়। পরের বছর বাজপেয়ী সরকারকে হঠিয়ে ইউপিএ ক্ষমতায় আসে। এখন সেই ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিই কংগ্রেসের জমিতে থাবা বসিয়েছে। কোণঠাসা হয়ে পড়ছে কংগ্রেস। কমতে কমতে গোটা দেশে মাত্র ছ’টি রাজ্যে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে কংগ্রেস।
রাহুলকে শীর্ষপদে বসানোর পরিকল্পনা শুনে বিজেপির শাহনওয়াজ হুসেন কটাক্ষ করেছেন, ‘‘এতে কংগ্রেস-মুক্ত ভারত তৈরির কাজটা আরও সহজই হবে।’’

টি/০২:২০/০২ জুন

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে