Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-৩১-২০১৬

দাসত্বের জীবনযাপন করে দেশের ১৫ লাখ মানুষ

দাসত্বের জীবনযাপন করে দেশের ১৫ লাখ মানুষ

ক্যানবেরা, ৩১ মে- সারা বিশ্বে ৪ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ ‘আধুনিক দাস’ হিসেবে জীবনযাপন করছে, যার মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৩০০ জন।অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন মঙ্গলবার তাদের গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্স (বিশ্ব দাসত্ব সূচক) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে জোর করে বিয়ে দেয়ার চেয়ে জোর করে কর্মে নিয়োগ অধিক মাত্রায় বিদ্যমান। ৮০ শতাংশ শ্রমিককে শ্রমে বাধ্য করা হয় বলেও উঠে আসে তাদের সূচকে। এর মধ্যে উৎপাদন শিল্পে ২৫ শতাংশ, প্রচলিত শ্রমমূলক কাজে ২৫ শতাংশ, নির্মাণ শিল্পে ২৩ শতাংশ, ওষুধ কারখানায় ১৫ শতাংশ এবং কৃষিতে ১২ শতাংশ শ্রমিক কর্মরত।

বাধ্যতামূলক শ্রমে বেশি ভুক্তভোগী পুরুষরা। তাদের হার ৮২ শতাংশ। একই ক্ষেত্রে নারীদের হার ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের জরিপে বলা হয়, যারা কারখানা, খনি বা খামারে নামমাত্র মজুরিতে দাসের মতো শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছেন, দালালের খপ্পরে পড়ে বাধ্য হচ্ছেন যৌনকর্মীর জীবন যাপনে, এ যুগেও যাদের ঋণ শোধ করতে না পেরে দাসের জীবন কাটাতে হচ্ছে, অথবা বাবা-মায়ের ঋণের দায় মাথায় নিয়ে যাদের জন্ম হচ্ছে কৃতদাসের মতো। মূলত এ ধরনের লোকদের সংখ্যা হিসাব করেই সূচকটি তৈরি করা হয়েছে।


১৬৭টি দেশের মধ্যে করা ওই জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ অবস্থানে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মোট জনসংখ্যার অনুপাতে এ অবস্থান ১০ নম্বরে। ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের ২০১৪ সালের সমীক্ষা অনুসারে, ৩ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ ‘দাসের জীবন যাপনে’ বাধ্য হচ্ছেন। দুই বছর পরের নতুন এই জরিপে দেখা গেল, সেই কাতারে যুক্ত হয়েছে এক কোটি মানুষ।

প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়, আধুনিক এই দাসদের দুই-তৃতীয়াংশই এশিয়ার বাসিন্দা। এর মধ্যে ভারতে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি- ১ কোটি ৮৩ লাখ। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন এই তালিকায় আছে দ্বিতীয় অবস্থানে। দেশটিতে ৩৪ লাখ মানুষ এ ধরনের জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। 

তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থানে ৩ এ। দেশটিতে ‘দাসের জীবনে’ বাধ্য হচ্ছেন ২১ লাখ মানুষ। মোট জনসংখ্যার অনুপাতে বিচার করলে সবচেয়ে খারাপ চিত্র পাওয়া যায় উত্তর কোরিয়ায়। সেখানে প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন এই দুর্দশার শিকার।

ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এন্ড্রু ফরেস্ট বলেন, আগের জরিপের তুলনায় এবার তথ্য সংগ্রহের হার ভালো হওয়ায় আরো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে। এ কারণে ‘দাসের জীবন যাপনে’ বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে বলে মনে হতে পারে। বিভিন্ন স্থানে মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং বিশ্বজুড়ে দেশান্তর (মাইগ্রেশন) হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের তুলনায় বেশি মানুষ আধুনিক দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

এফ/২২:৪৫/৩১ মে

অস্ট্রেলিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে