Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০১-২০১৬

টরন্টোয় সংস্কৃতি সংস্থার আর্ট উৎসব

আহমেদ হোসেন


টরন্টোয় সংস্কৃতি সংস্থার আর্ট উৎসব

টরন্টো, ০১ জুন- টরন্টোর আকাশ ছিল সেদিন নীলে নীল। সাদা মেঘ উড়ে উড়ে ভেসে ভেসে খেলা করছিল তার ওপর। রোদ্দুরে ভরপুর চারিদিক। আলোয় আলোয় পরিমল দোল খায়, উষ্ণতা বাইরে, উষ্ণতা মনের ভেতরে। অনেক দিন বাদে যেন শুধুই পাঞ্জাবিটা গায়ে দিতে পারবে অমিত। লাবণ্যর মেজাজও ফুরফুরে। কখনো গলা খুলে কখনো গুনগুনিয়ে গাইছে, দেখ সখা, ভুল করে ভালোবেসে না...। আশা ছেড়ে ভেসে যাই, যা হওয়ার হবে তাই। আজ প্রিয় শিল্পীর ইমনের গান শুনবে সামনের সারিতে বসে। লাল শাড়িটা নেড়েচেড়ে দেখছে সে দর্পণে। অনুপ ভাঁজ ভেঙে ধুতি পরে তৈরি। মনীশ পরবে দামি একটি কোর্তা। এইটুকু মেয়ে শর্মীকে জীবনে প্রথম শাড়ি পরাচ্ছে মা আয়শা। সবার লক্ষ্য যথাসময়ে অনুষ্ঠানস্থলে সেজে গুঁজে পৌঁছে যাওয়া। আজ আর কাল যে টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা আয়োজিত বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব ২০১৬।


মে মাসের ২১ ও ২২ তারিখে অত্যন্ত সফলভাবে আনন্দঘন পরিবেশে হলভর্তি উপচেপড়া মানুষের উপস্থিতিতে দর্শক শ্রোতার মন জয় করা নানান অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দুই দিনব্যাপী টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা আয়োজিত ১১তম বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব ২০১৬ টরন্টোতে শেষ হলো। প্রতিবারের মতো এবারও অনুষ্ঠানে আয়োজনে ছিল মনকাড়া হৃদয় ছোঁয়া নৃত্য, গান, নাটক, বাউল গান, আধুনিক গান, ছোটদের উপস্থাপনা, সন্তুর আর তবলার বাজনা। সময় ধরে ধরে, যার যার অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে। কোনো ব্যত্যয় নেই। নেই কোনো এলোমেলো ভাব। সব পেশাজীবী দৃষ্টিভঙ্গিতে করা। গোছানো পরিপাটি।


ভালোবাসা কারে কয়
ধারাবাহিক উৎসবের কি হয়? প্রথম বছর যেভাবে শুরুটা হয় দেখা যায় পরের বছর, হয় সেটা আকারে প্রকারে আড়ম্বরে বড় হয় আর নয়তো আয়োজকদের উদ্দীপনায় ভাটা কিংবা নানাবিধ দলাদলির জটিলতায় উৎসবের রং ফিকে হয়ে আসা। টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থার (টিএসএস) এই বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব দিনে দিনে ফিকে না হয়ে উজ্জ্বল হচ্ছে। রাজকুমারের যোগ্য নেতৃত্বে একটি চৌকস, দক্ষ অভিজ্ঞ দল নিরলস পরিশ্রমের কারণে এমন একটি উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হয় বলে দর্শক-শ্রোতা-শুভানুধ্যায়ীদের অভিমত।

কেমন করে শুরুটা
২০০৪ সালে কয়েকজন আড্ডাবাজ বাঙালির চিন্তার ফসল টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থার এই বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব। কফির আড্ডায় নস্টালজিক মনের গান-কবিতা-নৃত্যকে তুলে এনে এই প্রবাসে উপস্থাপন করা আর প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাই লক্ষ্য তাদের। তাইতো এখন বৃহত্তর টরন্টোর বাঙালিদের একটি অন্যতম সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থার এই বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব। ২০০৪ সালে দীপক অধিকারী, ২০০৬ সালে কবি ব্যানার্জি আর ২০১১ অরুণ চক্রবর্তীর হাত ধরে ২০১৪, ১৫ ও ১৬-তে অরুণ (রাজকুমার) বিশ্বাসের যোগ্য নেতৃত্বে দক্ষ অভিজ্ঞ দল নিরলস পরিশ্রমের কারণে এমন একটি উৎসব হচ্ছে ফি বছর।

প্রজন্মের প্রাধান্য
টিএসএসের লক্ষ্য, এখানে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে সুকুমারবৃত্তির চর্চায় উৎসাহ প্রদান ও প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে বাঙালিত্বের, মূল চেতনার এবং ঐতিহ্যের অধিকার সবার ভেতর ধারণ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের চেষ্টা। সে লক্ষ্যে প্রথম থেকেই একের পর এক শিশু-কিশোরদের প্রযোজনা আনছে মঞ্চে তারা। এবার তারা মঞ্চে আনে ঋত্বিক দত্তর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ফাগুনে আগুন, মিহির দাসের নির্দেশনায় শল্য চিকিৎসা। খুদে শিল্পীদের মনোজ্ঞ আয়োজন।

প্রথম দিন
প্রথম দিনে পারমিতা রায়ের নির্দেশনায় সুর ও ছন্দের ঐকতান শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংক্ষিপ্ত স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন চলতি সংগঠন সভাপতি শ্রীমান অরুণাংসু (রাজকুমার) বিশ্বাস। পরে মিহির দাসের নির্দেশনায় শল্য চিকিৎসা, দেবাশীষ গাঙ্গুলি নির্দেশিত স্পন্দন মঞ্চস্থ হয়।
প্রথম দিনে আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পীদের মধ্যে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট জনপ্রিয় বাউল শিল্পী সফি মণ্ডল। বাউলের দর্শনে সুরে-কথায় নিজের চেনা গল্প শুনিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মন জয় করেন সফি মণ্ডল। ইতিমধ্যে লালনের গান করে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এই শিল্পী দেশে বিদেশে। শিল্পীর সঙ্গে সংগত করেন তবলায় অশোক দত্ত, কিবোর্ডে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক ও বাঁশিতে দীপঙ্কর গাঙ্গুলি।
আধুনিক গান পরিবেশন করেন অনিন্দ্য চ্যাটার্জি। জনপ্রিয় ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দুর মুখ্য কণ্ঠশিল্পী অনিন্দ্য একের পর এক শ্রোতানন্দিত গান পরিবেশন করেন। ২০১৫ সালে অনিন্দ্য ওপেন্টি বায়োস্কোপ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন ছবিটি দেখানো হয়।
প্রথম দিনের শেষান্তে মঞ্চে আসেন সোমলতা। পুরোনো দিনের বাংলা গান থেকে শুরু করে হাল আমলের গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন সোমলতা সকলকে মধ্যরাত অবধি।

দ্বিতীয় দিন
দ্বিতীয় দিনে ঋত্বিক দত্তর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ফাগুনে আগুন। একটি সুন্দর আলেখ্য যা দর্শক শ্রোতার হৃদয় জয় করেছে। এরপর মঞ্চে আসে নাটক গুপি, বাঘা এবং। নির্দেশনায় ছিলেন প্রদীপ্ত চ্যাটার্জি।
দ্বিতীয় দিনে আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পীদের মধ্যে যুগল যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করেন পণ্ডিত তরুণ ব্যানার্জি ও হিন্দোল মজুমদার। সন্তুর আর তবলার বাজনায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শ্রোতা।

এলেম...দেখলেম...জয় করলাম
অসাধারণ কণ্ঠের অধিকারী ইমন চক্রবর্তী টরন্টোতে প্রথমবার এসেছেন। তুখোড় পারফর্মার। হৃদয় দিয়ে গান করেন। হাত চলে তার তালে তালে। মুখ হাসে তার ভাঁজে ভাঁজে। জ্বলজ্বলে উপস্থাপনা। কী রবির গান কী লোকগীতি সব গানেই সুর খেলে তার মুনশিয়ানায়। ভূপেনের গান আর প্রেমের কোলাজটি অনেক দিন মনে রাখবেন টরন্টোর দর্শক-শ্রোতা। ইমন তার প্রথম চলচ্চিত্রে গাওয়া প্রাক্তন ছবি থেকে একটি গান শুনিয়ে হলে গিয়ে ছবিটি দেখার আমন্ত্রণ জানান।
দ্বিতীয় দিনে সবশেষে মঞ্চে আসেন ইন্ডিয়ান আইডল খ্যাত তারকা ঋক্‌ বসু। ঋক্‌ পুরোনো দিনের ও হাল আমলের বাংলা হিন্দি গান গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন সকলকে অনুষ্ঠানের যবনিকাপাত পর্যন্ত।

লক্ষ্মী যারা
টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থার এই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দর্শক শ্রোতারা যেমন টিকিট কেটে সাহায্য করেছেন ঠিক তেমনি বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন দিয়ে, শুভানুধ্যায়ী ও পৃষ্ঠপোষকেরা অর্থ অনুদান দিয়ে আর শিল্পী কলাকুশলীরা শ্রম-সময়-মেধা দিয়ে উৎসবকে করেছেন সার্থক-প্রাণবন্ত-উচ্ছল-রঙিন।
জয়তু টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থা (টিএসএস), জয়তু বাঙালি কৃষ্টি আর মেধা।

আর/১০:১৪/০১ জুন

কানাডা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে