Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-৩১-২০১৬

হিটলারের গোপন বার্তার মেশিনের সন্ধান!

হিটলারের গোপন বার্তার মেশিনের সন্ধান!
এসব লরেঞ্জ মেশিনের মাধ্যমে হিটলার তার সেনাপতিদেরকে কোড করা গোপন বার্তা প্রেরণ করতেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের সামরিক তথ্য আদান প্রদানের একটি মেশিনের সন্ধান মিলেছে। মেশিনটির নাম লরেঞ্জ মেশিন। এটির মাধ্যমে কোড করা তথ্য আদান প্রদান করা হতো। এটি খুব জটিল একটি মেশিন। সম্প্রতি মেশিনটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় ই-বে ই-কমার্স সাইটে। সেখানে মেশিনটির দাম ধরা হয় মাত্র ৯.৫০ পাউন্ড।


হিটলার

বিজ্ঞাপনটি চোখে পড়ে ইংল্যান্ডের দি ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ কম্পিউটিং-এর স্বেচ্ছাসেবক জন ওয়েট্টারের। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান ঠিকানা অনুযায়ী। দেরি না করে মেশিনটি সংগ্রহ করেন জন।

জন ওয়েট্টার বলেন, ‘আমরা ই-বে সাইট মনিটরিং করছিলাম। টেলিগ্রাফ মেশিন হিসেবে দেওয়া একটি বিজ্ঞাপন আমার চোখে পড়ে। ইসেক্স এর সাউদান্ড–ওন-সির ঠিকানা দেওয়া ছিল। আমি সাউদান্ড-ওন-সিতে গিয়ে দেখতে পাই, মেশিনটি ময়লার মধ্যে পড়ে আছে। আমরা বিক্রেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে, জিজ্ঞেস করি এটির দাম কত? তিনি বলেন ৯.৫০ পাউন্ড। আমরা তাকে ১০ পাউন্ড দিয়ে মেশিনটি নিয়ে আসি।’


ই-বে ই-কমার্স সাইটে মাত্র ৯.৫০ পাউন্ডে এই লরেঞ্জ মেশিনটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।

স্বেচ্ছাসেবকরা টেলিপ্রিন্টারটি ইসেক্স থেকে ন্যাশনাল মিউজিয়ামে নিয়ে যান। সেখানে খুঁটিয়ে দেখার সময় তারা মেশিনটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জার্মান সেনাবাহিনীর স্ট্যাম্প মারা দেখেন। সম্প্রতি নরওয়ে থেকে ধার করে আনা আরেকটি লরেঞ্জ এসজে-৪২ টাইপ রাইটারের স্ট্যাম্পের সঙ্গে ওিই স্ট্যাম্পের মিল রয়েছে। নরওয়েতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ২০০টি লরেঞ্জ মেশিন রয়েছে।

যুদ্ধের গোপন কোনো বার্তা কাউকে পাঠাতে হলে, সেটি সরাসরি টেলিপ্রিন্টারে প্রবেশ করানো হতো। তার সঙ্গে ১২ চাকার একটি মেশিন সংযুক্ত ছিল। সেই মেশিনের মধ্যে গিয়ে বার্তাটি কোডে পরিণত হতো। যন্ত্রটির প্রধান অংশটি হারিয়ে গেছে। সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।


নরওয়ে থেকে ধার করে আনা লরেঞ্জ মেশিন।

যুদ্ধের সময় কোড আদান প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হতো এমন চারটি মেশিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। নরওয়েতে জার্মান সৈন্যরা ১১৩৭ সিরিয়াল নাম্বারের একটি মেশিন ব্যবহার করেছিল। যুদ্ধে পরাজয় না হওয়া পর্যন্ত জার্মানির দখলে ছিল নরওয়ে। ১১৩৭ সিলিয়াল নাম্বারের মেশিনটি ১৯৪৫ সালের ৮ মে আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত বার্তা গ্রহণ করেছিল।  

১৯৪৪ সালে লরেঞ্জ মেশিন চালাতেন ইরেন ডিক্সন। তিনি বলেন, ‘আমি খুব উচ্ছ্বসিত, কারণ দি ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ কম্পিউটিং আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে লরেঞ্জ সম্পর্কে ভালে ব্যাখা দিয়েছে।’


বার চাকার এই অংশের মধ্যে বার্তাটি কোডে পরিণত হতো।

জাদুঘরের চেয়ারম্যান অ্যানডাই ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা নরওয়ের আর্মড ফোর্স মিউজিয়ামের কাছে কৃতজ্ঞ। এজন্য যে, তারা একটি মেশিন আমাদের ধার দিয়েছিল।’

অনেকেই ইনিগমা মেশিন সম্পর্কে জানেন। কিন্তু লরেঞ্জ মেশিন কৌশলগত যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হতো। ইনিগমা মেশিনের চেয়ে লরেঞ্জ মেশিন বেশি জটিল। যুদ্ধের পরও লরেঞ্জ ব্যবহারের জটিল পদ্ধতি রয়েই গেছে।

এফ/১৬:১৫/৩১মে

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে