Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০২-২০১৬

ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে উচ্ছেদ গঙ্গাভাঙনে উদ্বাস্তু ৩০০ পরিবার?‌

অভিজিৎ চৌধুরি


ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে উচ্ছেদ গঙ্গাভাঙনে উদ্বাস্তু ৩০০ পরিবার?‌

কলকাতা, ০২ জুন- ফারাক্কা ব্যারেজের জমি থেকে গঙ্গাভাঙনে উদ্বাস্তু ৩০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। বুধবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ উদ্বাস্তু পরিবারগুলি আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। যদিও ‌ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যারেজের আওতাভুক্ত ৫৮ একর জমি বি এস এফ–‌কে দেওয়া হয়েছে। কালিয়াচক–৩ ব্লকের জামুনপাড়া এলাকায় বি এস এফের একটি নতুন হেড কোয়ার্টার তৈরি হবে। তবে ফারাক্কা ব্যারেজের জমিতে বসবাসকারীরা জবরদখল করেই ছিল। সেজন্যই ওই সব পরিবারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এদিকে, ফারাক্কা ব্যারেজের এমন ভূমিকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে গঙ্গাভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে। তঁারা পুর্নবাসনের দাবিতে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। উদ্বাস্তু পরিবারগুলির বক্তব্য, ৩০ বছর ধরে আমরা জামুনপাড়া এলাকায় বসবাস করে আসছি। এখন হঠাৎ করে আমাদের উচ্ছেদ করে দেওয়া হচ্ছে। 

প্রশাসন ও ফারাক্কা ব্যারেজ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াচক–৩ ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রামপঞ্চায়েতের গঙ্গানদী সংলগ্ন জামুনপাড়া এলাকায় ৩০ বছর ধরে প্রায় ৩০০ উদ্বাস্তু পরিবার বসবাস করে আসছেন। ওই জামুনপাড়া এলাকায় ‌ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ বি এস এফের নতুন একটি হেড কোয়ার্টার তৈরির জন্য ৫৮ একর জমি দিয়েছে। সেই জমিটিতে মাপজোক শুরু হয়েছে। খুঁটি পুঁতে সীমানা ঘেরার কাজও চলছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মহিবুর শেখ, আসগর আলি, বিজয় পাল, রশিদ শেখ, কুন্তল মণ্ডলরা বলেন, আমরা আগে লক্ষ্মী‌পুর গ্রামপঞ্চায়েতের জিয়ারতটোলা, আতারটোলা, মাঝিটোলা, পুরাণটোলা, গান্ধারুটোলা গ্রামগুলিতে এই ৩০০ পরিবার বসবাস করত। কিন্তু ১৯৯১ সালের বন্যা আর গঙ্গার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে পরবর্তীতে জামুনপাড়া এলাকায় চলে আসি এবং সেখানেই বসবাস শুরু করি। দীর্ঘ ৩০ বছর বসবাস করার পর এখন আমাদের এখান থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হচ্ছে।

কারণ, এই এলাকায় নাকি এখন বি এস এফের হেড কোয়ার্টার্স তৈরি হবে। তা হলে আমরা এখন যাব কোথায়?‌ ‌ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে আমরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করব। কালিয়াচক–৩ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সহ–সভাপতি মহম্মদ সোনামুল হক বলেন, ‌ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩০০ পরিবারকে আশ্রয়হীন করে দিয়েছে। এখন এরা ভিটেমাটি হারিয়ে কোথায় যাবে। আমরা চাই গঙ্গাভাঙনে উদ্বাস্তু এই পরিবারগুলি আগে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করুন ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। নইলে ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই পরিবারগুলিকে পাশে নিয়েই বৃহত্তর আন্দোলন পথে যাব আমরা। এদিকে, বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রের বি জে পি–‌র বিধায়ক স্বাধীন সরকার জানিয়েছেন, জামুনপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনে উদ্বাস্তু প্রায় ৩০০ পরিবার বসবাস করতেন। আমি এলাকার বিধায়ক হিসেবে অবশ্য ওঁদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা দেখব। তবে আমি সরকারিভাবে উচ্ছেদ করার বিষয়ে কিছু জানি না। 

জেলাশাসক শরদ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন গত দু’‌বছরের মধ্যে বি এস এফ–‌কে কোনও জায়গা দেয়নি। তাই এ ব্যাপারে বিশেষ কিছু বলতে পারব না। ফারাক্কা ব্যারেজ তাদের একটি জায়গা বি এস এফ–‌কে দিয়েছে বলে শুনেছি। যেহেতু এটা মালদা জেলার মধ্যে পড়ে তাই এ নিয়ে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় সেদিকে অবশ্যই নজর থাকবে। ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার সৌমিত্রকুমার হালদার জানিয়েছেন, বি এস এফের হেড কোয়ার্টার্স তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ৫৮ একর জমি দেওয়া হয়েছে। জামুনপাড়া এলাকায় ফরাক্কা ব্যারেজের জমিতে এতদিন ধরে কারা বসবাস করছিলেন তা বলতে পারব না। পাশাপাশি ওঁদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়েও কিছু বলতে পারব না। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ বি এস এফ–‌কে জমি দিয়েছে।‌‌

আর/১২:১৪/০২ জুন

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে