Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-০২-২০১৬

বাজেট অর্থায়নে বিপাকে সরকার

বাজেট অর্থায়নে বিপাকে সরকার

ঢাকা, ০২ জুন- শেষ মুহূর্তে বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার। এ জন্য মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা। রাতেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। এরপরই প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু স্পর্শকাতর পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বুধবার বিজি প্রেসে বিশেষ সতর্কতায় অর্থমন্ত্রীর সংশোধিত বাজেট বক্তৃতাসহ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। আজ জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদন নেয়া হবে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।-যুগান্তর।

ব্যবসায়ীদের দাবি ও চাপের মুখে নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করছে না সরকার। তবে নতুন বাজেটে ভ্যাট আইনের আংশিক বাস্তবায়ন করা হবে।

আগামী বছরের রাজস্ব বাজেট প্রণীত হয়েছে নতুন ভ্যাট আইন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নকে সামনে রেখে। এখন শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে পুরনো ১৯৯১ সালের আইনেই বাজেট বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ায় বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। এদিকে এনবিআর ১ জুলাই থেকেই অনলাইনে ভ্যাট আদায় কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল। এনবিআরের চেয়ারম্যানও অনলাইনে ভ্যাট আদায় বহুগুণ বাড়বে- এমন দাবি করেছিলেন। কিন্তু এখন নতুন আইন কার্যকর না হলে অনলাইনে ভ্যাট আদায় পরিকল্পনা ব্যাহত হবে বলে সূত্র দাবি করেছে। তবে নতুন আইনের অধিকাংশ বিষয়ই বাজেটে থাকছে। ভোক্তা ও স্টেকহোল্ডারদের কাছে আইনটি সহনীয় করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আজ প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইনে সংশোধনী আনার প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ জন্য অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতার রাজস্ব অংশে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আইএমএফের ঋণ ও শর্তের কথা উল্লেখ না করে অর্থমন্ত্রী ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত জানাবেন। পাশাপাশি ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা এবং ব্যবসায়ীদের আপত্তির বিষয়ে বাজেট বক্তৃতায় তার ব্যাখ্যা থাকছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেষ সময়ে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন জটিলতায় রাজস্ব ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে আগামী বছরের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন বাজেটের নির্ধারিত পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হয়েছে। অভ্যন্তরীণ আয় বিবেচনায় এনেই সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ ও ব্যয় ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু ভ্যাট আইন কার্যকর করা না হলে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা মারাত্মক ব্যাহত হবে- এমন আশংকার কথা স্বীকার করে এনবিআরের এক সদস্য বুধবার জানান, নতুন ভ্যাট আইনের কারণে রাজস্ব আয় অর্জন করা অসম্ভব হবে। এর প্রভাবে পুরো বাজেট কার্যক্রমেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া বাজেট ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। রাজস্ব আয়েও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেবে।

সূত্র জানায়, এই একটি সিদ্ধান্তের কারণেই বাজেট অর্থায়ন নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা। সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর, ভ্যাট ও কর অব্যাহতি সুবিধা না থাকা, সংকুচিত ভিত্তিমূল্য উঠিয়ে দেয়া এবং প্রায় ১২শ’ আমদানি পণ্য থেকে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা- অন্যতম এই ৪টি পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে নতুন আইনে। আর এতে রাজস্ব আয়ে উল্লম্ফন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। এ জন্য গতানুগতিক প্রবৃদ্ধি ডিঙ্গিয়ে নতুন বছরে ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয় ৩৭ শতাংশেরও বেশি। এ লক্ষ্য মাথায় রেখেই ভ্যাট খাতে আয় ধরা হয় ৭৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্বশীল সূত্র বুধবার এ আশংকার কথা নিশ্চিত করে জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভ্যাট, আয়কর ও আমদানি শুল্ক মিলিয়ে রাজস্ব আদায়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে। যেখানে চলতি বছরের আদায়ের প্রবৃদ্ধি মাত্র ১৮ শতাংশ। আমাদের আশা ছিল ভ্যাট খাতে নতুন আইনে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। কিন্তু এখন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হলে রাজস্ব আদায়ে বড় বিপর্যয় হবে। এটা কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলেও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী ছিল। নতুন আইনে সরকার অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের কথা বলেছিল। কিন্তু সেটি এখন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ আমাদের দেশে ভ্যাট আদায়ে অ্যাকাউন্ট-ভিত্তিক সিস্টেম নেই। যে কারণে ভ্যাটের সব টাকা সরকার পায় না। তার মতে, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকার অর্থায়নে সমস্যায় পড়বে। এতে ঘাটতি বেড়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে বিআইডিএসের ঊর্ধ্বতন গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখত বলেন, নতুন বছরের প্রাক্কলিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব। বিশাল ঘাটতি হলে ব্যাংক ঋণের নির্ভরশীলতা বাড়বে। তখন সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে।

উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা : আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঘাটতি বাজেট ধরা হচ্ছে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, শতকরা হারে যা জিডিপির ৫ ভাগ। বরাবরের মতো এবারও অভ্যন্তরীণ উৎস এবং বিদেশী সাহায্য থেকে ঘাটতি মেটানো হবে। কিন্তু ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্তে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এনবিআরের আশংকা, ভ্যাট আইনের কারণে কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় কমে যাবে। এ ছাড়া চলতি বছরসহ গত কয়েক বছরের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হিসাব করলে নতুন বছরে রাজস্ব ঘাটতি ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। আর তা হলে সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশংকা করছেন।

আগামী বাজেটে এনবিআর-নন এনবিআর মিলে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হচ্ছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর ছাড়াও বিভিন্ন খাতে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়িয়ে বিশাল অংকের এ অর্থ আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এনবিআরের মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে তা নির্ধারণ করা হয় দেড় লাখ কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরলে নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৬ শতাংশ। যেখানে চলতি বছর রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে প্রায় ১৮ শতাংশ। উচ্চ প্রবৃদ্ধির এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন এনবিআরের নীতিনির্ধারকরা।

চলতি অর্থবছরে ভ্যাট আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। পরে ঘাটতির মুখে তা সংশোধন করে ৫৪ হাজার ৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। আগামী বছর ভ্যাট থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। যা চলতি বছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি।

প্যাকেজ ভ্যাট জটিলতা : ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা এলাকাভেদে নির্ধারিত অংকের প্যাকেজ ভ্যাট দিয়ে থাকেন। এ খাত থেকে প্রতিবছর গড়ে ১০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আসে। বর্তমানে আড়াই লাখ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন আছে। এর মধ্যে মাত্র ৬৮ হাজার প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ভ্যাট দেয়।
নতুন আইনে প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা বাতিল করে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারে ভ্যাট অব্যাহতির সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন আইনে প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিতে এফবিসিসিআইসহ সারা দেশের ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে নতুন বাজেটে প্যাকেজ ভ্যাটের হার প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। আগামী অর্থবছরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্যাকেজ ভ্যাটের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব এলাকায় এর পরিমাণ ১৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্য সব সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্যাকেজ ভ্যাট ১০ হাজার টাকা এবং জেলা শহরের পৌর এলাকায় ৭ হাজার ২০০ টাকা। এ দুটি এলাকায়ও প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকায় ৩ হাজার ২০০ টাকার পরিবর্তে ৬ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘৬ বা সাড়ে ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে প্রবৃদ্ধির উচ্চতর সোপানে আমরা পৌঁছেছি। আগামী বাজেটে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার রাজস্ব আয়ে ব্যাপক জাম্প দেয়া হবে। সে জন্য এনবিআরকে আরও কঠোরভাবে কাজ করতে বলেছি।’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে