Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-০১-২০১৬

বছরে প্রায় ৯ কোটি ডলার যাচ্ছে বিদেশে

বছরে প্রায় ৯ কোটি ডলার যাচ্ছে বিদেশে

ঢাকা, ০১ জুন- বেসরকারি সাহায্য সংস্থা অ্যাকশন এইড বলেছে, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও সরকারকে প্রভাবিত করে ‘নিয়ন্ত্রণমূলক অপচুক্তি’র মাধ্যমে দেশ থেকে বছরে সাড়ে ৮ কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি কোম্পানিগুলো।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বাজেট বিষয়ক এক আলোচনা সভায় এই হিসাব তুলে ধরেন বেসরকারি সাহায্য সংস্থা অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের পরিচালক আজগর আলী সাবরি।

সভায় ‘অপচুক্তি: ব্যাপক রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলো’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনের ফলাফল উপস্থাপন করে।

আজগর আলী সাবরি বলেন, “মূলত রাজনীতিক ও সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক অপচুক্তি করিয়ে এই আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে।”

তিনি বলেন, পাঁচশরও বেশি আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০১৩ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর ৩২টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদিত হয়, যার মধ্যে ১৮টিই হচ্ছে “অপচুক্তি। “এসব চুক্তির একটি ধারার কারণে বাংলাদেশে ব্যবসারত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো প্রতিবছর ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৭০০ কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে দেশ থেকে। এই টাকা দিয়ে প্রতিবছর ৩৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।”

অপচুক্তির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “১৮টি দেশের কোম্পানির সঙ্গে কঠিন শর্তে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়। ওইসব চুক্তিতে ‘ট্যাক্স এগ্রিমেন্টের ডিভিডেন্ট ক্লজের’ দুর্বলতার কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলো এই বিপুল কর ফাঁকি দিতে পারছে।”

সভায় অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কর্পোরেট ট্যাক্সের মতো প্রত্যক্ষ কর আদায়ে আমরা খুব বেশি চতুর ও দক্ষ হতে পারিনি। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতেও আমাদের সুযোগ দিতে হয়েছে।

সভায় অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, “আমাদের সক্ষমতার অভাবে করপোরেটরা বেশি সুযোগ নিচ্ছে। আমরা বলছি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তবে সেটা করতে গিয়ে আমরা যদি তাদের কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ করে দেই, সেটা যৌক্তিক নয়। কর বাড়ানোর মধ্য দিয়ে আমাদের গরিব মানুষের সুবিধা বাড়াতে হবে।”

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট কলামিষ্ট জনাব ফরহাদ মজহার বলেন, বর্তমান সরকার যেহেতু বৈধভাবে নির্বাচিত সরকার নয় তাই তার সকল চুক্তিই অবৈধ। তাই অবৈধ সরকারও মাফিয়া চক্র মিলে দেশের অর্থনীতিকে লুটে পুটে খাচ্ছে। এর হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলির মত রক্তক্ষয়ী আন্দোলন দরকার নিজের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন।

তিনিও মনে করেন এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

গত শনিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ওই আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সদস্য অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা ও বাংলাদেশ বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী ফেরদৌস আরা বক্তব্য দেন।

সভায় করপোরেট কর ফাঁকি কমাতে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বিদেশের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং সরকারসহ সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন বক্তারা।

আর/১২:০৪/০১ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে