Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০১-২০১৬

বিলুপ্তির পথে কলুর ঘানি

বিলুপ্তির পথে কলুর ঘানি

রাজশাহী, ০১ জুন- চোখে মালই আটকানো গরু ঘুরেই চলেছে দিনভর। ঘানি ঘুরছে, সরিষা ভাঙছে আর ফোঁটে ফোঁটে তেল জমা হচ্ছে পাত্রে। চোখের সামনে তৈরি হয় খাঁটি তেল। এ ঝাঁঝালো তেলে চোখে জল আসে। আগে প্রায় গ্রামে কলুবাড়িতে তেল তৈরির এমন দৃশ্য চোখে পড়লেও এখন মেলা ভার। কালের অন্ধকারে হারিয়ে গেছে খুলুর ঘানি।

মাত্র কয়েক দশক আগেই বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের খাওয়ার তেলের প্রধান ভরসা ছিল কলুর ঘানির তেল। কাঠের তৈরি ঘানির উপর সরিষা দিতেন খুলুরা। জাঁতা ঘোরার মতো চোখে মাইল লাগানো গরু জোয়াল নিয়ে ঘুরতো। ঘানি পিষে তৈরি হতো খাঁটি সরিষার তেল। এমন দৃশ্য এখন অতীত। 

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত তেল বাজার দখল করে নিয়েছে। সহজেই হাতের নাগালে পাওয়াই সে ঘানিভাঙা খাঁটি সরিষার তেলের কথা ক্রেতারা ভুলে যেতে বসেছে।

২০ থেকে ৩০ বছর আগে এ পেশায় অনেকের জীবন নির্বাহ করলেও প্রতিযোগিতার বাজারে এখন তারা পিছিয়ে পড়েছে। সে কারণে বেশিরভাগ কলুই তাদের পেশা পরিবর্তন করে ফেলেছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার রাজরামপুরের তেলি পাড়া, গোয়াল পাড়া, আমনুরার শিমল তলার ইসলামপুর ও ভোলাহাটের উলা ডাঙ্গা গ্রামে এখনো কলুরা ঘানি থেকে তেল উৎপাদন করে চলেছে। এ দৃশ্য অন্য এলাকায় বিরল।

রাজরামপুরের তেলি পাড়া ও গোয়াল পাড়াই ১২ থেকে ১৫টি পরিবার সবাই তাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে গরুবাহী ঘানি এখনো চালিয়ে আসছে। ঘানি তেলে তৈরি করে তারা আশেপাশের বিভিন্ন হাটে বিক্রি করে থাকে। এখনো অনেক এলাকায় ঘানির তেলের অন্য ধরনের কদর আছে।
  
রাজশাহী তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা হাটে নিয়মিত ঘানির তেল বিক্রি করতে আসেন রাজরামপুরের তেলি পাড়ার কলু পঙ্কজ সাহা (৭০)। তিনি জানান, ১২ বছর বয়সে বাবা মারা যায়। সে সময় বাবার রেখে যাওয়া ঘানি চালিয়েই সংসারের হাল ধরেন তিনি। এ পেশা আর ছাড়তে পারেননি। 

একই এলাকার গোয়াল পাড়ার দুইভাই কলু রবু ও সবু। তারা জানান, বর্তমান সময়ে অনেক কোম্পানি তেল উৎপাদন করছে। খুব সহজেই সরিষার তেল হাতের কাছে পেয়ে যায় মানুষ। দামেও কম পাচ্ছে। সে কারণে তাদের মতো কলুরা দিনে দিনে অসহায় হয়ে পড়ছে।

তারা আরো জানান, ঘানির মাধ্যেমে দিনে ২০ থেকে ২৫ কেজি সরিষা ভাঙা যায়। এর পেছনে সময়ও ব্যায় হয় প্রচুর। কষ্টের তুলনায় লাভ কম। ঘানির তেল বাজারে প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়। অন্য উপায়ে উৎপাদিত তেল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে বাজারে পাওয়া যায়। সেজন্য ক্রেতারা সেই দিকেই ঝুঁকছে।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাটের উলাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর সাত্তার জানান, তার দুইটি ঘানি ছিল। কিন্তু প্রতিযোগিতার যুগে এসে তার দুইটি ঘানি বন্ধ হয়ে গেছে। পরে তিনি মেশিন মিল বসিয়েছেন। গরুবাহী দুইটি ঘানি দীর্ঘদিন ধরে ছিল। ঘানির তেল দামে বেশি হওয়াই ক্রেতা কমে গেছে। তাই তিনি একটি মেশিন (মিল) বসিয়েছেন।

আর/১৭:০৪/০১ জুন

রাজশাহী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে